শারীরিক পরিশ্রম না করায় মানুষের সমস্যা বাড়ছে

মানুষ এখন আর আগের মতো কায়িক শ্রম করছে না। বিশ্বজুড়ে এই নিষ্ক্রিয়তার স্তর কমানোর ক্ষেত্রে অগ্রগতি সামান্যই বলে সতর্ক করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ডব্লিউএইচও। বিবিসি অনলাইনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

ডব্লিউএইচওর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে, বিশ্বের এক চতুর্থাংশের বেশি মানুষ, অর্থাৎ ১৪০ কোটি মানুষ কোনো কায়িক শ্রম বা ব্যায়াম করে না। ২০০১ সাল থেকে এ পরিস্থিতির কোনো উন্নতি দেখা যায়নি।

শরীর না খাটালে বা পরিশ্রম না করলে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ে। এতে হৃদরোগ, টাইপ-২ ডায়াবেটিসসহ নানা রকম ক্যানসার হতে পারে।

ডব্লিউএইচওর প্রতিবেদনে জানানো হয়, কম পরিশ্রম করা দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাজ্যসহ বেশি আয়ের দেশগুলো রয়েছে। এশিয়ার দুটি অঞ্চল বাদে বিশ্বজুড়ে নারীদের বেশি নিষ্ক্রিয়তা লক্ষ করা যায়।

ডব্লিউএইচওর গবেষকেরা এ গবেষণা করতে ১৬৮টি দেশের ১৯ লাখ মানুষকে নিয়ে করা ৩৫৮টি গবেষণা তথ্য ব্যবহার করেছেন। গবেষণাসংক্রান্ত নিবন্ধ ‘দ্য ল্যানসেট পাবলিক হেলথ’ সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।

গবেষকেরা বলছেন, তাঁরা দেখেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মতো উচ্চ আয়ের দেশে শারীরিক পরিশ্রম না করা মানুষের হার ২০০১ সালের চেয়ে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ৫ শতাংশ বেড়েছে। ২০০১ সালে শারীরিক শ্রম করা মানুষের হার ছিল ৩২ শতাংশ, যা ২০১৬ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ৩৭ শতাংশে। তবে কম আয়ের দেশগুলোয় এ হার ১৬ শতাংশে স্থায়ী রয়েছে।
গবেষকেরা বলছেন, সপ্তাহে ১৫০ মিনিটের কম হালকা ব্যায়াম বা ৭৫ মিনিটের কম কঠোর পরিশ্রম করেন, তাঁদের নিষ্ক্রিয়দের দলে রেখেছেন গবেষকেরা।

ব্যায়াম না করা দেশগুলোর মধ্যে জার্মানি, নিউজিল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী।
পূর্ব ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া বাদে দক্ষিণ এশিয়া, মধ্য এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর আফ্রিকা ও উচ্চ আয়ের পশ্চিমা দেশগুলোয় নারীদের ব্যায়ামের হার কমছে। এর পেছনে নানা কারণের কথা উল্লেখ করেছেন গবেষকেরা। এর মধ্যে অতিরিক্ত সময় সন্তান লালনপালনের কর্তব্য, সাংস্কৃতিক দৃষ্টিভঙ্গি তাদের ব্যায়ামের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। যুক্তরাজ্যে ২০১৬ সালে ব্যায়াম না করা মানুষের হার পুরুষের ক্ষেত্রে ৩২ শতাংশ ও নারীদের ক্ষেত্রে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত দেখা যায়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সম্পদশালী দেশগুলোয় ব্যায়াম না করার কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে বসে থাকার চাকরি ও শখ। এর বাইরে যানবাহন বৃদ্ধির মতো বিষয়গুলো রয়েছে। তবে স্বল্প আয়ের দেশগুলোয় এখনো মানুষকে শারীরিক পরিশ্রম করতে হয় বা হেঁটে ও গণপরিবহনে যাতায়াত করতে হয়।

ডব্লিউএইচওর প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়, ডব্লিউএইচও ২০২৫ সাল নাগাদ শারীরিক নিষ্ক্রিয়তার হার ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার যে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, তা অর্জন করা সম্ভব হবে না।

গবেষণা নিবন্ধের নেতৃত্ব দেওয়া গবেষক রেজিনা গাথহোল্ড বলেছেন, বৈশ্বিক অন্যান্য স্বাস্থ্য ঝুঁকির মতো, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তার হার কমছে না। সুস্থ থাকার জন্য যতখানি ব্যায়াম করা দরকার, প্রায় এক-চতুর্থাংশ প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি তা করছেন না। যে অঞ্চলে শারীরিক নিষ্ক্রিয়তার হার বাড়ছে, সেখানে গণস্বাস্থ্য ও বিভিন্ন রোগ ব্যাধি নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে উদ্বেগ বাড়ছে।

গবেষকেরা সরকারগুলোকে যথাযথ অবকাঠামো নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। খেলার জন্য মাঠ এবং হাঁটা ও সাইকেল চালানোর মতো সুযোগ তৈরির কথা বলেছেন।
সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক মেলোডি ডিং বলেছেন, অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে জীবনধারার পরিবর্তন হয় এবং অলস আচরণের ঝুঁকি বাড়ে। মানুষগুলোকে সক্রিয় রাখতে সরকার বাড়তি কিছু করতে পারে। গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নতির পাশাপাশি হাঁটা ও সাইকেল চালানোর সুব্যবস্থা করা উচিত।

জেএস/

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
দয়া করে আপনার নাম লিখুন