নিউজিল্যান্ডে মুসলমানদের দিনকাল কিভাবে কাটে?

মুফতি মুহাম্মদ মর্তুজা

নিউজিল্যান্ড যেহেতু ধর্ম প্রচার ও অর্থ আয়ের দিক দিয়ে সমৃদ্ধ ও উর্বর একটি ভূমি, তাই মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের মুসলিমরা এখানে বসতি বেঁধেছে। যার সংখ্যা এক লাখের কাছাকাছি হবে। যাদের মাঝে অনেক যোগ্য ও অভিজ্ঞ আলেমও রয়েছেন। যাঁদের অনেকেই হিন্দুস্থান বা তৎসংলগ্ন অঞ্চল থেকে শিক্ষা অর্জন করেছেন। যাঁরা প্রতিনিয়তই নিউজিল্যান্ডে ইসলাম প্রচার ও সেখানকার মুসলিমদের ইসলামী শিক্ষায় শিক্ষিত করার পেছনে দিন রাত শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন।

নিউজিল্যান্ডের বিভিন্ন অঞ্চলে মুসলিম বসতি ঘেঁষে গড়ে উঠেছে মসজিদ। ব্যবস্থা করা হয়েছে শিশুদের ধর্মীয় প্রাথমিক শিক্ষার ব্যবস্থা, হেফজখানা ইত্যাদি। কোনো কোনো মসজিদের উদ্যোগে সেখানে প্রতিষ্ঠা করেছে সানডে স্কুল। যেখানে ছুটির দিন বাচ্চাদের দিনব্যাপী ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়া হয়। এ শিক্ষাকে আরো উন্নত করার লক্ষ্যে সেখানে দিন দিন গড়ে উঠছে আরো অনেক আধুনিক মাদ্রাসা। আলহামদুলিল্লাহ! মুসলিমরা সংখ্যায় কম হলেও সেখানকার মুসলিমদের একান্ত আন্তরিকতা ও ধর্মভীরুতার দরুন সেখানে ইসলাম প্রচার প্রসারের কাজ খুব জোরেশোরেই চলছে। কিন্তু সেখানকার মুসলিমদের একটি বড় সমস্যা হলো, সুদ। সেখানে বাড়ি বানানো থেকে শুরু করে প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই ব্যাংক থেকে সুদি ঋণ নেওয়া বাধ্যতামূলক। এ কারণে অনেক ধর্মপ্রাণ মুসলিম সেখানে দারুণ বিব্রতকর অবস্থায় আছেন। এ সমস্যা থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে সেখানকার মুসলিমরা একটি সংগঠন করেছে, যার নাম ‘ফেডারেশন অব ইসলামিক অ্যাসোসিয়েশন অব নিউজিল্যান্ড’ যাকে সংক্ষেপে (FIANZ) বলা হয়। যা একটি স্থানীয় ইনস্ট্রুমেন্ট কম্পানির সঙ্গে এক হয়ে মুসলিমদের সুদমুক্ত উপায়ে বাড়ি করার পন্থা উদ্ঘাটনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া নিউজিল্যান্ডের বিভিন্ন শহরে বিশ্বের বড় বড় স্কলারগণ সুদের ক্ষতির দিক ও ইসলামিক নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে মুসলিমদের সচেতন করার উদ্দেশ্যে কাজ করে যাচ্ছে। বোর্ডের কার্যক্রম ইসলামী আইন পরিপন্থী হচ্ছে কি না তা নিরীক্ষার জন্য তাতে একটি উলামা বোর্ড গঠন করা হয়েছে। এক কথায় বলতে গেলে পরিপূর্ণ সঠিক ইসলামের ওপর চলার জন্য নিউজিল্যান্ড মুসলিমরা প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আল্লাহ তায়ালা তাদের এই চেষ্টাকে কবুল করুক।

লেখক : বিশিষ্ট গবেষক ও উপ-সম্পাদক, ডেইলি ইসলাম

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
দয়া করে আপনার নাম লিখুন