বৃটেন জুড়ে ইসলামী শিক্ষার সৌরভ

শায়খ মাহমুদুল হাসান আল-আজহারি

(দুই)

বৃটেনে ইসলাম

বিশ্বের বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের শান্তিপূর্ণ অনন্য নজীর হল বৃটেন। ২০১১ সনের সর্বশেষ আদমশুমারিতে বৃটেনে ছোট-বড় অসংখ্য ধর্মে বিশ্বাসী মানুষের অবস্থানের তথ্য সুস্পষ্ট উঠে এসেছে। এসব সম্প্রদায়ের মধ্যে দ্বিতীয় বৃহত্তর জনগোষ্ঠী হল মুসলিম ও ইসলামে বিশ্বাসী জনগোষ্ঠী। সানডে এক্সপ্রেসের (আগষ্ট ২০১৫) প্রতিবেদন অনুযায়ী, গির্জায় যাতায়াতকরীর চেয়ে মসজিদে আগমনকারীর সংখ্যা বেশি বৃটেনে। ইসলামের সাথে বৃটেনের যোগাযোগ সু-প্রাচীন। ইংরেজ কবি Geoffrey choucer (১৩৪২) মুসলিম বিদ্বানদের কথা তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ Canterbury Tale এ উল্লেখ করেছেন। ক্রসেড যুদ্ধের পর রাণী এলিজাবেথ ১ উসমানী সুলতান মুরাদকে স্প্যনিশ রণতরীর বহরের বিরুদ্ধে বৃটেনকে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছিলেন। জন নিলসন প্রথম ইংরেজ যিনি ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন ১৫৮৩ সনে । ইংরেজিতে প্রথম কোরআন অনুবাদ করেন আলেকজ্যন্ডার রস ১৬৪৯ সনে। বৃটেনের সর্ব প্রথম কোন্ মসজিদটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল সে বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেলেও বৃটিশ আইনজ্ঞ ও প্রভাবশালী ব্যক্তি উইলিয়াম হেনরি কুইলিয়াম-র প্রতিষ্ঠিত ‘লিভরপুল মসজিদ’ টি অন্যতম প্রাচীন মসজিদ। ১৮৮৭ সনে তিনি এ মসজিদ ও “মদীনা হাউজ” নামে একটি এতীমখানা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। অষ্টাদশ ও উনবিংশ শতাব্দীতে অনেক খ্যাতিমান ব্যক্তি ইসলাম কবুল করেছিলেন ও উচ্চবিত্ত শ্রেণীতে ইসলাম বিস্তৃত হয়েছিল বলে ইতিহাস থেকে জানা যায়। ১৮৭৩ সনের পর হতে ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মাধ্যমে তাদের অনেক কর্মচারী ভারবর্ষ হতে ইংল্যান্ডে পাড়ি জমাতে শুরু করে। এভাবে ধীরে ধীরে বৃটেনে মুসলমানদের স্থায়ী বসবাসের প্রক্রিয়া শুরু হয়। বর্তমানে প্রায় ত্রিশ লক্ষ মুসলিম বৃটেনে বাস করছে যা মোট জনসংখ্যার ৪.৪% শতাংশ। তম্মধ্যে দক্ষিণ এশিয়া হতে আগতরাই সংখ্যাগরিষ্ট।
(বি. দ্র. : লেখাটি লেখকের ভাষারীতিতে প্রকাশিত হয়েছে)

লেখক : দাঈ, শিক্ষাবিদ ও কওমি তারুণ্যের আইকন

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
দয়া করে আপনার নাম লিখুন