নারীদের সুরক্ষায় বিশ্বব্যাপী হিজাবের জনপ্রিয়তা বাড়ছে

মুসলিম নারীদের বিশেষ পছন্দের পোশাক হিজাব। একই সঙ্গে এটি ইসলামী সংস্কৃতি ও সভ্যতারও প্রতীক। ধর্মীয় অনুশাসন মেনে নিজেদের সম্মান এবং মর্যাদা রক্ষার মাধ্যম হিসেবে মুসলিম বিশ্বে এই পোশাকটির রয়েছে বিশেষ আবেদন।

পাশ্চাত্য সংস্কৃতির প্রসার পাওয়া সত্ত্বেও বিশ্বজুড়ে হিজাব পরিহিত নারীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। রুচির সঙ্গে মানানসই অথচ মার্জিত ও শালীন পোশাক হিসেবে পরিচিতি পাওয়ায় হিজাবের প্রতি রয়েছে নারীদের ব্যাপক সমর্থন ও আকর্ষণ। মুসলমানদের ছাড়িয়ে হিজাব আকর্ষিত করেছে অনেক অমুসলিমকেও।

এ হিজাবকে স্মরণীয় করে রাখা এবং পর্দার ব্যাপারে ইসলামী বিধান অনুসরণকারী সব মুসলিম নারীদের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য গত ৬ বছর ধরে নিউ ইয়র্কে নানা রকমের কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে ‘বিশ্ব হিজাব দিবস’।

এরই ধারাবাহিকতায় আজ ১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, শুক্রবার নিউ ইয়র্কে পালিত হয়েছে ‘বিশ্ব হিজাব দিবস’। এবারের হিজাব দিবসের স্লোগান ‘হিজাব ইজ মাই ফ্রিডম’, ‘হিজাব ইজ মাই প্রটেকশন’, ‘হিজাব ইজ মাই চয়েস’, ‘হিজাব ইজ মাই কভার’।

কয়েক বছর আগে নাজমা খান নামক এক বাংলাদেশী ছাত্রী পোশাকের কারণে জ্যামাইকায় হেনস্তার স্বীকার হন। ওই ঘটনার প্রতিবাদ, নিন্দা এবং সর্বসাধারণকে সচেতন করার জন্য হিজাব দিবস পালন শুরু হয়। শুরু থেকে এখন পর্যন্ত একই চেতনায় দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। কারণ এখনো বিশ্বে ধর্মীয় পোশাক, জাতিগত কারণে বৈষম্যের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে।

হিজাব দিবসের সঙ্গে ইতোমধ্যে সংহতি প্রকাশ করেছেন ৪৫টি দেশের ৭০ জনের অধিক রাষ্ট্রদূত, খ্যাতনামা রাজনীতিক ও স্কলারসহ টাইম ম্যাগাজিন, সিএনএনের মতো বিশ্বখ্যাত গণমাধ্যম। ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে ওয়ার্ল্ড হিজাব ডে ডট কম পরিচালিত এক জরিপে দেখা যায়, শতকরা ৯৪ ভাগ নারী হিজাবে নিজেদেরকে নিপীড়িত মনে করেন না।

শতকরা ৯৩ ভাগ নারী মনে করেন তাদের ওপর হিজাব চাপিয়ে দেওয়া হয়নি। বরং নারীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষায় দিন দিন হিজাবের জনপ্রিয়তা বাড়ছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
দয়া করে আপনার নাম লিখুন