বঙ্গবন্ধুর ধর্মনিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি প্রগতিশীলদের ধর্মনিরপেক্ষতার চর্চা থেকে ভিন্ন ছিল

কাসেম শরীফ

ইংরেজি Secularism শব্দটির বাংলায় অনুবাদ করা হয়েছে—ধর্মনিরপেক্ষতা। বিশ্বের দেশগুলোতে তিন প্রকারের ধর্মনিরপেক্ষতার অনুশীলন দেখা যায়, তা হলো—চরম ধর্মনিরপেক্ষতা, নির্দেশকারী ধর্মনিরপেক্ষতা আর নমনীয় বা দুর্বল ধর্মনিরপেক্ষতা।

রাশিয়ায় সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের পর সেখানে চরম ধর্মনিরপেক্ষতার অনুশীলন চালু হয়। বলা হয়, রাষ্ট্রই মানুষের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সমস্যার সমাধান দেবে। ধর্মে মুক্তি খোঁজার প্রয়োজন নেই। সেখানে প্রকাশ্যে ধর্ম পালন নিষিদ্ধ করা হয়। বহু ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়। ১৯৯১ সালে সমাজতান্ত্রিক রাশিয়া তথা সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর মানুষ ধর্মীয় স্বাধীনতা লাভ করে।

যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে নমনীয় ধর্মনিরপেক্ষতার চর্চা দেখা যায়। সেখানে রাজা দীর্ঘকাল যাজকের অধীনে ছিলেন। বিপ্লবের হাত ধরে সেখানে রেনেসাঁর সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে রাজাকে সর্বোচ্চ ক্ষমতা দেওয়া হয় এবং যাজকদের রাজার অধীনস্থ করা হয়। বর্তমানে রানি ব্রিটিশ চার্চের প্রধান। আমেরিকার ধর্মনিরপেক্ষতা ফ্রান্স বা তুরস্কের কামালীয় উগ্র ধর্মনিরপেক্ষতা থেকে আলাদা। সেখানে সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা লিপিবদ্ধ আছে। যুক্তরাষ্ট্রের ধর্মনিরপেক্ষতা হলো ‘নমনীয় ধর্মনিরপেক্ষতা’, যা প্রকৃতপক্ষে ধর্মের প্রতি রাষ্ট্রের নিরপেক্ষতার নামান্তর। দেশটির সংবিধানের শুরুতে ঈশ্বরের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে দায়িত্বভার গ্রহণের আগে রাষ্ট্রপতিকে বাইবেল ছুঁয়ে শপথ নিতে হয়। ভাষণের শেষে তাঁদের বলতে হয়—May God Bless America.

আমেরিকার মুদ্রার ওপর মুদ্রিত থাকে—In God we trust.

১৯৯৫ সালের ১২ জুলাই তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন স্কুলে ধর্মচর্চা বিষয়ে একটি মেমোরেন্ডাম জারি করেন। সেখানে বলা হয়েছিল, ‘শিক্ষার্থীরা অন্যান্য প্রতীকের মতো তাদের পোশাকে ধর্মীয় প্রতীক (যেমন—হিজাব) ব্যবহার করতে পারবে।’

নমনীয় ধর্মনিরপেক্ষতার আরেকটি উদাহরণ হলো ভারত। দেশটির সংবিধানের সূচনায়ই বলা হয়েছে, ‘এটি হবে সার্বভৌম সমাজতান্ত্রিক ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক রিপাবলিক।’ মহাত্মা গান্ধী, জওয়াহেরলাল নেহরু, বি আর আম্বেদকার, সুভাষ চন্দ্র বসু, মাওলানা আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ জাতীয় নেতা ধর্মনিরপেক্ষতার অনুসারী ছিলেন।

বাংলাদেশে স্বাধীনতার পর সংবিধানে জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতাকে প্রধান রাষ্ট্রীয় মূলনীতি হিসেবে গ্রহণ করা হয়। তবে এ ধর্মনিরপেক্ষতা চরম কিংবা নির্দেশকারী ধর্মনিরপেক্ষতার পর্যায়ে পড়ে না; বরং এ চর্চা নমনীয় ধর্মনিরপেক্ষতার সঙ্গে তুলনা করাই যুক্তিযুক্ত।

কেননা বঙ্গবন্ধুর সরকারেই দেখা গেছে, তিনি রাষ্ট্রীয়ভাবে ধর্মচর্চার ব্যবস্থা করেছেন।

বাংলাদেশের সংবিধানের চার মূলনীতিতে ‘ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ’ কথাটা ব্যাখ্যাসাপেক্ষ। এর ব্যাখ্যা বঙ্গবন্ধু নিজেই দিয়ে গেছেন। সেই ব্যাখ্যা উপেক্ষা করে মুসলমানদের ওপর ধর্মহীনতা চাপিয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদ লিখেছেন : ‘বাংলাদেশের যে ধর্মনিরপেক্ষ আদর্শ ঘোষিত হলো, তা ইসলামহীন সেক্যুলারিজম নয়। কারণ মুক্তিযুদ্ধের মধ্যে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে ইসলামসংক্রান্ত অনুষ্ঠান একটু বেশিই যেন প্রচারিত হতো। হিন্দু-বৌদ্ধ ধর্ম নিয়ে বিশেষ কিছুই হতো না। কিন্তু কেন তা হতো? তা হতো এই জন্য যে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমান শ্রোতার কাছে ইসলামী অনুষ্ঠানের বিশেষ আবেদন ছিল। যার বিশেষ আবেদন থাকে, তার প্রয়োজন অস্বীকার করা যায় না। বাংলাদেশ কি সেদিন ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ হতে চেয়েছিল নাকি অসাম্প্রদায়িক হতে চেয়েছিল? সেদিন বাংলাদেশের ধর্মাবলম্বী-নির্বিশেষে বাঙালি জনগণ চেয়েছিল অতীতের সাম্প্রদায়িক বিষ ধুয়ে-মুছে একটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিপূর্ণ, অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে—সেক্যুলার হতে নয়।’ (সলিমুল্লাহ খান সম্পাদিত, বেহাত বিপ্লব ১৯৭১, আগামী প্রকাশনী, দ্বিতীয় সংস্করণ দ্বিতীয় মুদ্রণ, ডিসেম্বর ২০১৩, পৃ. ২২৮)

১৯৭৪ সালে জাতিসংঘে সৌদি আরবের তৎকালীন বাদশাহ বঙ্গবন্ধুকে জিজ্ঞেস করেছেন, ‘আপনারা যে মুসলমানের দেশটাকে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র করে ফেললেন!’

অধ্যাপক নূরুল ইসলামের বর্ণনামতে, ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র কথাটার ব্যাখ্যায় শেখ মুজিব বলেছেন, ‘জনগণের প্রতিনিধিরাই এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। এর মানে রাষ্ট্রের ধর্মবিরোধিতা নয়। প্রকৃত প্রস্তাবে বাংলাদেশের মুসলমানরা দারুণ ধর্মপরায়ণ ও পরহেজগার। এই পটভূমিতে ধর্মনিরপেক্ষ মানে রাষ্ট্র, অর্থনীতি ও সমাজবিষয়ক অধিকার ও সুযোগ-সুবিধার প্রশ্নে ধর্মের মাপকাঠিতে কোনো অবিচার না করার নিশ্চয়তা।’ (বেহাত বিপ্লব ১৯৭১, প্রাগুক্ত, পৃ. ১২৪)

বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে ঐতিহাসিক বিভ্রান্তির অপনোদন

এটা দিবালোকের মতো পরিষ্কার যে ১৯৭১ সালের যুদ্ধ ইসলামের বিরুদ্ধে ছিল না, ছিল জালিম পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে। মুক্তিযুদ্ধের সময় ‘মোনাফিকদের ক্ষমা নেই’ শীর্ষক একটি সরকারি প্রচারপত্রের শেষে লেখা ছিল, “আল্লাহ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, ‘সত্যের জয় ও মিথ্যার বিনাশ অবশ্যম্ভাবী।’ বাঙালি এতে সম্পূর্ণ বিশ্বাসী।” (হাসান হাফিজুর রহমান, বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ : দলিলপত্র, তৃতীয় খণ্ড, পৃ. ৩৩৩-৩৩৬)

এই প্রচারপত্রে ফুটে উঠেছে যে ঈমানি প্রেরণা নিয়েই মুসলমানরা ১৯৭১ সালে যুদ্ধ করেছে। যারা এ নিয়ে তর্ক করতে চায়, তারা আসলে বিভ্রান্তির শিকার। এ বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল স্বাধীনতার পরই, মুষ্টিমেয় লোকের মাধ্যমে। বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে এই বিভ্রান্তির ক্ষেত্র তৈরি হয়েছিল। বঙ্গবন্ধু স্বদেশে ফিরে এসে এই বিভ্রান্তি দূর করেন। আবুল মনসুর আহমদের ভাষায়, “এখানে শুধু এইটুকু বলিলেই যথেষ্ট হইবে যে একটা বিভ্রান্তি সত্যই সৃষ্টি হইয়াছিল। সে বিভ্রান্তি পাকিস্তানের পরিণাম, বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় জাতীয় স্বকীয়তা, ধর্মনিরপেক্ষতা ইত্যাদি সকল ব্যাপারে পরিব্যাপ্ত ছিল। ফলে তাহাদের মধ্যে এমন ধারণাও সৃষ্টি হইয়াছিল যে নিজেদের ‘মুসলমান’ ও নিজেদের রাষ্ট্রকে ‘মুসলিম রাষ্ট্র’ বলিলে সাধারণভাবে হিন্দুরা বিশেষভাবে ভারত সরকার অসন্তুষ্ট হইবেন।…

শেখ মুজিবের প্রত্যাবর্তন এক মুহূর্তে এই কুয়াশা দূর করিয়া দিয়াছিল। ১০ই জানুয়ারির ওই একটি মাত্র বক্তৃতার তুফানে বাংলাদেশের আসমান হইতে ওই বিভ্রান্তিকর কালমেঘ মিলাইয়া গিয়াছিল। শেখ মুজিব তাঁর বক্তৃতায় তিনটি গুরুত্বপূর্ণ এবং আশু প্রয়োজনীয় ঘোষণা করিয়াছিলেন : ১. আমি মুসলমান, আমার বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম রাষ্ট্র; (২) আমাকে মুক্তি দেওয়ার জন্য আমি মি. ভুট্টোর কাছে কৃতজ্ঞ। কিন্তু সে কৃতজ্ঞতার দরুন আমি দুই অঞ্চল মিলিয়া এক পাকিস্তান রাখিবার তাঁর অনুরোধ রাখিতে পারিলাম না। বাংলাদেশ স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রই থাকিবে; (৩) তাঁদের সৈন্যবাহিনী বাংলাদেশের জনগণের ওপর যে অকথ্য জুলুম করিয়াছে, দুনিয়ার ইতিহাসে তার তুলনা নাই।…শেখ মুজিবের এই তিনটি ঘোষণাই জনগণের অন্তরের কথা ছিল। বিপুল হর্ষধ্বনি করিয়া সেই বিশাল জনতা শেখ মুজিবের উক্তি সমর্থন করিয়াছিল।” (আবুল মনসুর আহমদ, আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর, খোশরোজ কিতাব মহল, বাংলাবাজার, ঢাকা, পৃ. ৬০৪-৬০৫)

ওই সমাবেশে বঙ্গবন্ধু ঘোষণা করেছেন, ‘বাংলাদেশ পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম অধ্যুষিত দেশ। ইন্দোনেশিয়ার পরেই এর স্থান। মুসলিম জনসংখ্যার দিক দিয়ে ভারতের স্থান তৃতীয় এবং পাকিস্তানের স্থান চতুর্থ। কিন্তু অদৃষ্টের পরিহাস। পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ইসলামের নামে এ দেশের মুসলমানদের হত্যা করেছে, আমাদের নারীদের বেইজ্জত করেছে। ইসলামের অবমাননা আমি চাই না।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমি মুসলমান, মুসলমান একবারই মরে, বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম রাষ্ট্র।’ তাঁর এই ভাষণটি বহু বিভ্রান্তির অবসান করেছিল। বিখ্যাত রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক ও সাহিত্যিক আবুল মনসুর আহমদ লিখেছেন, ‘চিন্তার বিভ্রান্তি এভাবে দূর হওয়ার অল্পদিনের মধ্যে কাজের বিভ্রান্তির অবসান করলেন মুজিব নেতৃত্ব। রেডিও-টেলিভিশনে কোরআন তেলাওয়াত, আসসালামু আলাইকুম, খোদা হাফেজ বহাল হলো। ‘ধর্ম ও জীবন’ সম্পর্কে কোরআন-হাদিসভিত্তিক সাপ্তাহিক আলোচনা আবার শুরু হলো। সরকারি ফাংশনেও মিলাদ মাহফিল হতে লাগল। জনগণ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল।’ (আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর, পৃষ্ঠা-৭৭২)।

এ প্রসঙ্গে ভারতের সাবেক পররাষ্ট্র সচিব জে এন দীক্ষিতের পুস্তকের কিছু পর্যবেক্ষণ পেশ করা যেতে পারে। তিনি তার Liberation and Beyond, Dhaka (UPL, 1999) পুস্তকের Person of Sheikh Mujibur Rahman অধ্যায়ের এক স্থানে লিখেছেন, ‘শেখ মুজিব অনুধাবন করেন যে এভাবেই বাংলার মুসলমানরা এক সম্মানজনক অবস্থানের অধিকারী হতে পারবেন। ধর্মীয়ভাবে তিনি গোঁড়া ছিলেন না বটে, কিন্তু তাঁর স্থির বিশ্বাস জন্মেছিল, বাংলার মুসলমানদের ইসলামী স্বাতন্ত্র্যই শুধুমাত্র হিন্দুপ্রধান ভারতের কাছ থেকে তাদের যথার্থ দাবি আদায়ে সক্ষম হবে।’ [He felt that it was the only way in which muslims of Bengal could ensure for themselves a place under the sun. He was not a religious extremist but was deeply convreced of the sanctity and relevance of the islamic identity of Bengali Muslims who he felt world not get a fair deal from Hindu dominated India. P.220]

আবুল মনসুর আহমদ আরো লিখেছেন : “এই সব বিভ্রান্তির মধ্যে প্রধান এই : ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতায় পাকিস্তান ভাঙিয়া গিয়াছে; ‘দ্বিজাতিতত্ত্ব’ মিথ্যা প্রমাণিত হইয়াছে।’ এটা সাংঘাতিক মারাত্মক বিভ্রান্তি।…অথচ প্রকৃত অবস্থাটা এই যে বাংলাদেশের স্বাধীনতায় পাকিস্তানও ভাঙে নাই; ‘দ্বিজাতিতত্ত্ব’ও মিথ্যা হয় নাই। এক পাকিস্তানের জায়গায় লাহোর প্রস্তাবের মতো দুই পাকিস্তান হইয়াছে।…পশ্চিমা জনগণ তাদের রাষ্ট্র—নাম রাখিয়াছে ‘পাকিস্তান’। আমরা পূরবীরা রাখিয়াছি বাংলাদেশ। এতে বিভ্রান্তির কোনো কারণ নাই।” (আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর, পৃ. ৬৩২, ৬৩৪)

সুতরাং আমরা বাঙালি, নাকি মুসলমান—এ বিতর্ক অর্থহীন। আগে বাঙালি, নাকি আগে মুসলমান—এ বিতর্কেরও যৌক্তিকতা নেই। এটাই সত্য যে আমরা একই সঙ্গে বাঙালি ও মুসলমান। আহমদ ছফা লিখেছেন : ‘বেশ কিছুদিন ধরে একটা অশুভ বিতর্ক আমাদের দেশে চলে আসছে। আমরা বাংলাদেশি না বাঙালি? আমরা মুসলমান, না শুধু বাঙালি? এগুলো আসলে বিতর্কের বিষয় হওয়া উচিত ছিল না। আমরা যেমন বাংলাদেশি, তেমনি আমরা বাঙালিও বটে। আমাদের মুসলমান পরিচয় বাঙালি পরিচয়কে যেমন খারিজ করে না, তেমনি বাঙালি পরিচয়ও মুসলমান পরিচয়কে খারিজ করে না।’ (আহমদ ছফা, নির্বাচিত প্রবন্ধ, মাওলা ব্রাদার্স, তৃতীয় মুদ্রণ, পৃ. ২৫৯-২৬০)

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
দয়া করে আপনার নাম লিখুন