মালয়েশিয়া থেকে ফিরতে হচ্ছে লক্ষাধিক বাংলাদেশিকে

বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন, ০১৭৭৬৭৮৫৪৭৮, ০১৯৬৭৯৭৯০৯৩

মালয়েশিয়া থেকে প্রতারিত হয়ে দেশে ফিরছেন লক্ষাধিক বাংলাদেশি। আগামী ৩১ আগস্টের মধ্যে দেশে না ফিরলে জেল-জরিমানার ভয়ে রয়েছেন অনেকে।

ডেটলাইন ৩১ আগস্ট। এরমধ্যেই দেশটিতে বসবাসরত অবৈধ কর্মীদের নিজ নিজ দেশে ফেরত যেতে হচ্ছে আত্মসমর্পণের মাধ্যমে।

সম্প্রতি মালয়েশিয়া সরকারের চালু করা ‘থ্রি প্লাস ওয়ান’ স্কিমের আওতাতেও যে কেউ ইমিগ্রেশনে ৪০০ রিঙ্গিত জমা দিয়ে সসম্মানে নিজ নিজ দেশে ফিরে যেতে পারে। তবে অনেকেই অভিযোগ করছেন, ৪০০ জায়গায় তাদের কাছে ৯০০ থেকে হাজার বা তারও বেশি রিঙ্গিত দাবি করা হচ্ছে।

এ পরিমান অর্থ জোগাড় করার ক্ষমতাই তাদের নেই। ফলে তারা না-পারছেন মালয়েশিয়া ছেড়ে যেতে যেতে, আবার অবৈধ শ্রমিক হিসেবে সে দেশে থেকে গেলেও হেনস্তা হতে হচ্ছে পুলিশ ও ইমিগ্রেশন বিভাগের হাতে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৬ সালে দেশটিতে কর্মরত অবৈধ অভিবাসীদের বৈধতার ঘোষণা দেয় মালয়েশিয়া সরকার। ধাপে ধাপে সময় বাড়িয়ে দীর্ঘ আড়াইটি বছর চলে বৈধকরণ প্রক্রিয়া। শেষ হয় চলতি বছরের ৩০ জুন।

কিন্তুু এই সময়ের মধ্যে জন্ম নেয় অনেক প্রতারকচক্র। বৈধতা দূরের কথা বৈধ করার নাম করে খেটে খাওয়া অবৈধ কর্মীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয় এই প্রতারক চক্র।

বৈধ হওয়ার জন্য এসব প্রতারকদের হাতে অর্থকড়ি আর পাসপোর্ট তুলে দিলেও তাদের কপালে জুটেনি বৈধতা। এসব অবৈধদের সংখ্যা লাখেরও বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে। তারা এখন ইমিগ্রেশন এবং পুলিশের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, মালয়েশিয়া সরকার অবৈধ কর্মীদের বৈধ করার জন্য দুটি প্রোগ্রাম চালু রেখেছিল। একটি হচ্ছে রি-হিয়ারিং অন্যটি হচ্ছে ই-কার্ড। এ দুটি প্রোগ্রামকে ঘিরে গড়ে উঠেছিল শক্তিশালী একটি মিডলম্যান চক্র।

বৈধ হওয়া ও মালিকের কাছে কাজ পাওয়া, সব জায়গাতেই এ চক্রকে টাকা দিয়ে টিকে থাকতে হতো কর্মীদের। বৈধ করে দেয়ার নামে এরা জনপ্রতি ৫-১০ হাজার রিঙ্গিত হাতিয়ে নিয়েছে।

বাংলাদেশী এসব দালালরা রীতিমতো নিজেদের নামে ভিজিটিং কার্ড ছাপিয়ে প্রকাশ্যে এ ব্যবসা করেছেন। তারা বাংলাদেশি অবৈধ কর্মীর কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন তাদের বৈধ করে দেয়ার জন্য। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কর্মীদের বৈধ করতে পারেনি। এখন কর্মীদের টাকাও ফেরত দিচ্ছে না তারা। উল্টো কর্মীদের পুলিশের ভয় দেখানো হচ্ছে। এভাবে এ চক্রের কাছে জিম্মি হয়ে থাকতে হচ্ছে কর্মীদের।

এ ছাড়া মালিক তাদের অর্ধেক মজুরিতে কাজ করিয়ে নিচ্ছে। আবার বৈধতার নামে টাকা নিচ্ছে। ফলে হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে মাস শেষে নিজে খেয়ে পড়ে বাঁচতেই কষ্ট হচ্ছে অবৈধ কর্মীদের। মানবেতর জীবন কাটাতে হচ্ছে তাদের।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রবাসী বলেন, ১০ হাজারের বেশি বাংলাদেশি মিডলম্যান দেশটিতে কর্মী কিনছে আর বিক্রি করছে। তারা যে যেভাবে পারে সেভাবেই কর্মীদের শোষণ করছে। কখনও হাইকমিশনের নামে, কখনও পুলিশের হাত থেকে রক্ষা করে দেয়ার নামে আবার কখনও বৈধ করে দেয়ার নামে।

তিনি বলেন, কর্মীরা কোনোভাবেই মুক্তি পাচ্ছে না তাদের হাত থেকে। কর্মীরা বাধ্য হচ্ছে এ চক্রের কথামতো চলতে।

বৈধ হওয়ার আবেদন করতে কোনো কর্মীকে এক হাজার ২০০ রিঙ্গিত জমা দেয়া লাগলেও অনেকেই প্রতারকদের বিপুল পরিমাণ অর্থ দিয়ে বৈধ হওয়ার জন্য নিশ্চিত মনে বসে ছিলেন।

জেএস/

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
দয়া করে আপনার নাম লিখুন