মিশরের আদালতে প্রেসিডেন্ট মুরসির ইন্তেকাল

ডেইলি ইসলাম :  গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত মিশরের একমাত্র প্রেসিডেন্ট ড. মুহাম্মাদ মুরসি  ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন।

মিসরের প্রথম অবাধ ও গণতান্ত্রিক নির্বাচনে জয়ী হয়ে প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন ব্রাদারহুডের মুরসি। কিন্তু ২০১৩ সালে অবৈধভাবে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করে দেশটির সেনাবাহিনী।

মুসলিম ব্রাদারহুডের এ পৃথিবীখ্যাত নেতা আজ সোমবার (১৭ জুন) দেশটির আদালতে মামলার শুনানির সময় অবচেতন হয়ে সেখানেই ইন্তেকাল করেন।

ড. মুরসি সত্য ও ন্যয়ের এক অকুতোভয় সৈনিক ছিলেন। হাফেজে কোরআন ড. মুহাম্মাদ মুরসি উত্তর মিশরের শারক্বিয়া প্রদেশে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি কায়রো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকৌশল বিষয়ে স্নাতক ও সন্মান ডিগ্রী লাভ করেন। উচ্চ শিক্ষার্থে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যান এবং ডক্টরেট ডিগ্রী লাভ করেন। ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি, নর্থরিজে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন। ১৯৮৫ সালে মুরসি জাগাজিগ বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেয়ার উদ্দেশ্যে ক্যালিফোর্নিয়ার অধ্যাপনার চাকরি ছেড়ে মিশরে চলে আসেন।
মুরসি ২০০০ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন এ সময়ে তিনি মুসলিম ব্রাদারহুডের একজন নেতৃস্থানীয় ব্যাক্তিত্বে পরিণত হন। ২০১২সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।
তিনি বিপুল ভোটে বিজয়ী হওয়ার এক বছরের মাথায় তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী আব্দুল ফাওাহ সিসি অন্যায়ভাবে এক রক্তক্ষয়ী আন্দোলনের মাধ্যমে ড. মুরসিকে ক্ষমতাচুত্য করে অবৈধভাাবে ক্ষমতা দখল করে নেন। এরপরই তাহাকে জেলখানায় বন্দি করে রাখে ,দীর্ঘদিন কারারুদ্ধ থাকা অবস্হা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েন।

ড. মুরসি বার বার তার সুচিকিৎসার জন্য অনুরোধ করলেও মিশরের সরকার কর্ণপাত করেনি বরং তাকে বিভিন্ন কৌশলে হত্যার পরিকল্পনা করে।

আদালতে হাজিরা দিতে এসে আদালত বসা অবস্থায়ই আজ পূথিবীর মায়া ছেড়ে আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে চিরবিদায় নেন।

মুরসির ছেলে আহমদ নাজাল ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে লেখেন, আমার পিতা আল্লাহর কাছে চলে গেছেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
দয়া করে আপনার নাম লিখুন