বিভিন্ন দেশ ও সভ্যতায় নারীর বিয়ের বয়স

আহমাদ রাইদ

বিয়ের ক্ষেত্রে দেশ-জাতিভেদে আলাদা বৈশিষ্ট্য দেখা যায়। একজন মানুষ কোন বয়সে বিয়ে করছেন, তা নির্ভর করে ওই দেশের গড় আয়ের ওপর। দেখা যায়, ধনী ও নর্ডিক দেশ বা সুইডেনের মানুষ তিরিশের আগে বিয়ে করেন না। কিন্তু সেন্ট্রাল আফ্রিকায় বিয়ের গড় বয়স ২০। বিভিন্ন দেশের ২০০৯-২০১৪ সালের তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে একটি জরিপ চালানো হয়। এ জরিপের নাম দেওয়া হয় ‘মিন সিঙ্গুলেট এজ অ্যাট ম্যারিজ’। সেখানে বলা হয়েছে, জাতিসংঘের হিসাব মতে, ৩৯টি দেশের ২০ শতাংশ নারী মাত্র ১৮ বছর বয়সে এবং ২০টি দেশে ১৫ বছর বয়সে বিয়ে করে ফেলেন। আবার দুটো দেশের ১০ শতাংশ পুরুষ মাত্র ১৮তেই বিয়ে পিঁড়িতে বসেন।

আবার পৃথিবীর বেশ কিছু দেশে নারীদের বিয়ের বয়স বেড়েছে। সত্তর দশক থেকে ২০০০ নাগাদ এ বয়স ২১.৮ বছর থেকে ২৪.৭-এ উন্নীত হয়েছে।
[কালের কণ্ঠ অনলাইন : ৮ জুলাই, ২০১৬, ১৩:২৭ (সূত্র : বিজনেস ইনসাইডার)]
এখানে আমাদের এ কথা ভুলে গেলে চলবে না যে মহানবী (সা.)-এর সময়ে আরবের লোকদের গড় আয়ু ছিল ৪০ থেকে ৬০ বছর। তাই সে সময়ে তাড়াতাড়ি বিয়ে দেওয়ার প্রবণতা ছিল স্বতঃসিদ্ধ।

১৪০০ বছর তো অনেক দূরে, এই গত ১৮৮০ সাল থেকে ১৯২১ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের দেলোয়ারে বিয়ের সর্বনিম্ন বয়স ছিল ৭ বছর। মাত্র ১৩০ বছর আগে পৃথিবীতে বিভিন্ন দেশে বিয়ের সর্বনিম্ন বয়স কত ছিল? দেখুন-ডেনমার্ক-১২, ইংল্যাণ্ড-১৩, ফ্রান্স-১৩ পর্তুগাল-১২, রাশিয়া-১০, স্কটল্যান্ড-১২, স্পেন-১২, কানাডা-১২, আমেরিকার ফ্লোরিডা-১০, ক্যালিফোর্নিয়া-১০ বছর। লিস্টটা আরো অনেক বড়। আপনি চাইলে এখানে গিয়ে আরো দেখতে পারেন (http://chnm.gmu.edu/cyh/primary-sources/24)।

বর্তমান পৃথিবীতেও এমন বহু দেশ আছে, যেখানে মেয়েদের বেশ কম বয়সে বিয়ে করা হয়। নিচের লিঙ্কগুলোতে দেখুন :
• www.answering-christianity.com/gypsy_girl.htm
• www.answering-christianity.com/thai_girl.htm
• www.answering-christianity.com/aisha.htm#bible_prophets
• www.answering-christianity.com/aisha.htm#mary_age
• www.answering-christianity.com/aisha.htm#osama_bin_zaid
• www.answering-christianity.com/aisha.htm…
• www.answering-christianity.com/aisha.htm#her_parents

তথাকথিত সভ্য দুনিয়ার লোকেরা বৈধ পথ বাদ দিয়ে অবৈধ উপায়ে ঠিকই শিশুকন্যাদের ভোগ করছে। পরিসংখ্যান বলছে :
যুক্তরাষ্ট্রে ধর্ষণের শিকার হওয়াদের মধ্যে ৯১ শতাংশ মহিলা ও বাকি ৯ শতাংশ পুরুষ। প্রতি ৩ জনে একজন নারী ধর্ষিত হয়। ১৮ বছরের আগে ৪০ শতাংশ নারী এখানে ধর্ষণের শিকার হয়। প্রতি ১০৭ সেকেন্ডে একজন ধর্ষিতা হয় যুক্তরাষ্ট্রে। ১২-১৮ বছর বয়সী ২ লাখ ৯৩ হাজার শিশু-কিশোরীর ধর্ষিত হবার তথ্য পাওয়া গেছে। এখানে ৬৮ শতাংশ ধর্ষণের রিপোর্ট হয় না। ৯৮ ভাগ ধর্ষকের শাস্তি হয় না। এমনকি কারাগারেও নারীদের স্বস্তি নেই। ২ লাখ ১৬ হাজার নারী প্রতিবছর কারাগারে ধর্ষিত হয়। যুক্তরাজ্যেও ধর্ষণের ঘটনা ঘটে বিস্তর। তথ্য অনুযায়ী, বছরে প্রায় ৮৫ হাজার মহিলা ধর্ষিতা হন গ্রেট ব্রিটেনে। প্রতি বছর যৌন হয়রানির শিকার হন প্রায় ৪০ হাজার নারী। ইংল্যান্ড এন্ড ওয়ালসে প্রতিদিন ২৩০ জন ধর্ষিত হয়। প্রতি ৫ জন নারীর একজন ১৬ বছরের আগেই ধর্ষিত হয়। অন্যদিকে, দক্ষিণ আফ্রিকায় কমবয়সী ও শিশুকন্যার ধর্ষণের ঘটনা ঘটে সবচেয়ে বেশি। সেদেশে ধর্ষণের অপরাধে সাজাও কম। কেউ দোষী প্রমাাণিত হলে মাত্র ২ বছরের জেল দেওয়া হয়। এখানে প্রতিবছর ৫ লাখ ধর্ষণের মামলা হয়। ১১ বছরের নীচেই ১৫ শতাংশ মেয়ে ধর্ষণের শিকার হয়। ৫০ শতাংশ নারী ১৮ বছরের আগেই নিগৃহীত হন। (দৈনিক ইত্তেফাক, ৭ জুলাই, ২০১৫)।

শুধু ধর্ষণ নয়, শিশুকন্যাদের বিয়েও রীতিমতো সিদ্ধ আধুনিক পৃথিবীতে। পরিসংখ্যান বলছে, বিশ্বের ৪০ শতাংশ কন্যাশিশুদের বিয়ে হয় ভারতে। সমীক্ষায় দেখা গেছে, ভারতে বাল্যবিবাহের সংখ্যা ২ কোটি ৩০ লাখের মতো, যা বিশ্বের মোট বাল্যবিবাহের প্রায় ৪০ শতাংশ। (ভয়েচ ভেলের বরাতে দৈনিক সংগ্রাম : ২৪-১১-২০১৬)।

বর্তমান বিশ্বে ন্যূনতম কত বছর বয়সের নারীদের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করা বৈধ, দেখুন-মেক্সিকোতে ১২, কুরিয়াতে ১৩, কানাডায় ১৪, সুইডেনে ১৫ বছর বয়সী মেয়েদের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করা রীতিমতো আইনসিদ্ধ। (বিস্তারিত দেখুন : http://www.avert.org/sex-stis/age-of-consent)।

এ ছাড়া আর্জেন্টিনায় ১৩, নাইজেরিয়ায় ১৩, প্যারাগুয়ে ও পেরুতে ১৪, সেনেগালে ১৩, স্পেনে ১৩, পোপের শহর ভ্যাটিক্যান সিটিতে ১২ বছর বয়সী মেয়েদের সঙ্গ দৈহিক সম্পর্ক স্থাপন করা আইনসিদ্ধ। (বিস্তারিত দেখুন : http://chartsbin.com/view/hxj)।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
দয়া করে আপনার নাম লিখুন