ঢাকায় শিরায় মাদকসেবীদের প্রতি চারজনের একজন এইচআইভি আক্রান্ত

বাংলাদেশে যে সকল মাদকাসক্ত ব্যক্তি রক্তণালীতে নেশাদ্রব্য প্রবেশ করিয়ে নেশাগ্রস্ত হয়, তাদের মধ্যে এইচআইভি সংক্রমণ আশংকাজনকভাবে বাড়ছে।

বাংলাদেশ সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালিত সর্বশেষ জরিপে এ তথ্য প্রকাশ পেয়েছে।

গতকাল বিশ্ব এইডস দিবস উপলক্ষে প্রকাশিত এ জরিপে জানা গেছে, রাজধানী ঢাকার পুরনো এলাকায় শিরায় মাদক গ্রহণকারীদের মধ্যে প্রতি চারজনের মধ্যে একজন এইচআইভিতে আক্রান্ত।

তাছাড়া, নারীদের মধ্যে এ মরণ নেশার সংক্রমণ বৃদ্ধিতে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। জরিপে ২০০৪-০৫ সালে শিরায় মাদক গ্রহণকারী নারীদের মধ্যে কোনো এইচআইভি সংক্রমণ পাওয়া যায়নি। ২০১১ সালের জরিপে ১.২ শতাংশ নারীর মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়ে। কিন্তু ২০১৬ সালের জরিপে ৫ শতাংশের মধ্যে সংক্রমণ পাওয়া গেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কোন বিশেষ জনগোষ্ঠীর শতকরা ৫ ভাগের মধ্যে কোনো
রোগের সংক্রমণ পাওয়া গেলে তাহলে সে পরিস্থিতিকে ‘ঘণীভূত মহামারী’ বলে চিহ্নিত করা হয়। পুরোনো ঢাকায় সেরকম পরিস্থিতি বিগত কয়েকবছর ধরেই চলছে।

গবেষকগণ জানিয়েছেন, মাদক গ্রহণকারীরা শরীরে নেশাদ্রব্য প্রবেশের জন্য একই সিরিঞ্জ ও সুই ভাগাভাগি করে থাকেন। এ কারণে একজন এইচ আইভি আক্রান্ত রোগীর রক্ত থেকে তা সহজেই অন্যদের শরীরে প্রবেশ করে।

উল্লেখ্য, ১৯৮৯ সালে বাংলাদেশে প্রথম এইচআইভিতে আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হয়। এরপর ২০১৭ সাল পর্যন্ত এইচআইভি ভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন ৫ হাজার ৫শ ৮৬ জন। এ পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৯২৪ জন। আতঙ্কের বিষয় হল শুধুমাত্র ২০১৭ সালেই এইচআইভিতে সংক্রমিত হয়েছেন ৮৬৫ জন পুরুষ-নারী এবং ওই বছরেই মৃত্যু হয়েছে ১২৫ জনের।

অনিরাপদ যৌনাচার, এইচআইভি ভাইরাস আছে এমন রক্ত শরীরে গ্রহণ, শিরায় মাদক গ্রহণে একাধিক ব্যক্তি মিলে একই সুঁচ ও সিরিঞ্জ ব্যবহার, অস্ত্রপচারের সরঞ্জাম জীবানুমুক্ত না করাই এইচআরভি বিস্তারের প্রধান কারণ বলে শনাক্ত করেছেন চিকিৎসকগণ।

এ প্রসঙ্গে জনস্বাস্থ্য সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ডাক্তার ফায়েজুল হাকিম বলেন, মাদকের অপব্যবহার রোধে সরকারের হম্বিতম্বি যে কোনো কাজে আসছে না তার প্রমাণ হচ্ছে দেশব্যাপী মাদকের ভয়াবহ বিস্তার। তাছাড়া, এইডস নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা যে পরিমাণ আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে তার যে সুষ্ঠু ব্যবহার হচ্ছে না সেটাও প্রমাণিত হচ্ছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের ডিন ডা. এবিএম আবদুল্লাহ বলেছেন, এইচআইভি সংক্রমণ একবার শরীরে প্রবেশ করলে তাকে পুরোপুরি দূর করা যায় না। চিকিৎসার দ্বারা এর লক্ষণ বা জটিলতাগুলো কয়েকবছর ঠেকিয়ে রাখা যায় মাত্র। তাই এটি প্রতিরোধ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেছেন, ধর্মীয় অনুশাসন মেনে বিবাহ বহির্ভূত যৌন সম্পর্ক এড়িয়ে চলা এবং বিশ্বস্ত স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে এ সম্পর্ক সীমিত রাখা, কনডম ব্যবহার করা, মাদক গ্রহণের অভ্যাস পরিহার করা এবং অন্যের ব্যবহৃত দাঁতের ব্রাশ, সেভিং রেজর বা সিরিঞ্জ ব্যবহার থেকে বিরত থাকার মাধ্যমে সংক্রমণের ঝুঁকি কমানো যায়।

বর্তমানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উদ্যোগে ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল, মহাখালীতে সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল, সিলেটে এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও কক্সবাজার সদর হাসপাতালে এইচআইভি সংক্রান্ত সেবা প্রদান করা হচ্ছে।

 

সূত্র : পার্স টুডে

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
দয়া করে আপনার নাম লিখুন