বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসী হামলার বেশির ভাগই ঘটেছে অমুসলিমদের দ্বারা

বার্তা সংস্থা এফবিআই ডেটাবেইস থেকে বের হওয়া একটা প্রতিবেদন জানাচ্ছে, ১৯৮০-২০০৫ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে ঘটা মাত্র ৬ শতাংশ সন্ত্রাসী ঘটনায় মুসলিম সন্ত্রাসীরা জড়িত ছিল। যুদ্ধাক্রান্ত সিরিয়াকে বাদ দিলে ২০১৬-১৭ সালেও বিশ্বের মোট সন্ত্রাসী ঘটনার বেশির ভাগই ঘটেছে অমুসলিমদের দ্বারা (গ্লোবাল টেররিজম ইনডেক্স ২০১৮)।

এর আগে ব্রেইভিকের দায় সব সুইডিশকে নিতে হয়নি। ২০১১ সালে অ্যান্ডার্স বেহরিং ব্রেইভিক নামের এক ব্যক্তি নরওয়েতে গুলি ও বোমা ফাটিয়ে এক ঘণ্টা ধরে মোট ৭৭ জনকে হত্যা করেন। এর আগে নিজের ব্লগে তিনি মুসলিমবিদ্বেষী কথাবার্তা লেখেন। নরওয়ের মতো নিউজিল্যান্ডও শান্তির দেশ বলে পরিচিত। কিন্তু এই শান্তি সাম্প্রদায়িক ঘাতক মানসিকতা তৈরি ঠেকাতে পারেনি। ব্রেইভিককে জঙ্গি বা সন্ত্রাসী বলেননি সে দেশের আদালত। নিয়মিতভাবে পাখির মতো করে স্কুল-কলেজের বাচ্চাদের হত্যা করা মার্কিন ঘাতকেরাও নিতান্তই ‘অসুস্থ’। মুসলমান হলে নিরাপত্তা সমস্যা হয়ে দাঁড়ায় রাজনৈতিক ও সামরিক প্রশ্ন, আর অন্য ধর্মের হলে হয়ে দাঁড়ায় মানসিক সমস্যা।
ফ্রান্সের শার্লি হেবদোতে গুলি করে কয়েকজন হত্যার পর জরুরি অবস্থা জারি করা হয়, দায়ী করা হয় মুসলমান জনগোষ্ঠীকে। কিন্তু নিউজিল্যান্ডের এত বড় ঘটনার পর বিশ্বের বস্ত্রহীন সম্রাট ট্রাম্প সাহেব এখনো নির্বিকার।

ইসরায়েল প্রতিষ্ঠার জন্য ইউরোপে গণহত্যার শিকার হওয়া ইহুদি যুবকেরা যখন ফিলিস্তিনে বোমা ফাটাচ্ছিলেন, বন্দুক হাতে নাশকতা করছিলেন, তখন তাঁদের বলা হলো মুক্তিযোদ্ধা। আর ফিলিস্তিনিরা যখন তাদের হারানো জীবন ও জমি ফিরে পাওয়ার জন্য মুক্তিযুদ্ধ চালাচ্ছে, তখন তাদের নাম দেওয়া হলো ‘সন্ত্রাসী’।
এভাবেই মুসলমানরা মিডিয়া ট্রায়ালের শিকার।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
দয়া করে আপনার নাম লিখুন