ঐতিহাসিক সাফা-মারওয়া

মুহাম্মাদ মিনহাজ উদ্দিন

পবিত্র কাবার সন্নিকটে অবস্থিত দুটি  পাহাড়ের নাম ‘সাফা’ ও ‘মারওয়া’। কাবার উত্তর-পূর্ব কোণে কাবা চত্বর ঘেঁষেই সাফা পাহাড়ের অবস্থান। প্রাক-ইসলামী যুগে পৌত্তলিকরা এ পাহাড় দুটির ওপর দুটি মূর্তি স্থাপন করে সেগুলোর পূজা করত। ইসলামের আবির্ভাবের পর সাফা ও মারওয়া সায়ি (প্রদক্ষিণ) করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়। ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই সাফা ও মারওয়াহ আল্লাহর নিদর্শনগুলোর অন্যতম। অতএব, যে কাবা শরিফে হজ অথবা ওমরাহ করে, তার জন্য উভয় স্থানের তাওয়াফ করায় কোনো দোষ নেই…। (সুরা : বাকারা : আয়াত : ১৫৮) ইবরাহিম (আ.) বিবি হাজেরা ও শিশুপুত্র ইসমাইল (আ.)-কে আল্লাহর নির্দেশে মক্কার সাফা-মারওয়া পাহাড়ের সন্নিকটে রেখে যান।

এই জনমানবহীন মরুভূমিতে মা ও শিশুর পানাহারসামগ্রী দ্রুত ফুরিয়ে যায়। তখন ইসমাইল (আ.)-এর প্রাণ ওষ্ঠাগত হয়ে পড়ে। সন্তানের প্রাণ বাঁচাতে মা হাজেরা শিশুসন্তান ইসমাইলের জন্য পানির সন্ধানে সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের মাঝে ছোটাছুটি করেন।

তার পরই আল্লাহর কুদরতে শিশু নবী ইসমাইল (আ.)-এর পদাঘাতে, অন্য বর্ণনা মতে, জিবরাঈল (আ.)-এর পায়ের আঘাতে পানির ঝরনা প্রবাহিত হয়। মা হাজেরার পুণ্যময় স্মৃতির স্মারক হিসেবে কিয়ামত পর্যন্ত হজযাত্রীদের জন্য সাফা-মারওয়া সায়ি করা বা দৌড়ানো আল্লাহ তাআলা ওয়াজিব করে দিয়েছেন।

হজ ও ওমরাহর ফরজ তাওয়াফের পর সাফা-মারওয়া সায়ি করা সব হজযাত্রীর জন্য ওয়াজিব।

এমএমইউ/

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
দয়া করে আপনার নাম লিখুন