হজের সফরে মৃত্যুও সৌভাগ্যের

যুবায়ের আহমাদ

মৃত্যু প্রত্যেকটি প্রাণীর ইহলৌকিক জীবনের চূড়ান্ত পরিণতি। যেখানেই থাকুক না কেন তাকে মৃত্যু বরণ করে নিতেই হবে। তা হজের সফরেও হতে পারে। ইতোমধ্যে ৪০ জন বাংলাদেশিসহ অনেক হজপ্রত্যাশী ইন্তেকাল করেছেন। আসলে মৃত্যু কোনো হাজীর কাছেই অপ্রত্যাশিত নয়। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা হাজী সাহেবরা সাধারণত সব ধরনের দেনা-পাওনা পরিশোধ করেই হজের সফরের জন্য বের হন। কাফনের কাপড়ের মতো ইহরামের সাদা কাপড়ও যেন মৃত্যুর প্রস্তুতির কথাই মনে করিয়ে দেয়। মক্কা অথবা মদিনায় মৃত্যুবরণ করা হাজীদের কাছে বরাবরই মর্যাদার বিষয় হিসেবে বিবেচিত। সব ধরনের শিরক থেকে মুক্ত নেককার কোনো বান্দা যদি পবিত্র দুই নগরীর (মক্কা ও মাদিনা) কোনো একটিতে মৃত্যুবরণ করেন তাহলে তা হবে অতিরিক্ত মর্যাদার বিষয়। সে জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাবে। তার হাশর হবে জান্নাতি মানুষ হিসেবে। রসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি মক্কা অথবা মদিনায় মৃত্যুবরণ করে সে (জাহান্নাম থেকে) মুক্তি লাভ করে হাশরের ময়দানে উঠবে। (বায়হাকি; শুয়াবুল ইমান: ৩/৪৯০)।

একজন মানুষ হজ থেকে ফিরে এলে যেমন নিষ্পাপ হয়ে ফিরে তেমনি হজে গিয়ে মৃত্যুবরণ করলেও তা সৌভাগ্যের মৃত্যু। সৌভাগ্যের দরজাগুলো খুলে যায় হাজীর জন্য। এমনকি সেই মৃত্যু যদি কোনো দুর্ঘটনামুক্ত স্বাভাবিক মৃত্যু হয় তবুও হজের সফরের সেই মৃত্যু ফজিলতের। হজের আজন্ম স্বপ্ন পূরণের আবেগঘন সেই মুহূর্তেই যদি কারও কাছে মৃত্যুর অবধারিত পরিণতি হাজির হয়ে যায় তাহলে তিনি হজ না করেও তিনি এর সওয়াব পেতে থাকবেন অনবরত। রসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি হজের উদ্দেশে বের হলো; অতঃপর সে মারা গেল, তার জন্য  কেয়ামত পর্যন্ত হজের নেকি লেখা হতে থাকবে। (সহিহুত তারগিব ওয়াত তারহিব: ২/৫; হাদিস নং: ১১১৪)।

আর সেই মৃত্যু কোনো দুর্ঘটনার কারণে হলে তো কোনো কথাই নেই। হজের সফরে কোনো দুর্ঘটনার কারণে মৃত্যু হলে সেই হাজী তালবিয়া (লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক…) পাঠরত অবস্থায় হাশরের ময়দানে উত্থিত হবে। জনৈক মুহরিম (হজের ইহরামরত) ব্যক্তিকে তার সওয়ারি ভূপাতিত করলে তার মৃত্যু হয়। তখন রসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘তোমরা তাকে বরই পাতার পানি দ্বারা গোসল দাও এবং তার দুটি কাপড়েই তাকে কাফন পরাও। তার মাথা ও চেহারা ঢাকবে না। কেননা, সে  কেয়ামত দিবসে তালবিয়া পাঠ করতে করতে উত্থিত হবে। (আবু দাউদ: ৩/২১৩)।

কখনো কখনো হজের সফরের মৃত্যু সরাসরি শহীদী মৃত্যুতে পরিণত হয়। ক্রেন ধস অথবা অগ্নিকাণ্ডের মতো কোনো দুর্ঘটনায় মৃত্যু হলে তা শহীদী মৃত্যু বলে গণ্য হবে। রসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আল্লাহর পথে নিহত হওয়া ছাড়াও সাত প্রকার শহীদ রয়েছে। ১. মহামারীতে মৃত্যুবরণকারী ব্যক্তি ২. পানিতে নিমজ্জিত ব্যক্তি ৩. শয্যাশায়ী অবস্থায় নিহত ব্যক্তি ৪. পেটের রোগে মৃত্যুবরণকারী ৫. অগ্নিদগ্ধ ব্যক্তি ৬. যে ব্যক্তি ধ্বংসাবশেষের নিচে পড়ে মারা যায় ৭. সন্তান প্রসব করতে গিয়ে মারা যাওয়া নারী। (আবু দাউদ: ৩/১৫৬)।

লেখক : কলামিস্ট, গবেষক; জয়েন্ট এডিটর, ডেইলি ইসলাম।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
দয়া করে আপনার নাম লিখুন