‘রুটিন’ অভিযান ঘিরে আতঙ্ক বাড়ছে কাশ্মীরে

সরকারের দাবি, নেহাতই ‘রুটিন’ বিষয়। কিন্তু পুলওয়ামা কাণ্ডের পরে তা থেকেই বারবার আতঙ্ক ছড়াচ্ছে কাশ্মীরে। দীর্ঘস্থায়ী অশান্তি থেকে পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘর্ষ, অনেক সম্ভাবনাই ঘুরছে উপত্যকার বাসিন্দাদের মাথায়।

গত রাতে অভিযান চালিয়ে অন্তত ২০০ জনকে গ্রেফতার করেছে বাহিনী। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন জম্মু-কাশ্মীর লিবারেশন ফ্রন্ট নেতা ইয়াসিন মালিক ও জামাত-ই-ইসলামি নেতা আব্দুল হামিদ ফয়েজ। পাশাপাশি কাশ্মীরে আরও ১০০ কোম্পানি আধাসেনা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে নরেন্দ্র মোদী সরকার। ওই বাহিনীকে আকাশপথে শ্রীনগরে নিয়ে যাওয়া হবে। এর মধ্যে থাকছে ৩৫ কোম্পানি বিএসএফ। আসছে আইটিবিপি-ও। ২০১৬ সালে কাশ্মীরে বিএসএফ পাঠানো হলেও এক সপ্তাহ পরই তাদের ফিরিয়ে নেওয়া হয়। ১৪ বছর পরে কাশ্মীরে মোতায়েন হতে চলেছে  বিএসএফ। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সূত্র বলছে, ভোটের আগে এটাও ‘রুটিন’ বিষয়।

রাতের গ্রেফতারির খবর পাওয়া মাত্রই আজ পেট্রোল পাম্প, ওষুধের দোকান ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর দোকানে ভিড় জমান কাশ্মীরিরা। ভারতের শ্রীনগরের সনানতনগরের বাসিন্দা মুদাসির মুহাম্মদ বললেন, ‘‘মনে হচ্ছে লড়াই শুরু হতে পারে। তাই জ্বালানি, ওষুধ, খাবার মজুত রাখা ভাল।’’ লাল চকের এক পেট্রোল পাম্প মালিক জানালেন, সকাল থেকে কয়েকশো গাড়িতে পেট্রোল ভরেছেন। তাঁর কথায়, ‘‘কী হবে সেটাই কেউ বুঝতে পারছে না।’’ শ্রীনগরের মেডিক্যাল কলেজে বাতিল হয়েছে সব কর্মীর শীতকালীন ছুটি। আগামিকালের মধ্যে হাসপাতালের জন্য প্রয়োজনীয় মেডিক্যাল সামগ্রী সংগ্রহ করতে সব জেলাকে নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন।

গত কাল রাত দেড়টা পর্যন্ত বায়ুসেনার বিমানের ওড়ার শব্দে আতঙ্ক আরও বাড়ে। ভারতের বায়ুসেনারা অবশ্য জানিয়েছে, ‘রুটিন’ মহড়া হয়েছে। কিন্তু আতঙ্কটা থেকেই যাচ্ছে। সুত্র : আনন্দবাজার

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
দয়া করে আপনার নাম লিখুন