অনৈতিক কাজে বাধা দেওয়ায় তোপের মুখে সাংসদ

বাংলাদেশের নোয়াখালীতে একজন সংসদ সদস্য পার্কে দৃষ্টিকটু ভঙ্গিতে বসে সময় কাটাতে থাকা কলেজ পড়ুয়া যুগলদের ভর্ৎসনা করেন। যেহেতু তারা ক্লাস ফাঁকি দিয়ে  সেখানে গিয়েছিলো, তাই তিনি তাদের অভিভাবকের ফোন নাম্বারা জানতে চান।  বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে গেলে একটি মহল তাকে নিয়ে নানা প্রোপাগাণ্ডা চালাচ্ছে।

ঐ ঘটনা নিয়ে তিনি বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “ঘটনাক্রমে ঐদিন পার্কটির সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় স্কুল বা কলেজের পোশাক পরা অবস্থায় দু’টি যুগলকে দৃষ্টিকটু ভঙ্গিতে বসে থাকতে দেখলে সেখানে গিয়ে তাদের ভর্ৎসনা করি এবং সেখান থেকে চলে যেতে বলি। আর সাবধান করার জন্যই দ্বিতীয় যুগলটির ছবি ফেসবুকে পোস্ট করি।”

পুলিশ সাথে করে পার্কে বসা যুগলদের সতর্ক করা একজন জনপ্রতিনিধির দায়িত্বের মধ্যে পড়ে কিনা – এমন প্রশ্নের জবাবে মি. চৌধুরী বলেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সংগঠক হিসেবে এলাকার নৈতিক অবক্ষয় রোধে ঐ ধরণের পদক্ষেপ নিয়েছিলেন তিনি। তিনি বলেন, “আমার সামাজিক দায়িত্ববোধ থেকে সেদিন সেখানে উপস্থিত কিশোর-কিশোরীদের সতর্ক করেছিলাম।”

এ ঘটনার পর দেশব্যাপী একটি কুচক্রি মহল প্রশ্ন তোলার চেষ্টা করছে যে, এটি একজন সাংসদের দায়িত্ব কিনা?

ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে চিন্তা করলে দেখা যায়, অনৈক কাজে বাধা দেওয়া শুধু একজন সাংসদেরই নয়, বরং প্রতিটি নাগরিকেরই দায়িত্ব। তা না হলে একটি জাতির শ্রেষ্ঠত্ব কোথায়? পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, তোমরাই শ্রেষ্ঠ জাতি, যাদের উদ্ভব ঘটানো হয়েছে মানবজাতির কল্যাণের জন্য। তোমরা সৎ কাজের আদেশ করবে ও অসৎ কাজে নিষেধ করবে। এবং আল্লাহর প্রতি ইমান আনবে। সুরা আল ইমরান, আয়াত ১১০

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, জেনে রেখো! তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল; আর তোমরা প্রত্যেকেই নিজ অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। অতএব ইমাম, যিনি জনগণের দায়িত্বশীল, তিনি তার অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবেন। পুরুষ গৃহকর্তা তার পরিবারের দায়িত্বশীল; সে তার অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। নারী তার স্বামীর পরিবার, সন্তান-সন্ততির উপর দায়িত্বশীল, সে এসব সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। কোন ব্যক্তির দাস স্বীয় মালিকের সম্পদের দায়িত্বশীল; সে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। অতএব জেনে রাখ, প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং তোমাদের প্রত্যেকেই নিজ নিজ দায়িত্বাধীন বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। (বুখারি, হাদিস : ৭১৩৮)

উপরোক্ত হাদিস দ্বারা আমরা বুঝতে পারি যে, একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে এই সাংসদও তার দায়িত্ব পালন করেছেন। সবার ঘরে ঘরে গিয়ে অনৈতিক কাজে বাধা দেওয়া হয়ত তার পক্ষে সম্ভব নয়, কিন্তু প্রকাশ্যে দিবালোকে রাস্তার ধারে বসে কেউ অপরাধ করলে বাধা দেওয়া অবশ্যই তার দায়িত্ব। মানুষ এ ধরণের দায়িত্ব থেকে দুরে সরার কারণেই নয়ন বন্ডদের মত সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে রাস্তায় মানুষ হত্যা করে চলে যায়, সবাই দাড়িয়ে ভিডিও করে।

যারা এই মহৎ কাজকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে তারা আসলে বাংলাদেশকে কোথায় নিয়ে যেতে চাইছে, তা আমাদের বোধগম্য নয়। তবে ভালো কাজে বাধা দেওয়া এই শ্রেণীর লোককে মহান আল্লাহ অন্যভাবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, মুনাফিক পুরুষ ও নারী পরষ্পর সমান, তারা অসৎ কাজে নির্দেশ দেয় ও সৎ কাজে বাধা প্রদান করে। সুরা তাওবা, আয়াত : ৬৭

আল্লাহ আমাদের এহেন প্রতিহিংসামুলক মুনাফেকি কাজ থেকে বিরত রাখুক।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
দয়া করে আপনার নাম লিখুন