ইসলামের দৃষ্টিতে ঘাতক ড্রাইভারের শাস্তি

শাইখ আহমাদুল্লাহ

ইসলামী শরিয়াহর দৃষ্টিতে কোনো চলক গাড়ি চালাতে গিয়ে তার কোনো ত্রুটির কারণে যদি দুর্ঘটনা ঘটে সে ক্ষেত্রে সে ড্রাইভারকেই এর দায়ভার বহন করতে হবে। ত্রুটি কয়েক ধরণের হতে পারে। একটা ত্রুটি হলো ড্রাইভিং লাইসেন্স অর্থাৎ রোডে নামার অনুমতি না থাকা। রোডে নামার মতো অনুমতি এবং দক্ষতা না থাকার পর যদি তার ড্রাইভিংয়ের ফলে কোনো মানুষ মারা যায় তাহলে সে যেন নিজের হাতেই সে লোকটিকে হত্যা করল। আর যদি এসব ত্রুটির ফলে সে যদি নিজে মারা যায় তাহলে সে যেন নিজেকেই হত্যা করল। এ ক্ষেত্রে জরিমানাসহ কোনো কোনো ইমামের মতে মৃত্যুদণ্ডও আসতে পারে।

আর যদি লাইসেন্স থাকে কিন্তু তার অন্য কোনো ত্রুটি থাকে যেমন, সে ড্রাইভিং অবস্থায় ঘুমিয়ে পড়ল, বেআইনিভাবে লেন পরিবর্তন করল অথবা গতিসীমা অতিক্রম করল তাহলে এর ফলে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলেও সে-ই দোষী হবে। এমতাবস্থায় রক্তপণ দিতে হবে। ভুক্তভোগী লোকটির চিকিৎসার ব্যবস্থা করে তার সে অঙ্গহানির ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। আর দুর্ঘটনায় পড়া লোকটি যদি নিহত হয়, তাহলে নিহত ব্যক্তির পরিবারকে ১০০ উটের মূল্য দিতে হবে। বর্তমান বাজারে ১০০ উটের মূল্য ৩ লাখ রিয়াল বা প্রায় ৬০ লাখ টাকা। এ জরিমানা ড্রাইভারই দেবে। শ্রমিক ইউনিয়ন বা পরিবারের সবার সহযোগিতা নিয়ে হলেও দিতে হবে। এ আইন কার্যকর থাকলে দেশে সড়ক দুর্ঘটনা একেবারেই কমে যাবে।

সৌদি আরবে এ আইন কার্যকর থাকায় রাস্তায় কারো ওপর গাড়ি উঠিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে ড্রাইভাররা সর্বোচ্চ সতর্ক থাকে। রাস্তায় কোনো লোক দেখলে গাড়ি থামিয়ে হলে তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।

জনপ্রিয় ইসলামিক স্কলার ও সৌদি আরবের দাম্মামের ইসলামিক সেন্টারের পরিচালক শাইখ আহামদুল্লাহ একটি ভিডিও থেকে শ্রুতিলিখন : জহিরুল ইসলাম আব্দুল্লাহ

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
দয়া করে আপনার নাম লিখুন