কাশ্মীর আসলে কার?

১৯৪৭ সালে ভারত-পাকিস্তান ভাগ হয়েছিল ধর্মীয় দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে। যেহেতু কাশ্মীরের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ মুসলমান তাই দ্বিজাতিতত্ত্ব অনুযায়ী তা পাকিস্তানের অংশ হওয়া ছিল স্বাভাবিক। কিন্তু কাশ্মীরের তৎকালীন নেতা শেখ আব্দুল্লাহকে ভারতীয় নেতারা বোঝাল যে, পাকিস্তানে যোগ দিলে তা হবে এক ‘ধর্মরাজ্য’। ‘ধর্মরাজ্য’ না বানিয়ে তাকে যেন স্বাধীন সেক্যুলার ক্শ্মীর বানানো হয়। কাশ্মীরকে ভারতের অঙ্গরাজ্য হতে না বললেও পাকিস্তানে যোগ দেয়া ঠেকাতেই ভারতীয়দের এ পরামর্শশ দিয়েছিল ভারত। যেন পরবর্তীতে তারা তা দখল করতে পারে। শেখ আব্দুল্লাহ ভারতীয়দের কথা শুনে পাকিস্তানে যোগ দেননি। শেখ আব্দুল্লাহ হয়ে গেলেন সেক্যুলার কাশ্মীরের প্রধানমন্ত্রী। ভারত কাশ্মীরের ‘বন্ধু’ সেজে সেখানে সেনা পাঠিয়ে পাকিস্তানের দখলমুক্ত করে দিল। ‘বন্ধু’ ভারতের মদদে স্বায়ত্তশাসন ও নিজস্ব পতাকা নিয়ে যাত্রা করল ‘স্বাধীন ও সেক্যুলার’ কাশ্মীর।
কিন্তু কিছুদিন পরই ভারত তার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে লেগে গের। শেখ আব্দুল্লাহর সেই বিশ্বস্ত বন্ধু ভারত বিশ্বাসের মূলে কুঠারাঘাত হেনে রাতের অন্ধকারে কাশ্মীরে ভারতীয় সেনা পাঠিয়ে শেখ আব্দুল্লাহকে গ্রেফতার করে দখল করে কাশ্মীর। স্বতন্ত্র মর্যাদা বিলোপ করে ভারত কাশ্মীরকে বানায় অঙ্গরাজ্য। কাশ্মীরের প্রধানের পদ প্রধানমন্ত্রী বাতিল করে করা হয় মূখ্যমন্ত্রীর। এভাবেই ‘বন্ধু’ ভারত কাশ্মীরের প্রভুতে পরিণত হয়। 


সেদিন যদি শেখ আব্দুল্লাহ পাকিস্তানে যোগ দিত তাহলে (কাশ্মীরিদের ভাগ্যের উন্নয়ন হোক বা না হোক) অন্তত কাশ্মীর নিয়ে এ সঙ্কটের চিত্র দেখতে হতো না বিশ্ববাসীকে।


ভারতের পরামর্শে, শেখ আব্দুল্লাহর কথায় কাশ্মীরকে স্বাধীন রেখেছিল ব্রিটিশরা। পাকিস্তানের দখলেও না থেকে যদি পূর্ণ স্বাধীনও হতো তবে এটা হতো আরো ভালো।


পাকিস্তান ও ভারত উভয়ের দখলমুক্ত করে মুসলিম দেশগুলোর সহায়তায় জম্মু কাশ্মীরকে স্বাধীন করাই স্থায়ী সমাধান। কারন, ভারতের শাসন কাশ্মীরিরা মেনে নেয়নি। নেবে না।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
দয়া করে আপনার নাম লিখুন