কাবাঘর দৃষ্টিগোচর হলে করণীয়

মুহাম্মাদ মিনহাজ উদ্দিন

পবিত্র কাবাঘর হচ্ছে হজের প্রাণকেন্দ্র। কোটি কোটি মুসলিমের বাসনা ও আগ্রহবিন্দু। মুমিনমাত্রই কাবাঘর ও সবুজ গম্বুজের স্বপ্ন দেখে। সাধারণত হজের গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো তাওয়াফ ও যিয়ারত। তাওয়াফ করতে গেলে আল্লাহর ঘর পবিত্র কাবা হজ আদায়কারীর দৃষ্টিগোচর হয়। এটি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।
প্রসঙ্গত কোনো হাজি যদি সর্বপ্রথম কাবা দেখেন—তাহলে তার করণীয় কী?
পবিত্র কাবা দেখলে হাজিদের কিংবা যিয়ারতকারীর কি পড়া কর্তব্য—তা শক্তিশালী কোনো বর্ণনায় পাওয়া না গেলেও কিছু বর্ণনা বিভিন্ন কিতাবে বিধৃত হয়েছে।
ইমাম বায়হাকি ও তাবরানি একটি হাদিস বর্ণনা করেন। তাতে উল্লেখ আছে, আবু উমামা (রা.) রাসুল (সা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন- ‘চার স্থানে আসমানের দরজা খুলে দেয়া হয় এবং দোয়া কবুল করা হয়। নামাজের কাতার ঠিক করার সময়। বৃষ্টি বর্ষণের সময়। নামাজ পড়ার সময়। নামাজের ইকামতের সময় ও কাবাঘর দেখার সময়। (বায়হাকি, হাদিস নং : ১৭৯৬, তাবরানি, হাদিস নং : ৭৬১৩)
ইমাম মুনাভি (র.) তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ ফয়জুল কাদিরে উল্লেখ করেন- ‘হাদিসে কাবাঘর দেখার সময় বলতে কাবাঘর যখন দৃষ্টিগোচর হয়। তবে যতক্ষণ কাবার প্রতি দৃষ্টি থাকে কিংবা দৃষ্টি দেয়া হয় ততক্ষণ উদ্দেশ্য হওয়াটাই স্বাভাবিকক।’
কিন্তু অধিকাংশ হাদিসবেত্তা ও শরিয়তবিশেষজ্ঞ বলেছেন, উপর্যুক্ত হাদিসটি বেশ দুর্বল। নি¤েœ বিভিন্ন কিতাবে বর্ণিত কয়েকটি দোয়া দেয়া হলো, যেগুলো কাবাঘর দেখে পড়া যায়।
“اللهم هذا حَرَمُكَ وَأَمْنُكَ فحرّمْني على النارِ وَءامِنّي من عذابِكَ يَوْمَ تبعثُ عبادَكَ واجْعلني من أوليائِك وأَهلِ طاعتِكَ
উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা হাযা হারামুকা ওয়া আমনুকা, ফাহাররিম্নি আলান্নার ওয়া আমিন্নি আযাবাকা ইয়াওমা তুবআছু ইবাদাকা। ওয়াজআল্নি মিন আওলিয়া ইকা, ওয়া আহলি তা-আতিকা।’
অর্থাৎ ‘হে আল্লাহ এটি তোমার পবিত্র স্থান ও নিরাপদ জায়গা। অতএব আমাকে জাহান্নাম থেকে বাঁচিয়ে রাখো এবং পুনরুত্থানের দিন তোমার আযাব থেকে নিরাপদ রাখো। আমাকে তোমার প্রিয় বান্দা ও অনুগতশীলদের অন্তর্ভুক্ত করে নাও।’
আরেকটি দোয়া-
اللهُمَّ زِدْ هذا البيتَ تشريفًا وتعظيمًا وتكريمًا ومهابةً وزِدْ مَن شرَّفَهُ وَعَظَّمَهُ ممن حَجَّه أو اعْتَمَرَه تشريفًا وتكريمًا وتعظيمًا وبِرًّا”
উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা যিদ হাযাল বাইতা তাশরিফান ওয়া তাকরিমান ওয়া মাহাবাতান। ওয়া যিদ মান শাররাফাহু ওয়া আজ্জামাহু, মিম্মান হাজ্জাহু ওয়া-তামারাহু তাশরিফান ওয়া তাকরিমান ওয়া মাহাবাতান।’
অর্থাৎ ‘হে আল্লাহ তুমি এ ঘরের মর্যাদা-সম্ভ্রম ও সম্মান-শ্রদ্ধা বাড়িয়ে দাও। যারা এ ঘরের হজ ও উমরা করে তাদের মর্যাদা-সম্ভ্রম ও সম্মান-শ্রদ্ধাও বৃদ্ধি করে দাও।’
আরেকটি বর্ণনায় আছে রাসুল (সা.)-এর উপর দরুদ পড়ে দোয়াটি করবে-
اللهم اغفر لي ذنوبي وافتحْ لي أبوابَ رحمتك
উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মাগ্ফিরলি যুনুবি, ওয়াফ্তাহ্লি আবওয়াবা রাহমাতিকা।’
অর্থাৎ ‘হে আল্লাহ আমার গুনাহ-পঙ্কিলতা মার্জনা করো। আমার জন্য তোমার করুণার দ্বার খুলে দাও।’

লেখক: রিসার্চ ফেলো, সেন্টার ফর ইসলামিক থট, বসুন্ধরা, ঢাকা

এমএমইউ/

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
দয়া করে আপনার নাম লিখুন