বিবিসির প্রতিবেদন : সামাজিক মাধ্যমে আল্লামা আহমদ শফীর বক্তব্যের বিপুল সমর্থন

বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন, ০১৭৭৬৭৮৫৪৭৮, ০১৯৬৭৯৭৯০৯৩

জসিম শফিক

পোশাকের বাধ্যবাধকতা ও নারী শিক্ষা নিয়ে হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা আহমেদ শফীর সাম্প্রতিক দেওয়া এক বক্তব্য নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে চলছে আলোচনার ঝড়। আজ বিবিসি বাংলা তাদের এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই আল্লামা আহমদ শফীর বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানাচ্ছেন।

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে শুক্রবার এক মাহফিলে মেয়েদের স্কুল-কলেজে না দিতে এবং দিলেও সর্বোচ্চ ক্লাস ফোর বা ফাইভ পর্যন্ত পড়ানোর জন্য উপস্থিত মানুষের কাছে প্রতিশ্রুতি চান আল্লামা আহমদ শফী। তাঁর এই মন্তব্য সামাজিক মাধ্যম ও সংবাদ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়।

তবে তাঁর মন্তব্যকে ভুলভাবে উপস্থিত করা হয়েছে বলে পরে গণমাধ্যমে এক বিবৃতি দেন আল্লামা আহমদ শফী।

বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেন যে তার বক্তব্যে মেয়েদের শিক্ষার বিরোধিতা নয়, ইসলামের মৌলিক বিধান মেনে চলার ব্যাপারে তাদের সতর্ক হতে তাগিদ দিয়েছেন তিনি।

ইসলাম ধর্মে নির্দেশিত নীতিমালা অনুসারে নারীদের পর্দার বিধানের পক্ষে এবং সহশিক্ষার বিরুদ্ধে বক্তব্য রেখেছেন বলে বিবৃতিতে বলেছেন আল্লামা আহমদ শফী।

আল্লামা আহমদ শফী বক্তব্যে বলেছিলেন, ‘কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে মেয়েদের পড়াতে চাইলে বোরকা পরতে হবে এবং তাদের শিক্ষকও হতে হবে নারী।’

বিবিসি তাদের প্রতিবেদনে জানায়, উচ্চশিক্ষার জন্য কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে হলে বোরকা পড়তে হবে – আহমেদ শফীর এই মন্তব্য সম্পর্কে বিবিসি বাংলার ফেসবুক পাতায় মতামত জানতে চাওয়া হলে অধিকাংশ নারী আহমদ শফীর মন্তব্যের সমর্থন করে কমেন্ট করেন।

আল্লামা আহমদ শফীর মন্তব্যকে সমর্থন করা অধিকাংশ নারীই সমর্থনের কারণ হিসেবে পবিত্র কোরআনে বর্ণিত বিধান অনুযায়ী পোশাক পরার বিষয়টি উল্লেখ করেন।

রাবেয়া সুলতানা নামে একজন লিখেছেন, ‘এটা আহমদ শফীর কথা না, এটা কোরআনের কথা, আপনি যদি কোরআনকে ভালবাসেন ও আল্লাহকে ভয় করেন তাহলে ওনার কথা ঠিক আছে, এটা মানা না মানা আপনার ব্যাপার।’

তাহমিনা পাভিন নিপু লিখেছেন, ‘মেয়েদেরকে পর্দার ভিতরে থাকতে হবে এটাই বড় কথা। তবে জোর করে কারো ওপরে কিছু চাপিয়ে না দিয়ে আগে এদেরকে বুঝতে হবে যে পর্দাটা আসলে কি, পর্দা কেন করবো। আর এরা যখন এটার গুরুত্বটা বুঝতে পারবে তখন তারা নিজে থেকেই পর্দা করবে।’

নগণ্য সংখ্যক নারীই কেবল আল্লামা আহমদ শফীর মন্তব্যের বিরোধিতা করে কমেন্ট করেছেন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়।

অনেক নারী সামাজিক প্রেক্ষাপটের বিবেচনায়ও বোরকা পরা বা পর্দা করা প্রয়োজন বলে মত প্রকাশ করেন।

জাহান সোনিয়া নামে একজন মন্তব্য করেন, ‘এখনকার সময় কিছু কিছু মেয়েরা এমন সব জামা পড়ে দেখতে লজ্জা করে। তাই বোরখা পরলে অন্তত ইভটিজিং’র শিকার হবে না।’

আল্লামা আহমদ শফীর বক্তব্যের ব্যাপারে মতামত চেয়ে বিবিসি বাংলার ফেসবুক পেজে করা ওই পোস্টে পুরুষ মন্তব্যকারীদের সিংহভাগও আহমদ শফীর দৃষ্টিভঙ্গির সমর্থন করেই মন্তব্য করেন। নারীরা বোরকা পরলে বা পর্দা করলে ধর্ষণের ঘটনার হার কমে যাবে বলে অনেকেই মত প্রকাশ করেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
দয়া করে আপনার নাম লিখুন