কবি সোহেল-এর তিনটি কবিতা

কবি সোহেল-এর তিনটি কবিতা

 

দিনের শেষে

তোমার বাড়ির ভালো খাবার
কাক শকুনে খায়
আমার ঘরের ছোট্ট সোনা
ক্ষুধায় মরে যায়

তোমার বাড়ির পোলাও ঘ্রাণ
আমার বাড়ি আসে
পকেট ফাঁকা কাঁদে বাবা
কষ্টে হৃদয় ভাসে।

তোমার আছে দামি গাড়ি
হেঁটে যাবার ভয়
আমার জীবন হেঁটেই কাটে
জুতা জোড়া ক্ষয়।

হাতটি তোমার সাতবার ধোও
কেউ হাতটি ছুঁলে
কিন্তু আমার জীবন কাটে
পথের কাদা ধুলে।

দুদিন পরে জুতা বদল
নতুন কাপড় চাই
আমার ঘরে লজ্জা ঢাকার
কাপড়টুকু নাই।

একটা জাগায় মিল আছে ভাই
ছাদ হবে তার বাঁশ
দিনের শেষে তুমি আমি
এক কাপড়ের লাশ।

তাদের কথা ভাবি

চাল বাজারে আগুন জ্বলে
ধান বাজারে পানি
মিল মালিকের কারসাজি আজ
লোকের জানাজানি।

খাঁ খাঁ মাঠে প্রখর রোদে
ঘাম ঝরছে ঝরুক
ওরা কৃষক গাঁয়ের মানুষ
মরছে আরো মরুক।

দেখেও আজ দেখছে না ভাই
যাদের দেখার কথা
আজ কৃষকের চোখে পানি
মনে আমার ব্যথা।

এই যে রোদে পোড়া দেহ
ফসল তারাই ফলায়
তাদের কেন হেলা করে
রাখেন পায়ের তলায়?

দেশটা কি ভাই শুধুই তাদের
করছে যারা চুরি
নাটাই সুতা তাদের হাতে
মানুষ শুধু ঘুড়ি।

জল কাদাতে জীবন যাদের
তাদের কথা ভাবি
চোরের হাতে আর দেবো না
আমার ঘরের চাবি।

 

কেমন মুসলমান?

দূর মিনারে আযান হলে
থামায় পাখি গান
টানছ তখন বিড়ি তুমি
কেমন মুসলমান?

এই বিড়িটা ধীরে ধীরে
করছে আয়ু ক্ষয়
তবুও কেন টানছো বিড়ি
নেই মরণের ভয়?

ফুল কেন নয় মুখে তোমার
তপ্ত আগুন জ্বলছে
একটু খানি ভেবে দেখ
রাসুল কি যে বলছে?

মুখে আগুন নিও না ভাই
ভুল করেও আর
কাল হাশরে নইলে তুমি
পাবে না তো পার।

তোমার মুখে দেখলে বিড়ি
কবি সোহেল কাঁদে
বোঝাতে ভাই তোমায় নিয়ে
কাব্য ছড়া বাঁধে।

সবাই যখন মসজিদে ঐ
লুটায় মন আর প্রান
টানছ তখন বিড়ি তুমি
কেমন মুসলমান?

 

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
দয়া করে আপনার নাম লিখুন