‌আমার বাবার একটু মাংস হলেও এনে দেন

বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন, ০১৭৭৬৭৮৫৪৭৮, ০১৯৬৭৯৭৯০৯৩

‘যেরকম হোক… কালি হোক, একটু যদি মাংস থাকে, মাংসের ফোঁটাও থাকে। আমার বাবারে এনে দেন। আমি কোলে নিমু। দরকার হয় আমি ছালি (ছাই) ধরমু, এমনে গায়ে মাখুম।’

পুরান ঢাকার চকবাজারে পাঁচটি বহুতল ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিখোঁজ হওয়া সন্তানের খোঁজে এভাবেই সাংবাদিকদের সামনে কাকুতি-মিনতি করছিলেন এক মা। কাঁদতে কাঁদতে তিনিই জানাচ্ছিলেন, তার ছেলের নাম ফুয়াদ, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে ফোর্থ সেমিস্টারে পড়ছিলেন।

আবার এদিক-ওদিক তাকিয়ে লোকজনকে জিজ্ঞেস করতে থাকেন, ‘আমার বাবা আইবো?’ কাতর স্বরেই বলতে থাকেন, ‘আমার বাবারে একটু আইনা দেন না।’ এসময় কলিজার টুকরা সন্তান ফুয়াদের পাসপোর্ট সাইজের একটি ছবি সবাইকে দেখাচ্ছিলেন তার মা।

তখনো তার ছেলের পরিচয় জানা ছিল না বিধায় পাশ থেকে কেউ একজন জানতে চাইলে মা বলেন, ‘আমি সব কমু, বিরক্ত অমু না। আমার বাবার লাইগা সব কমু। আমার বাবার নাম ফুয়াদ। নর্থ সাউথ ভার্সিটিতে পড়ে। ফোর্থ সেমিস্টারে উঠছে।’

ছবির ওপর হাত বোলাতে বোলাতে বলেন, ‘আমার বাবা। কোনো আড্ডা-ফাড্ডা দিতো না। আমার বাবা ভার্সিটি থেকে আওয়ার সময়, কী অইছে আমার বাবার?’

ফুয়াদের ছবির দিকে তাকিয়েই মা বলতে থাকেন, ‘বাবারে, তোমার কিছু অইবো না।’ আবার সবাইকে ছেলের ছবি দেখিয়ে বলতে থাকেন, ‘সবাই তোমারে খুঁজে দিবো। ইনশাল্লাহ সবাই খুঁজে দিবো। কতো মানুষ…কোন দিকে সরায়ালায়, কোন দিকে যায় গা।’

‘আমার বাবারে একটু খুঁইজা দেন না’ বলে প্রায় গড়িয়ে পড়ছিলেন মা।

ভয়াবহ এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৭০ জন নিহত হওয়ার খবর মিলেছে। হদিস মিলছিলোনা ফুয়াদসহ কয়েকজনের।

উল্লেখ্য, চকবাজারের নন্দকুমার দত্ত রোডের শেষ মাথায় চুড়িহাট্টা শাহী মসজিদের পাশে ৬৪ নম্বর হোল্ডিংয়ের ওয়াহিদ ম্যানশনে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। আবাসিক ভবনটিতে কেমিক্যাল গোডাউন থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
দয়া করে আপনার নাম লিখুন