ইসলামই আমাদের জীবনব্যবস্থা

রাশেদুল ইসলাম

মহামহিম সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তার বিশেষ অনুগ্রহে আমাদের জন্য এক শুভ শুভ্র ও সুন্দর পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন। যার বিপুল রূপ-সৌন্দর্য, নিপুণ কারুকার্য ও নিখুঁত শৈল্পিক আলপনা দেখলে আল্লাহর সীমাহীন দয়া ও অপার ক্ষমতার পরিচয় মেলে। আমাদের বসবাসের জন্য প্রয়োজনীয় যাবতীয় জীবন সামগ্রীর এক অফুরন্ত ভান্ডার ছড়িয়ে দিয়েছেন পৃথিবীর বুকে। বিশাল পৃথিবীর বিস্তিৃত ও গভীরতার মাঝে উপ্ত রেখেছেন অসংখ্য ধন-সম্পদ ও ভোগ সম্ভার। একটু গভীরভাবে দেখলে মনে হয়, এই ধরণীর সৃষ্টি, আকৃতি ও অবিরাম চলনধারা সবকিছু যেন মানবজাতির প্রকৃতিজাত ও সঙ্গত সব প্রয়োজন পূরণের কাজেই সর্বদা নিমজ্জিত রয়েছে।

মহান আল্লাহর দয়া ও করুণার দ্বিতীয় আরেকটি উৎকৃষ্ট নমুনা হল, মানব জাতিকে মানবতার কাতারে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য ইসলাম নামের এমন এক কল্যাণমুখী ও আসমানী জীবন ব্যবস্থা ও শিক্ষানীতি দিয়েছেন যার প্রতিফলনে আত্মিক পরিছন্নতা, বিশ্বাসের শুদ্ধি ও বাহ্য জীবনের পূর্ণাঙ্গতা অর্জিত হয় এবং উভয়বিদ জগতে বয়ে আনে সর্বোচ্চ সফলতা, মুক্তি ও অনাবিল আনন্দ।

মহান আল্লাহ প্রদত্ত ইসলামী জীবন ও শিক্ষা ব্যবস্থা মানুষের স্বভাবজাত জীবনাচরণের সাথে সম্পূর্ণ সঙ্গতিপূর্ণ। ন্যায় পরায়ণতা, শান্তি প্রতিষ্ঠা ও পরস্পরের মধ্যে নিরাপত্তা প্রদান ইত্যাদি মানুষের স্বভাবজাত প্রবণতা। তাই ইসলামী জীবন আদর্শ ও শিক্ষা নীতিতে আত্মশুদ্ধি, চরিত্র সংশোধন, অহংকার মুক্ততা ও বিনয়ী জীবনাচরণের অনুশীলনের মাধ্যমে মানুষকে তার স্বভাবজাত প্রবনতার উপর অটল রাখে। মানুষের স্বভাবজাত ও আন্তরিক শুভবৃত্তি, চিন্তা-চেতনা, আবেগ অনুভূতি ও সত্য সন্ধানের প্রতি উচ্ছল উদ্দীপনাকে বিকৃতি সাধন এর হাত থেকে রক্ষা করে। আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে হৃদয়কে ক্লেদ মুক্ত করে। জ্ঞান ও প্রজ্ঞা দানের মাধ্যমে চিন্তাশক্তিকে প্রখর ও বাস্তবমুখী করে। অনুশাসন ও বিধি নিষেধ এর মাধ্যমে অসঙ্গত আবেগ-অনুভূতিকে রাখে নিয়ন্ত্রিত ও সত্যের প্রতি করে উৎসুক্য। কেননা নিয়ন্ত্রিত জীবনের বাহিরে অসঙ্গত আবেগ ও উদারতা যে মুক্ত চিন্তা ও স্বাধীনতার জন্ম দেয় সেখানে মানবতার পাশে মূর্তিমান হয়ে উঠে আরেক পাশবিকতা। অতি উদারতা ও সময়ের সাথে সঙ্গতি রক্ষার নামে মানবিক গণ্ডিকে অতিক্রম করার অনুমতি ইসলামে নেই। তাই দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলতে পারি ইসলামের জীবন আদর্শ ও শিক্ষানীতিকে মনে প্রাণে ও জীবনাচরণের গ্রহণ করে নেওয়াই উৎকৃষ্ট মানবতার একমাত্র মানদন্ড হিসেবে বিবেচিত হয়।

উল্লেখ্য যে প্রজ্ঞাময় মহান রব্বুল আলামীন আমাদের উপর এমন কোন জীবন আদর্শ ও শিক্ষা নীতি চাপিয়ে দেননি যার সুফল ও শুভ পরিণতি শুধু কাগজে-কলমেই শোভা পায়। বাস্তব জীবনে তার কোন কার্যকারিতা নেই বা শুধু কাল্পনিক সুখস্বপ্নে বিভোর করে রাখে জীবনের বাস্তবতায় কোনো প্রতিফলন নেই। বরং ইসলাম একটি যথার্থ ও বাস্তবমুখী জীবনাদর্শ। এই মহাসত্যকে প্রমাণিত করার জন্য মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন মানব জাতির উপর রহমত স্বরূপ এক মহা মানবকে প্রেরণ করেছিলেন। যার পুরা জীবন ছিল ন্যায়-নীতি, সাম্য ও আদর্শের জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত। সীমাহীন ধৈর্য ও ত্যাগের মাধ্যমে সমগ্র বিশ্বের সামনে নিজের জীবনকে পূর্ণাঙ্গ ইসলামের এক দৃঢ় প্রতিকৃতি স্বরূপ পেশ করেছেন। বিশ্ববাসী ইসলামের যথার্থতা ও বাস্তবমুখিনতা দেখে মুগ্ধ-মুখরিত হয়েছেন। ইসলামের শান্তি ও রহমতের বারিধারায় অবগাহনের সৌভাগ্য হয়েছে। তাই পবিত্র কোরআনের ভাষায় সেই মহা মানবকে সমগ্র সৃষ্টিকুলের জন্য রহমত হিসেবে অবিহিত করা হয়েছে। ইসলামের জন্য তার ত্যাগ ও কুরবানীর দৃশ্য ছিল অত্যন্ত মর্মান্তিক ও হৃদয় বিদারক। কখনো লোকচক্ষুতে হেয়তার শিকার হযেছেন। কখনো বৈরী শক্তির আঘাতে জর্জরিত হয়েছিলেন। বিরুদ্ধবাদীদের ষড়যন্ত্রে দীর্ঘকাল অবরুদ্ধ জীবন কাটিয়েছেন। তার সীমাহীন ধৈর্য ও সংযম কাফের হায়েনাদের হিংস্রতা ঠেকাতে পারেনি। অবশেষে তাদের অসহিষ্ণুতার শিকার হয়ে মাতৃভূমী ত্যাগে বাধ্য হয়েছিলেন। তবুও তিনি আল্লাহর নির্দেশবিস্মিত হননি। ইসলামের সত্যতা ও যথার্থতা প্রমানে আপসহীনচিত্তে দ্বীনের প্রচার কার্য অব্যাহত রেখেছেন। নানাবিধ প্রতিকুলতার মধ্যে তাওহীদ ও আখলাকের শিক্ষা দিয়েছেন। ইসলামী আদর্শ ও শিক্ষার আলোকে তার হাতে গড়া সেই সমাজ ও সাহাবায়ে কেরাম ছিলেন বিশ্ব ইতিহাসের সর্বযুগের সোনালী সমাজ ও স্বর্ণমানব। ইসলামের আলোকে উদ্দ্বীপ্ত হয়ে যুগে যুগে বিপুল শৌর্য-বীর্যে জয় ও নেতৃত্বের কালজয়ী ইতিহাস রচনা করে গেছেন। জাতি বর্ণ নির্বিশেষে জ্যোতির্ময় সেই আদর্শে অভিভূত হয়ে দলে দলে মানুষ ইসলামের ছায়াতলে আশ্রয় নিয়েছে।

আজ আমরা ইসলামের যে ফল ভোগ করছি তা মূলতঃ তাদেরই ফলানো ফসল। তাদের ত্যাগ তিতিক্ষা, বীরত্ব ও দূরদর্শীতায় উর্বর বাগানের ফল ও ছায়া। আমরা যদি আমাদের পূর্বসুরীদের ইতিহাস ভুলে যাই, ধৈর্য ও ত্যাগের অনুশীলন ছেড়ে দেই, তাহলে আমাদের বিপর্যয় অনিবার্য। তাই আমাদের দায়িত্ব হবে সর্বান্তকরনে ইসলামী জীবন বিধানকে মেনে নেওয়া ও পূর্বসুরীদের অনুসৃত পথে জীবন পরিচালনা করা।

ফাজেল, বগুড়া জামিল মাদরাসা

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
দয়া করে আপনার নাম লিখুন