এবার সাগরে পারমাণবিক পোসেইডন ড্রোন নামাচ্ছে রাশিয়া

ঢাকা:অস্ত্রের দাপট নব উদ্যমে এগিয়ে নিচ্ছে বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি রাশিয়া। দেশটি তাদের অস্ত্রাগারে সবচেয়ে শক্তিশালী অত্যাধুনিক প্রযুক্তির হাইপারসনিক কিনঝাল ক্ষেপণাস্ত্র যোগ করেই থেমে থাকেনি: এবার পোসেইডন নামের এক পারমাণবিক অস্ত্রবাহী ড্রোন নামাচ্ছে সাগরে। একটি দুটি নয়, বরং গুনে গুনে ৩২টি ড্রোন নামাচ্ছে পুতিনের দেশ।

‘তোপোলেভ টিইউ-২২২এম৩ বোমা’ অত্যধিক দ্রুতগতির সঙ্গে বহনে সক্ষম কিনঝালে আকাশপথে পারমাণবিক হামলায় অন্যদের থেকে অনেক গুণ শক্ত অবস্থানে যাওয়াসহ স্থলপথেও অনেক এগিয়ে গেছেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তবে জলপথেও পিছিয়ে ছিলেন না তিনি। তারপরও ভয়াবহ যুদ্ধের জন্য নৌবাহিনীকে দিয়ে নামাতে চাইছেন ৩২টি পারমাণবিক পোসেইডন। আর বড় ধরনের এই অস্ত্রের মহড়াটি নামলে প্রধান পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্রসহ গোটা বিশ্বের মনোযোগের কেন্দ্র হয়ে উঠবে। এমনকি যুদ্ধ সক্ষমতা নিয়ে চিন্তায়ও পড়ে যেতে পারে যুক্তরাষ্ট্র।

শনিবার (১২ জানুয়ারি) রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্ভরযোগ্য সূত্র স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছে, এবার সাগরে প্রতিরক্ষার দুর্গ গড়তে রুশ নৌবাহিনী ৩০টিরও বেশি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন পারমাণবিক পোসেইডন ড্রোন নিয়ে ঘাঁটি বাঁধতে পরিকল্পনা করছে।

সংবাদমাধ্যম বলছে, পোসেইডন বহনকারী দুইটি সাবমেরিন দেশটির উত্তর নৌবাহিনীর কেন্দ্র থেকে পুরো সেবা দিতে পারেব বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া আর দুইটি সাবমেরিন প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবাহিনী কেন্দ্রে যোগ দেবে।

সূত্র বলছে, বড় ধরনের প্রতিটি সাবমেরিনে সর্বোচ্চ আটটি করে পোসেইডন থাকবে। এ হিসেবে চারটি সাবমেরিনে ভাগ হবে ৩২টি পোসেইডন। আর যুদ্ধের জন্য যেদিকে যাওয়া হবে, সেদিকেই অন্তত একটি সাবমেরিন বা আটটি পোসেইডনের হামালা হবে। প্রয়োজনে ১৬ পোসেইডন দুই সাবমেরিনে একসঙ্গে কাজ করতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

জানা গেছে, দেশটির সেভমাস শিপইয়ার্ডে বিশেষ উদ্দেশে বানানো হয়েছে পারমাণবিক সক্ষমতাসম্পন্ন সাবমেরিন ‘খবরভস্ক’। আর এই খবরভস্ক এখন বহন করবে অর্গানিক বহনে সক্ষম ও পারমাণবিক সক্ষমতাসম্পন্ন আটটি ড্রোন। কেননা, চারটি সাবমেরিনের মধ্যে খবরভস্কও একটি।

এছাড়া বিশেষ উদ্দেশে বানানো কয়েক সাবমেরিন এবং রুশ নৌবাহিনীর ক্রুজার অপারেশনে ব্যবহৃত ৯৪৯এ প্রকল্পের পারমাণবিক ক্ষমতাসম্পন্ন ডুবোজাহাজ ‘যথাযথ আপগ্রেডের পর’ পোসেইডন দিয়ে নামানো হবে।

এর আগে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পোসেইডনের একটি ভিডিও প্রকাশ করেছিল এবং তাতে বলেছিল- সমুদ্রে ৩০০ ফুটব্যাপী ঢেউ সৃষ্টিকারী রাশিয়ার ‘ডুমসডে মেশিন’। যার অফিসিয়াল নাম পোসেইডন। এটি সম্ভবত এখন পর্যন্ত তৈরি করা সবচেয়ে শক্তিশালী পারমাণবিক অস্ত্র।

গত বছেরর ১ মার্চ রাশিয়ার পার্লামেন্টে জাতির উদ্দেশে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন উল্লেখ করেছিলেন, প্রথমবারের মতো পারমাণবিক সক্ষমতাসম্পন্ন ডুবোজাহাজ (নাম দেওয়া হয়নি তখন) তৈরিতে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে রাশিয়া। যা গতানুগতিক এবং পারমাণবিক ওয়ারহেডস উভয়ই বহনে সক্ষম। এছাড়া এটি শত্রুর অবকাঠামো সুবিধা, বিমানঘাঁটি, উপকূলীয় বিভিন্ন এলাকাসহ অন্যান্য টার্গেট মুহূর্তেই ধ্বংস করে দিতে সক্ষম।

এছাড়া দেশটির ফেডেরাল অ্যাসেম্বলিতে ভাষণে পুতিন বলেছিলেন, ডুবোজাহাজটি অত্যাধিক গতির সঙ্গে গভীর থেকে গভীরতম দূরত্ব অতিক্রম করতে সক্ষম হবে।

এদিকে, রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, পোসেইডন ড্রোন তাদের অস্ত্রাগারে যোগ হবে। যেগুলো পারমাণিক ক্ষমতাসম্পন্ন সাবমেরিন দিয়ে চালানো হবে এবং তথাকথিত মহাসাগরীয় বহুমুখী পদ্ধতি বাস্তবায়ন করবে। এছাড়া ওয়েবসাইটে ভিডিও প্রকাশ করে ভোটের মাধ্যমে এই ড্রোনের নাম নির্ধারণ করে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্র এও জানিয়েছে, রাশিয়ার অস্ত্রাগারে নামা পোসেইডনগুলোর প্রতিটি সর্বোচ্চ দুই মেগাটন ওজনের পারমাণবিক ওয়ারহেডসহ বিভিন্ন যুদ্ধসামগ্রী বহন করে শত্রু নৌবাহিনীর ভিত্তিকে ধ্বংস করে দিতে সক্ষম।

তাছাড়া ভিডিওটি দেখে এর ওপর ভিত্তি করে প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক এইচআই সাটন ব্যাখ্যা করেছিলেন, একেকটি পোসেইডন প্রায় দুই মিটার (৬.৫ ফুট) প্রশস্ত এবং ২০ মিটার (৬৬ ফুট) দীর্ঘ হতে পারে।

তবে তখন ওই ভিডিটি দেখে এর বৈধতা ও বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন আমেরিকান পারমাণবিক অস্ত্র বিশেষজ্ঞরা। তারা মন্তব্য করেছিলেন- এমন কোনো কিছু আছে কী-না, তা নিয়ে তারা সন্দিহান।

কিন্তু আমেরিকান বিজ্ঞানীদের ফেডারেশন নিউক্লিয়ার ইনফরমেশন প্রজেক্টের ডিরেক্টর হ্যান্স ক্রিসটেন্স বলেছিলেন, ডিভাইসটি ভয়ঙ্কর এবং প্রাণঘাতী একটি পারমাণবিক অস্ত্র হয়ে উঠতে পারে।

অপরদিকে, ২০১৮ সালের মার্চে সর্বপ্রথম বিশ্বের সর্বাধুনিক হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র কিনঝালের সফল পরীক্ষা চালায় রাশিয়া। তখন পুতিন বলেছিলেন, হাইপারসনিক ক্ষেপাণাস্ত্র প্রতিযোগিতায় রাশিয়া অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে ১৫ বছর এগিয়ে থাকবে। সেইসঙ্গে রাশিয়া এটি নিয়ে ১০টি অত্যাধুনিক মরণাস্ত্র তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। তার মধ্যে কিনঝালটি ‘তোপোলেভ টিইউ-২২২এম৩ বোম্বার’ বহন করে অত্যাধিক দূরগতির সঙ্গে। যা বিশ্বের ইতিহাসে সর্বাধিক শক্তি সম্পন্ন ক্ষেপণাস্ত্র। এছাড়া এটির গতি শব্দের চেয়ে আট গুণ বেশি। ক্ষেপণাস্ত্রটি মুহূর্তেই গতি পাল্টিয়ে প্রতিপক্ষকে পরাস্ত করতে সক্ষম।

কেনো রাশিয়া অস্ত্রক্ষেত্রে এভাবে অত্যধুনিক প্রযুক্তির দিকে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে? কী ধ্বংসযজ্ঞের উদ্দেশ্য তাদের? বিষয়টি পুরো স্পষ্ট নয়, তবু ভয়াবহ কোনো যুদ্ধতো হবেই, এমন ধারণা-প্রশ্ন নিয়ে বলতে পারেন গোটা বিশ্ব এখন উদ্বিগ্ন। এ থেকে বাদ পড়ার কথা নয় ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেশও।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
দয়া করে আপনার নাম লিখুন