ব্যাগভর্তি টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার ফিরিয়ে দিলেন দরিদ্র সিএনজি চালক

ডেইলি ইসলাম : নিজের সিএনজির যাত্রীদের ফেলে যাওয়া ব্যাগভর্তি টাকা স্বর্ণালঙ্কার মোবাইল কাপড় মালিকের বাড়িতে দিয়ে আসলেন দরিদ্র সিএনজি চালক। ঘটনাটি ঘটেছে কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে।

গার্মেন্ট কর্মী মোছা. ফজিলা খাতুন পরিবার পরিজনদের নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে মো. হারুন মিয়ার সিএনজিতে উঠেছিলেন। এক বছর পর গ্রামে ঈদ করতে তিনি ঢাকা থেকে ছুটে আসেন গ্রামের বাড়িতে। কিন্তু দুর্ভাগ্য! ভুলে সাথে আনা টাকা, স্বর্ণালঙ্কার, মোবাইল ফোন, কাপড়-চোপড় ও অন্যান্য মালামাল সমেত ব্যাগটিই তিনি ফেলে যান সিএনজিচালিত অটোরিকশায়।

ব্যাগটিতে ছিল তার দীর্ঘদিনের সঞ্চিত ৪৫ হাজার টাকা, স্বর্ণালঙ্কার, মোবাইল ফোন, পরিবার-পরিজনের জন্য কেনা ঈদের কাপড়-চোপড়সহ আরো কিছু মূল্যবান জিনিসপত্র। সবমিলিয়ে লাখ টাকার জিনিসপত্র ছিল ব্যাগটিতে। সিএনজিতে মেয়ে ফজিলা খাতুন টাকা, স্বর্ণালঙ্কার, মোবাইল ফোন, কাপড়-চোপড় ও অন্যান্য মালামাল ভর্তি ব্যাগটি ফেলে যাওয়ায় ফজিলার হতদরিদ্র রিক্সাচালক বাবা নির্বাক হয়ে যান। সহায় সম্বলহীন মায়ের কান্না আর বিলাপে জড়ো হন গ্রামবাসী। দিশেহারা হয়ে পড়েন ফজিলাও।

ফজিলা ও তার পরিবাবর যখন বিলাপ করছে, তখনই তাদের কাছে টাকা, স্বর্ণালঙ্কার, কাপড়-চোপড় ও অন্যান্য মালামাল ভর্তি ফজিলার ব্যাগটি নিয়ে হাজির হন সিএনজির চালক মো. হারুন মিয়া। তার সাথে সিএনজিযাত্রী পাঁচ যুবক। তারা ব্যাগটি তুলে দেন ফজিলা খাতুনের হাতে। সবকিছু ঠিক আছে কিনা পরীক্ষা করতেও পেলেন।

সিএনজিতে ফেলে যাওয়া ব্যাগটি পেয়ে ফজিলা তখন আত্মহারা। ব্যাগ খুলে দেখতে পান, তার নগদ ৪৫ হাজার টাকা, স্বর্ণালঙ্কার, পরিবার-পরিজনের জন্য কেনা ঈদের কাপড়-চোপড়সহ অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র সবই ঠিক আছে।

সিএনজি চালক মো. হারুন মিয়ার বাড়ি বাজিতপুর উপজেলার সুলতানপুর গ্রামে। যাত্রী নামিয়ে মঙ্গলবার (৪ জুন) রাত ১টার দিকে হারুন মিয়া সুলতানপুর বাজারে আসেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
দয়া করে আপনার নাম লিখুন