জাতিসংঘের সম্মেলনে ৩ মাসের শিশু!

জাতিসংঘে প্রথমবারের মতো ভাষণ দিয়েছেন নিউ জিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আরডার্ন। আর উদ্বোধনী ভাষণের দিনেই জাতিসংঘের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আরেকটি দৃশ্যের অবতারণা করেছেন তিনি। সোমবার (২৪ সেপ্টেম্বর) তিন মাস বয়সী মেয়ে নেভে তে আরোহাকে সঙ্গে নিয়ে জাতিসংঘে নেলসন ম্যান্ডেলা শান্তি সম্মেলনে যোগ দেন জাসিন্ডা। জাতিসংঘের সম্মেলনে শিশু সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে কোনও বিশ্বনেতার যোগ দেওয়ার ঘটনা এটাই প্রথম। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদন থেকে এসব কথা জানা গেছে।

৩৭ বছর বয়সী জাসিন্ডা আরডার্ন নিউ জিল্যান্ডের সবচেয়ে কম বয়সী প্রধানমন্ত্রী। গত বছর অক্টোবরে তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন। তার দল লেবার পার্টি নির্বাচনে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করলেও কোনো দল নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় ছোট দল ফার্স্ট পার্টির নেতা উইনস্টন পিটার্সের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করেন তিনি। গত ২১ জুন এক কন্যা সন্তানের জন্ম দেন জাসিন্ডা। ছয় সপ্তাহের ছুটি শেষে গত ৬ আগস্ট আবারও কাজে যোগ দেন নিউ জিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী।

মূলত জাসিন্ডার জীবনসঙ্গী ক্লার্কে গেফোর্ড মেয়ের দেখাশোনার দায়িত্ব পালন করেন। তবে বর্তমানে তিন মাস বয়সী মেয়ে নেভেকে জাসিন্ডার স্তন্যপান করাতে হয়। আর সেকারণেই নেভেকে সঙ্গে সঙ্গে রাখেন তিনি। জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগ দিতে ছয়দিনের আন্তর্জাতিক সফরেও মেয়ে নেভে ও জীবনসঙ্গী ক্লার্কে গেফোর্ড তার সফরসঙ্গী হয়েছেন। সোমবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নেলসন ম্যান্ডেলা শান্তি সম্মেলনে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন তিনি।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, বক্তব্য দেওয়ার কিছুক্ষণ আগেও মেয়ে নেভের সঙ্গে খেলছিলেন নিউ জিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী। পরে মেয়েকে ক্লার্কে গেফোর্ডের কোলে দিয়ে বক্তব্য দেন তিনি। নিউ জিল্যান্ডের ওপর দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদবিরোধী নেতা নেলসন ম্যান্ডেলার ‘গভীর প্রভাব’ থাকার কথা উল্লেখ করেন জাসিন্ডা। নিউ জিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী যখন জাতিসংঘের বিভিন্ন বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন তখন পুরোটা সময় গেফোর্ডই তাকে সামলাচ্ছেন। মেয়ে নেভেকে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে একটি পরিচয়পত্রও দেওয়া হয়েছে। সেখানে তাকে উল্লেখ করা হয়েছে নবজাতক হিসেবে।

জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘একজন কর্মজীবী মা-ই যে সবচেয়ে ভালোভাবে তার দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন, সেটাই প্রধানমন্ত্রী আরডার্ন দেখাচ্ছেন। বিশ্বনেতাদের মধ্যে মাত্র ৫ শতাংশ নারী। সেকারণে যতটা সম্ভব তাদেরকে এখানে স্বাগত জানানোটা জরুরি।’

জেএস/

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
দয়া করে আপনার নাম লিখুন