গর্ভের সন্তানের বৈধতার ভিত্তি

মুফতি মাহমুদ হাসান

মহান আল্লাহ তাআলা প্রতিটি জিনিসের পরিমাপ ও প্রতিটি কাজের একটা সময় নির্দিষ্ট করে রেখেছেন। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘আমি প্রতিটি বস্তু সৃষ্টি করেছি সুনির্দিষ্ট পরিমাপের সঙ্গে।’ (সুরা কামার, আয়াত : ৪৯)
মানুষ সৃষ্টির মধ্যেও আল্লাহ তাআলার এ বিধান বলবৎ রয়েছে। মানব সন্তানকে পর্যায়ক্রমে সাতটি স্তরে মায়ের গর্ভে সৃষ্টি করেন, অতঃপর নির্দিষ্ট সময়ে সেখান থেকে দুনিয়ায় পাঠান। ইরশাদ হচ্ছে, ‘আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি মাটির সারাংশ দ্বারা। তারপর তাকে স্খলিত বিন্দুরূপে এক সংরক্ষিত স্থানে রাখি। এরপর আমি সেই বিন্দুকে জমাট রক্তে পরিণত করি, তারপর সেই জমাট রক্তকে মাংসপিণ্ড বানিয়ে দিই। এরপর সেই মাংসপিণ্ডকে অস্থিতে রূপান্তরিত করি, তারপর অস্থিরাজিতে মাংসের আচ্ছাদন লাগিয়ে দিই। তারপর এমনভাবে তার উত্থান ঘটাই যে সে অন্য এক সৃষ্টিরূপে দাঁড়িয়ে যায়। বস্তুত আল্লাহ বড়ই মহিমাময়, যিনি সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টিকর্তা। ‘ (সুরা মুমিনুন, আয়াত : ১২-১৪)

মায়ের গর্ভে সন্তানের অবস্থানের সময়

ইসলামী শরিয়ত অনুসারে মায়ের গর্ভে সন্তানের অবস্থানের সর্বোচ্চ সময় নির্ভরযোগ্য মতানুযায়ী দুই বছর, আর সর্বসম্মতিক্রমে সর্বনিম্ন সময় হলো ছয় মাস। (হেদায়া : ২/৪১০)
একদা হজরত উসমান (রা.)-এর কাছে জনৈক মহিলাকে হাজির করা হলো, যার বিবাহের ছয় মাস পর সন্তান জন্ম হয়। তখন হজরত উসমান (রা.) তাকে জিনার শাস্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত দিলে হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) তাঁর প্রতিবাদ করে বললেন, আমি আল্লাহ তাআলার কালাম থেকে এর সঠিক প্রমাণ দেব, আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘তার গর্ভ ও দুধ ছাড়ানোর সর্বমোট সময় ৩০ মাস। ‘ (সুরা আহকাফ, আয়াত : ১৫)
গর্ভের সর্বনিম্ন সময় ছয় মাস, আর দুধ ছাড়ানোর সময় ২৪ মাস অর্থাৎ দুই বছর। তখন হজরত উসমান (রা.) ইবনে আব্বাস (রা.)-এর কথা মেনে নিয়ে শাস্তি রহিত করে দিলেন। (মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক, হা : ১৩৪৪৭)
বিবাহের কমপক্ষে ছয় মাস পর বাচ্চা জন্ম নিলে তা ওই স্বামী-স্ত্রীর বৈধ সন্তান হিসেবে গণ্য হবে, যদি কারো বিবাহের ন্যূনতম ছয় মাস আগে সন্তান ভূমিষ্ঠ হয়, তাহলে ওই সন্তান তাদের বৈধ সন্তান হিসেবে গণ্য হবে না। (ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া : ১/৫৩৬)

সন্তানের বৈধতার ভিত্তি

শরিয়তে সন্তানের বৈধতার মূল ভিত্তি হলো স্বামী-স্ত্রীর বিবাহ, বিবাহের সঙ্গেই মানুষের বংশপরম্পরার সম্পর্কের উৎস নির্ধারিত হয়েছে। তাই বিবাহের কমপক্ষে ছয় মাস পর বাচ্চা জন্ম নিলে তা ওই স্বামী-স্ত্রীর বৈধ সন্তান হিসেবে গণ্য হবে। তাদের মিলন হয়েছে কি না বা কখন হয়েছে এর হিসাবের ওপর নির্ভর করা হয়নি, কেননা তা গোপনীয় ব্যাপার। এ কারণে বিবাহের ছয় মাস পর বাচ্চা জন্ম নিলে স্বামী ওই সন্তান অস্বীকার করতে পারবে না। (মাবসুতে সারাখসি : ১৭/১৫৫)

এমনকি বিবাহের পর স্ত্রীর যদি স্বামী ছাড়া অন্য কারো সঙ্গে অবৈধ মিলনে কোনো সন্তান জন্ম হয়, ওই সন্তানের পিতৃত্বের সম্পর্কও স্ত্রীর বৈধ স্বামীর সঙ্গেই হবে, অর্থাৎ ওই মহিলার স্বামীই সন্তানের বৈধ পিতা হবে, ব্যভিচারী নয়। হাদিস শরিফে এসেছে : ‘সন্তান বৈধ স্বামীরই গণ্য হবে, আর ব্যভিচারী বঞ্চিত হবে। ‘ (বোখারি, হা : ২০৫৩)

লেখক : ফতোয়া গবেষক ও মুহাদ্দিস

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
দয়া করে আপনার নাম লিখুন