‘ও আমার চাকর ও কেন বসব! ও দাঁড়িয়েই থাকব।’ মানবাধিকারকর্মী(!?) লাভলী রহমান

রাজধানীর কাকরাইলের কর্ণফুলী গার্ডেন সিটির পাশে এক মানবাধিকারকর্মীর বাসার দশম তলার কার্নিশে  ঝুলে ছিল এক কিশোরী। দৃশ্যটি দেখার জন্যে মঙ্গলবার দুপুর দেড়টার দিকে সেখানে উৎসুক মানুষের জটলা বাধে। খবর পেয়ে আসে পুলিশও। কিন্তু ততক্ষণে বারান্দার গ্রিলের জানালা খুলে মেয়েটিকে উদ্ধার করা হয়।

তবে ঘটনাটি কি ছিল যার জন্য এই কিশোরী কার্নিশে ঝুঁকি নিয়ে ‍ঝুলেছিল। পুলিশের  ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মো. জহিরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, খাদিজা (১৪) নামের এই কিশোরী দশ তলায় বি-১০ ফ্ল্যাটে হাবিবুর রহমান ও লাভলী রহমানের গৃহকর্মী। লাভলী নিজে একজন মানবাধিকার কর্মী বলে পরিচয় দেন।

পুলিশ যখন গৃহকর্ত্রী  লাভলী রহমানকে খাদিজাকে ডেকে আনতে অনুরোধ করেন। প্রথমে তিনি খাদিজাকে আনতে রাজি হননি। কয়েকবার অনুরোধের পর তিনি খাদিজাকে ডাকেন। তবে খাদিজা আসে না। তারপর পুলিশের  ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) জহিরুল ইসলাম নিজেই উঠে গিয়ে খাদিজাকে বসার ঘরে নিয়ে আসেন।

খাদিজার বয়স ১৪ কি ১৫ বছর হবে। খাদিজাকে সোফায় বসতে বললে লাভলী রহমান বাধা দিয়ে বলেন, ‘ও আমার চাকর ও কেন বসব! ও দাঁড়িয়েই থাকব।’ খাদিজা মাথা নত করে দাঁড়িয়েই থাকল। ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লাভলীকে অন্য ঘরে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করলেন।

লাভলী চলে যাওয়ার পর তিনি খাদিজার কাছে জানতে চাইলেন, কেন এমনটি করেছে। কিন্তু খাদিজা কোনো জবাব দিল না। বারবার প্রশ্ন করেও তার মুখ দিয়ে একটি শব্দও বের করা গেল না। পরে তাকে জিজ্ঞাসা করা হলো কেউ তাকে মারধর করে কিনা। সে মাথা নেড়ে জানাল, কেউ তাকে মারে না। কিন্তু জানা গেল না, কেন সে বারান্দার বাইরে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঝুলে ছিল।

বের হওয়ার সময় লাভলী পুলিশ পরিদর্শক জহিরুল ইসলামকে জানালেন, তিনি খাদিজার বিরুদ্ধে একটি সাধারণ ডায়েরি করবেন।

ভবনের ম্যানেজার আবদুস সাত্তার জানালেন, খাদিজা সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না। খাদিজাকে তিনি আজই প্রথম দেখলেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
দয়া করে আপনার নাম লিখুন