যেভাবে রোহিঙ্গাদের ওপর চলে নিষ্ঠুর গণহত্যা

আর্মিদের অত্যাচার থেকে বাঁচতে মিয়ানমারের মিনগাই গ্রাম থেকে পালাচ্ছিল গ্রামবাসীরা। পথিমধ্যে সেনাদের হাতে ধরা পড়ে যায় তারা।

প্রথমে গুলি করা হয় এবং পরে ধারালো চাকু দিয়ে পুরুষদের মাথা বিচ্ছিন্ন করে ফেলে সেনারা। এরপর তারা আগায় নারী ও শিশুদের দিকে।

মঙ্গলবার প্রকাশিত জাতিসংঘের একটি ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের প্রতিবেদনে এভাবেই বর্ণনা করা হয়েছে রোহিঙ্গাদের ওপর চালানো মিয়ানমার সেনাদের নৃশংস হত্যাকান্ডের ঘটনা।

জাতিসংঘ মিয়ানমার সেনাদের এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডকে ‘আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন’ বলছে।

২০১৭ সালের অক্টোবর মাস থেকে মিয়ানমারের পশ্চিমের প্রদেশ রাখাইনে দেশটির সেনাবাহিনী এই নৃশংস গণহত্যা চালায়।

অত্যাচার ও গণহত্যা থেকে বাঁচতে প্রায় ৭ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নেয়।

জাতিসংঘের অনুসন্ধানে মিয়ানমার সেনাদের নিষ্ঠুরতা উঠে এসেছে। মিনগাই গ্রামে সেনারা শিশুদের গুলি করে হত্যা করে।

এছাড়া মায়ের কোল থেকে দুধের শিশুদের কেড়ে নিয়ে নদীর পানিতে নিক্ষেপ করে। কিছু শিশুকে আগুনে ফেলে দেয়া হয়।

পলায়নরত নারী ও বাচ্চা মেয়েদের গ্রামে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। তাদের ওপর চলে পাষবিক অত্যাচার।

তাদের ছুরিকাঘাত করা হয়। জীবিত অবস্থায় অঙ্গহানি করা হয়। গোপনাঙ্গে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়।

এছাড়া নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ অবস্থায় রেখে আগুন ধরিয়ে দেয়া সেনারা।

জাতিসংঘের ৩ সদস্যের প্যানেল এই মানবাধিকার প্রতিবেদন তৈরি করেছে।

৪৪৪ পৃষ্ঠার এই প্রতিবেদন জাতিসংঘের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় তদন্ত প্রতিবেদন। প্রতিবেদনে রোহিঙ্গাদের ওপর চালানো বিভিন্ন অত্যাচারের ঘটনা সবিস্তারে বর্ণিত হয়েছে।

এই প্যানেল জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে আহ্বান করেছে ওইসব নৃশংসতার জন্য মিয়ানমার সেনাবাহিনীকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে বিচারের সম্মুখীন করতে।

প্রতিবেদনে মিয়ানমার সেনাপ্রধানকে গণহত্যার জন্য প্রধান দায়ী ব্যক্তি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এছাড়া মিয়ানমারের ওপর অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপের সুপারিশ করা হয়েছে।

বিভিন্ন দোষী ব্যক্তির ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এবং তাদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার বিষয়ে উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে।

মানবাধিকার তদন্ত প্রতিবেদনের সাধারণ ধারার বাইরে গিয়ে এখানে আরো উল্লেখ করা হয়েছে যে, মিয়ানমার সেনাবাহিনীকে ঢেলে সাজাতে হবে।

সেনা কর্মকর্তা পরিবর্তন করতে হবে। এছাড়া দেশটির পার্লামেন্টে সেনাবাহিনীর যে নির্দিষ্ট সংখ্যক আসন বিদ্যমান আছে সেটার বিলুপ্তি ঘটাতে হবে।

প্রতিবেদনে প্যানেল মন্তব্য করেছে যে, দেশটির রাজনীতি ও ব্যবসার সাথে সেনাবাহিনীর যেকোন প্রকারের সম্পৃক্ততা দূর করতে হবে।

জেএস/

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
দয়া করে আপনার নাম লিখুন