ধন্যবাদ ধর্মপ্রতিমন্ত্রী

যুবায়ের আহমাদ

আগামীকাল পবিত্র ঈদুল ফিতর। সবাইকে ডেইলি ইসলাম পরিবারের পক্ষ থেকে ঈদের শুভেচ্ছা। তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম।

এবারের ঈদ আগামীকাল (বুধবার) হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল। কারণ প্রথমবার ধর্ম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের কোথাও চাঁদ দেখা যায়নি। পাকিস্তানেও যখন বুধবার ঈদের ঘোষণা হয়ে গেছে তখনও বাংলাদেশে ঈদের ঘোষণা হয়নি। আমাদের পার্শবর্তী দেশ ভারত এমনকি কলকাতায়ও ঈদের ঘোষণা হয়েছে। তারপর রাত এগারোটায় আবার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করল ধর্ম মন্ত্রণালয়। এ নিয়ে অনেকেরই প্রশ্ন, কেন ‘না’ আবার কেন ‘হ্যাঁ’।

আমি মনে করি ধর্ম মন্ত্রণালয় এখানে অত্যন্ত সচেতনতার পরিচয় দিয়েছে। যাচাই করে, রাষ্ট্রের নির্ভরযোগ্য ও শীর্ষ আলেমদের পরামর্শ নিয়েই তারা তা করেছেন। তবে দেরিটা হয়েছে সতর্কতা অবলম্বনের কারণে। চাঁদ দেখার নির্ভরযোগ্য সূত্র জানতে চাওয়া কারণে। রাত ১১টা পর্যন্ত চাঁদ দেখার যেসব খবর এসেছে, সেগুলো নির্ভরযোগ্য ছিল না, নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছিল না। নিশ্চিত হয়েই তারা সে ঘোষণা দিয়েছেন।

ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য দেখলাম। ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য থেকে জানলাম, তিনি সব সিদ্ধান্তই দেশের বিজ্ঞ আলেমদের পরামর্শ নিয়ে দিয়েছেন। প্রথম সিদ্ধান্তে যখন বলললেন ঈদ কাল হবে না তা-ও হাটহাজারি মাদরাসায় টেলিফোন করে আলেমদের পরামর্শ নিয়ে ঘোষণা করেন আবার পরে যখন জানালেন ঈদ হবে তা-ও দেশের সর্বজন শ্রদ্ধেয় আলেম মাওলানা আব্দুল মালেক সাহেব (দা. বা.)সহ আলেমদের পরামর্শ নিয়েই সে ঘোষণা দিয়েছেন।

আজ আকাশ ছিল মেঘলা। স্বাভাবিকভাবে আলেমদের চাঁদ দেখা একটু কঠিন ছিল। আলেমরাও অপেক্ষা করছিলেন নির্ভরযোগ্য সূত্রের। কিন্তু প্রথম ঘোষণার আগ পর্যন্ত হয়তো নির্ভরযোগ্য সূত্র পাওয়া যাচ্ছিল না। আর চাঁদ দেখার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি তো নির্ভরযোগ্য সূত্র ছাড়া আমলে নেওয়া যায় না। আল্লাহ তো খবর যাচাইয়ের নির্দেশ দিয়েছেন। কোরআনুল কারিমে আল্লাহ বলেন, ‘মুমিনগণ! কোনো পাপাচারী ব্যক্তি যদি তোমাদের কাছে কোনো খবর নিয়ে আসে, তাহলে তোমরা তা পরীক্ষা করে দেখবে। যাতে অজ্ঞতাবশত তোমরা কোনো ক্ষতিসাধনে প্রবৃত্ত না হও এবং পরে নিজেদের কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত না হও।’ (সুরা : আহজাব, আয়াত : ৬)।

ফেসবুকে যাদের নাম্বারসহ চাঁদ দেখার খবর ছড়িয়েছে তাদের কয়েকেজনের সঙ্গে আমি মোবাইলে কথা বলেছি। একজনকে জিজ্ঞেস করলাম, ‘আপনি নিজে চাঁদ দেখেছেন? তিনি বললেন, না। আমার ফুফাত ভাই দেখেছেন। আমি তার ফুফাত ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলতে চাইলাম। তার ফুফাত ভাই বললেন তিনিও নিজে দেখেননি। আরেকজন দেখেছেন। ‘আরেকজন দেখেছেন’ এ সূত্র আমলে নেওয়া কি ঠিক? হ্যাঁ, যদি কেউ সত্যি চাঁদ দেখে থাকেন তাহলে তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলবেন, আমি দেখেছি। আমি যাদের সঙ্গে কথা বলেছি, তাদের একজন দৃঢ়তার সঙ্গে বলেছেন নিজ চোখে চাঁদ দেখেছেন। সম্ভবত তাঁর সঙ্গে কথা বলেই মাওলানা মাহফুজুল হক সাহেব ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মহোদয়কে নিশ্চিত করেছেন।

আমরা চাঁদ উঠেনি জেনে তারাবিহ পড়েছি। সওয়াব পাবো। পরে জানলাম ঈদ হচ্ছে। তাতে তেমন কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু নির্ভরযোগ্য সূত্রে নিশ্চিত না হয়েই যদি ধর্ম মন্ত্রণালয় বলতো, কাল ঈদ। তারপর যদি জানা যেত সে সূত্রটি গ্রহনযোগ্য নয় তাহলে রাষ্ট্রীয় ঘোষনা পর লাখো মসজিদের ইতিকাফকারীদের ইতিকাফ ভাঙত। আরো বেশি সমস্যা হতো।

‘না’ ও ‘হ্যাঁ’ উভয় সিদ্ধান্তই যেহেতু তিনি সতর্কতার সঙ্গে, আলেমদের পরামর্শে দিয়েছেন তাই তাকে ধন্যবাদ। তবে মহাকাশে স্যাটেলাইট পাঠানোর এ সময়ে ধর্ম মন্ত্রণালয় চাঁদ দেখার জন্য আরো আধুনিক যন্ত্রপাতি কিনতে পারে। যেন যে চাঁদ সন্ধ্যায় লালমনিরহাটের মুসলমানরা দেখতে পেরেছে, তা যেন আকাশ মেঘলা থাকলেও ঢাকা থেকেও তারা দেখতে পরেন।

লেখক : নির্বাহী সম্পাদক, ডেইলি ইসলাম।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
দয়া করে আপনার নাম লিখুন