মুফতি মুনাওয়ার পুনর্বহাল না হলে আলিমরা মসজিদ মাদরাসা হারাবে

বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন, ০১৭৭৬৭৮৫৪৭৮, ০১৯৬৭৯৭৯০৯৩

রোকন ইনআম লোবান

মুফতি মুনাওয়ার। ইতোমধ্যে আপনি তাঁকে চিনে থাকবেন। একজন হক্বানি আলিম, যুগসচেতন ইমাম, সুবচক খতীব ও অনলাইন-অফলাইনে জনপ্রিয় ইসলামের ভাষ্যকার।
সুদূর দিনাজপুরের সন্তান। দীর্ঘসময় বগুড়ার কেন্দ্রীয় মসজিদের খতীব ছিলেন। ক’বছর যাবত বারিধারা ডিপ্লোমেটিক জোনের বাইতুল আতীক মসজিদের জননন্দিত ও সর্ববন্দিত খতীব।

বিশুদ্ধ আরবি বাংলার পাশাপাশি যুতসই ইংরেজি আলাপনেও তিনি সচল। সদা হাসিমুখের এই সজ্জন আলিম তুমুল প্রিয়জন প্রায় সবার। ইউটিউবেও তিনি সক্রিয়। মিম্বরের মকাম হতে নিয়ে নিজস্ব মকান সব পরিসরে তিনি ইসলামের বাণী ছড়িয়ে দেন।

সাবলীল ও সমঝদার পন্থায় দাওয়াত দেওয়ার কৌশল লালন করেন এই তরুণ অরুণ। দেখতে কালোমানিকের মতো হলেও অত্যন্ত অতিথিপরায়ণ ও সমব্যথিতা ধারণ করেন এই সাদা কলিজার মানুষটি। তাই পরিচিত মহলে তিনি ভীষণ প্রিয়।

মুফতি মুনাওয়ার সাহেব সাদা মনের সরল মানুষ। কূটনৈতিক এলাকার খতীব হলেও কূটবুদ্ধির ব্যবহার জানেন না।

চলমান তাবলীগের সংকটে কূটাচালের কঠিন সব চাল চলছে। সর্বশেষ টঙ্গীর মোবারক মাঠে যে বর্বরতা হল, তা বর্ণনার বাইরে। তাবলীগ, ইলম, আমল ও দাওয়াতের মূল উৎস ও উসুল তো আলিমগণ। সেই আলিম ও অঙ্কুর তালিবদের সাথে যে মর্মান্তিক বীভৎসতা হয়েছে, তাতে ইসলাম নিরপেক্ষ মানুষজনও বেদনাবোধ করেছে। এই অসভ্য আক্রমণ ও নির্মম হত্যাযজ্ঞ দেখে শিউরে উঠা কি অপরাধ?

অন্য অনেকের মতো মুফতি মুনাওয়ার সাহেব এই হৃদয়বিদারক রক্তের স্রোত দেখে আহত হয়েছেন।

মুফতি মুনাওয়ার ইউটিউবে সমসাময়িক বিষয়ে আলোচনা করেন। তাতে প্রভূত কল্যাণও হচ্ছে মাশাআল্লাহ। সাড়াজাগানো সাপোর্টও তিনি পাচ্ছেন। মাদ্রাসার শিশু কিশোরদের সাথে অমানবিক বীভৎসতার প্রতিবাদ করে তিনি মানবিক, দাওয়াতি ও সংশোধনি একটি ভিডিও আপলোড করেন। তা বেশ প্রশংসিত হয়। প্রচুর শেয়ারও হয়।

দুই
পরে এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে তাবলীগের সাআদপন্থিরা মুফতি সাহেবকে মসজিদ থেকে অব্যাহতি দিতে বাধ্য করে।

মুফতি মুনাওয়ারকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার জন্য নিয়মমাফিক কোন সভা হয়নি। তাঁকে আত্মপক্ষ প্রমাণের সুযোগ দেওয়া হয়নি। এবং মাসের মাঝখানে সময় ও অন্য চাকরির অবকাশ না রেখেই চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
হিসাব করুন, এখানে একসাথে অসংখ্য অন্যায় জড়ো হয়েছে।
সব অন্যায্যতার মূলে তাবলিগের সাআদ কান্ধলভী আসক্তদের উগ্রতা।

বাংলাদেশের আরো অজস্র জায়গায় আলিমরা এই সাআদপন্থিদের আক্রমণ ও আক্রোশের শিকার।

আলিমদের আজ্ঞাবহ করার নীলনকশার বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। মুফতি মুনাওয়ার সাহেবের সাহসিকতা ও ইখলাস ও কুরবানীর জন্যে আমরা তাঁর জন্য দুআ ও সহায়তা নিয়ে পাশে থাকতে চাই। তবে, এটাই যথেষ্ট নয়।

মুফতি মুনাওয়ার সাহেবের চাকরি সাবজেক্ট নয়, সাবজেক্ট হল_ আলিমগণের অস্তিত্ব। আলিমগণ সম্মান ও মাথা উঁচু করে মসজিদ মাদ্রাসায় থাকবেন নাকি শয়তানদের সামনে জ্বী হুজুর করে বেইজ্জতির জীবন ধারণ করবেন? মুফতি মুনাওয়ার এখানে একটি নাম নয়, মুনাওয়ার আলমিগণের প্রতিভূ। মুফতি মুনাওয়ার দারুল উলুম দেওবন্দের ফতোয়ার উপস্থিতি।

মুফতি মুনাওয়ার বিচারপতি ত্বকি উসমানির চিন্তার ফসল। ইব্রাহীম বলওয়ার ইখলাসের ঢেউ মুফতি মুনাওয়ার। সম্মিলিত আলিমদের আওয়াজ মুফতি মুনাওয়ার। সকল ওয়াজাহাতি ইজতেমার মৌসুমী ফুল মুফতি মুনাওয়ার।

মুফতি মুনাওয়ারকে চাকরিচ্যুত করা মানে সকল খতীব ও আলিমকে চাকরি থেকে বের করে দেওয়া। তারা মুফতি মুনাওয়ার সাহেবের চাকরি বরবাদ করতে সক্ষম হলে, সবার চাকরি খোয়ানোর সুযোগ পাবে। আমি জানিনা, মুফতি মুনাওয়ারের মতামত কী?
সকল আলিম, খতীব, ইমাম ও মৌলিক তাবলীগের উচিত_ মুফতি মুনাওয়ারের চাকরি সম্মানের সাথে পুনর্বহাল করা। এবং মসজিদ কমিটির ক্ষমা প্রার্থনা করা বাঞ্ছনীয়।

তাবলীগের মুরুব্বি, আলিমদের সঙ্ঘ, খতীবদের প্রতি আমার অনুরোধ, আপনারা আলোচনা করে এই উগ্রপন্থী প্রান্তিকপন্থীদের অপযাত্রা থামাতে ব্যবস্থা নিন।
নাহয়, তারা তাবলীগের সাথেসাথে মসজিদ মাদ্রাসাসহ দীনের সকল শাখা নষ্ট করে ফেলবে।

এজন্য যা যা করা প্রয়োজন সবি করা জরুরি। কোন আলিমের চাকরি বা সম্মানে আঘাত করার এখতিয়ার কারো নেই, এটা প্রমাণ করে দিতে হবে।
মুফতি মুনাওয়ার পুনর্বহাল না হলে, আপনারা সবি হারাবেন।

ভাবুন! দয়া করে…

 

লেখক : কবি ও গবেষক

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
দয়া করে আপনার নাম লিখুন