প্রাক-নিবন্ধনের পরও হজে যাচ্ছেন না অনেকে!

বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন, ০১৭৭৬৭৮৫৪৭৮, ০১৯৬৭৯৭৯০৯৩

বর্ধিত সময়ের মধ্যেও চলতি বছরের হজের চূড়ান্ত নিবন্ধনে ধীরগতি লক্ষণীয়। সরকারি ব্যবস্থাপনার ৭১ হাজার কোটার মধ্যে গতকাল পর্যন্ত চূড়ান্ত নিবন্ধিত হয়েছেন ৫ হাজার ৪৫৯জন। অন্য দিকে, বেসরকারি ব্যবস্থাপনার ১ লাখ ১৬ হাজার ৭৪৬জনের কোটার মধ্যে গতকাল পর্যন্ত নিবন্ধিত হয়েছেন মাত্র ৪৩ হাজার ৪৬০জন। বর্ধিত সময় অনুযায়ী এ বছরের জন্য প্রাক-নিবন্ধিতদের সিরিয়াল থেকে চূড়ান্ত নিবন্ধনের সর্বশেষ সময় আগামী ২১ মার্চ। এরপর পরবর্তী সিরিয়াল উন্মুক্ত করে নিবন্ধনের সুযোগ দেয়া হবে। পরবর্তী সিরিয়ালের নিবন্ধিতদের বেশির ভাগই ২০২০ সালে হজ পালনের টার্গেটে নিবিন্ধত হয়েছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। ফলে সব মিলিয়ে সর্বশেষ চলতি বছরের বেসরকারি হজযাত্রীর কোটা পূরণ হওয়া নিয়ে কেউ কেউ শঙ্কা প্রকাশ করছেন।

হজ ব্যবস্থাপনার সাথে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ বছরই হজে যাওয়ার লক্ষ্যে প্রাক-নিবন্ধিত হয়েছেন এমন হজযাত্রীদের অনেকে এ বছর হজে যাচ্ছেন না বলেই চূড়ান্ত নিবন্ধনে হজযাত্রী হ্রাস পাওয়ার প্রধান কারণ। এ ছাড়াও পাসপোর্ট পেতে দেরি হওয়া, একেবারে শেষ মুহূর্তে এসে এজেন্সিপ্রতি হজযাত্রী পাঠানোর কোটা ১৫০ থেকে কমিয়ে ১০০জন করার ঘোষণা দেয়ার কারণে কিছুু এজেন্সি হজযাত্রীদের নিবন্ধন করতে দেরি হচ্ছে বলে জানা গেছে।

জানতে চাইলে হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-হাবের মহাসচিব এম শাহাদাত হোসাইন তসলিম বলেন, আসলে এবার হজযাত্রীদের নিবন্ধনের ধীরগতি লক্ষণীয়। এর আগে সরকারি ব্যবস্থাপনায় প্রাক-নিবন্ধিত হজযাত্রীদের চূড়ান্ত নিবন্ধন না করার তেমন লক্ষণ দেখা যায়নি। এবার নির্ধারিত সময়ে সরকারি ব্যবস্থাপনার কোটা পূর্ণ হয়নি। এ জন্য সময় বৃদ্ধির পাশাপাশি আগের ও পরের সিরিয়ালের প্রাক-নিবন্ধিতদের চূড়ান্ত নিবন্ধনের সুযোগ দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, পাসপোর্ট পেতে দীর্ঘ সময় লাগা ও নিবন্ধনের ধীরগতি বড় কারণ। যদিও হজযাত্রীদের পাসপোর্ট দ্রুত ডেলিভারি দিতে সর্বশেষ বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, প্রথম দফায় উন্মুক্ত করা সিরিয়াল থেকে কোটা পূরণ না হলেও পরবর্তী সিরিয়াল উন্মুক্ত করার পর কোটার সংখ্যায় হজযাত্রী নিবন্ধিত হবে বলে আশা করি।

হাবের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি ও বর্তমান ইসি কমিটির সদস্য ফরিদ আহমেদ মজুদারের কাছে জানতে চাইলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এবার বেসরকারি ব্যবস্থাপনার কোটা পূর্ণ হওয়া না হওয়া নিয়ে আমিও কিছুটা সন্দিহান। তিনি বলেন, অর্থনৈতিক মন্দা, দীর্ঘমেয়াদে প্রাক নিবন্ধের নিয়মের কারণে তাৎক্ষণিক হজ পালনের মনোভাবে পরিবর্তন, দেশের প্রত্যন্ত এলাকায় গ্রুপ লিডাররা ধর্মপ্রাণ মানুষকে হজের চেয়েও স্বল্প খরচে ওমরাহ পালনে উৎসাহিত করাসহ নানা কারণ থাকতে পারে এর পেছনে।

চলতি বছর বাংলাদেশের জন্য হজযাত্রী পাঠানোর কোটা রয়েছে এক লাখ ২৭ হাজার ১৯৮জন। এর মধ্যে এক লাখ ২০ হাজার ১৯৮জন বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় এবং বাকি ৭ হাজার সরকারি ব্যবস্থাপনার জন্য নির্ধারিত। এজেন্সিগুলোর গাইড বাদ দিয়ে ১ লাখ ১৬ হাজার ৭৪৬জনের নিবন্ধন করা হবে। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে সরকারি ব্যবস্থাপনার এবং ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে বেসরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রীদের চূড়ান্ত নিবন্ধন শুরু হয়। গত ১০ মার্চ ছিল নিবন্ধনের শেষ দিন। কিন্তু বেশির ভাগ হজযাত্রী নিবন্ধনের বাইরে থেকে যাওয়ায় সময় বৃদ্ধি করে আগামী ২১ মার্চ পর্যন্ত করা হয়েছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
দয়া করে আপনার নাম লিখুন