সড়ক দুর্ঘটনায় কর্তৃপক্ষের দায়

যুবায়ের আহমাদ

ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর। বিদেশের একটি নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক, স্নাকতকোত্তর ও পিএইচডি সম্পন্ন করার পর ওই দেশেই অধ্যাপনার জন্য তাঁকে অনুরোধ করা হয়েছিল। তিনি দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে বিদেশি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে দেশের মানুষের খেদমতে আত্মনিয়োগ করেছিলেন। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এ ব্যক্তিত্বের বক্তব্য শুনে হাজারো মাদকাসক্ত, দুর্নীতিবাজ, খারাপ মানুষ আলোর পথে এসেছে। যেই মানুষটি বিদেশে অধ্যাপনার সুযোগ ছেড়ে দেশে এলেন, দেশ তাকে কতটা নিরাপত্তা দিতে পেরেছিল? কভার্ড ভ্যান তার গাড়িকে মেরে দিল। রাস্তায় প্রাণ গেল জাতির এ দরদি অভিভাবকের।
আইনুদ্দীন আল আজাদ। জনপ্রিয় গীতিকার, সূরকার, সঙ্গীত শিল্পী ও ওয়ায়েজ। তাঁরও প্রাণ কেড়ে নিয়েছিল কভার্ড ভ্যান। কিছুদিন আগে এক তরুণ মুফাসসির রাস্তায় প্রাণ দিলেন। মাও. জুনাইদ সিদ্দিকী। এরা দেশকে অনেক কিছু দিতে পারতেন। কিন্তু সড়কের অব্যবস্থপনা এদের থাকতে দিল না।
সড়ক যেন মৃত্যু উপাত্যকা। বছরে ৩৪ হাজার কোটি টকার ক্ষতি হয় সড়ক দুর্ঘটনায়। দেশের বিভিন্ন জায়গায় যাওয়ার সুযোগ হয়। আমার মনে হয়, বর্তমানে সবচেয়ে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ রাস্তা হলো ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক। এত গুরুত্বপূর্ন রাস্তাটি এখনো ৪ লেন হয়নি! ওইদিন ব্রাহ্মনবাড়িয়া থেকে আসার সময় আমাদের গাড়ি ৩ বার ঝুঁকিতে পড়েছে। আমরা আমাদের সাইডে সাবধানে ঢাকা ফিরছিলাম। বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাক আরেকটি বাসকে অন্যায়ভাবে অভারটেক করতে গিয়ে আমাদের মেরেই দিয়েছিল। আল্লাহর রহমত। আমার ড্রাইভার সচেতনতার সঙ্গে গাড়ি একটু সাইডে ধরে দিল। আল্লাহ বাঁচালেন। আমি ভাবছিলাম, সাইডে যদি গর্ত থাকত, তাহলে ড্রাইভার সাইডে চাপাতে পারত না! এভাবেই অন্যায়ভাবে ড্রাইভাররা অভারটেক করতে গিয়ে অন্য গাড়িকে মেরে দেয়। যে দেশে টাকার বিনিময়ে লাইসেন্স পাওয়া যায়, সেখানে ড্রাইভার তো এমন হবেই।
কিশোরগঞ্জ-ময়মনসিংহ, ময়মনসিংহ-ঢাকা মহাসড়কে রাস্তার সাদা দাগটা বিভিন্ন জায়গায় নেই। কুয়াশার রাতে গাড়ি চালাতে সাদা দাগটা অনেক হেল্প করে। প্রতি বছর শীতকাল আসার আগেই এ দাগগুলো আবার নতুন করে দেয়া দরকার। ময়মনসিংহ-ঢাকা মহাসড়কে মাওনার পরে বেশ কয়েকটি বড় বড় গতিরোধক। কিন্তু এগুলোতে সাদা দাগ না থাকায় দূর থেকে দেখা যায় না যে এখানে গতিরোধক। কাছে এসে হঠাৎ গতিরোধক দেখে ড্রাইভাররা গাড়ি নিয়ন্ত্রণে আনতে ভয়ঙ্কর বিপদে পড়েন। দুর্ঘটনা হয়। এগুলোতে সাদা দাগ দেয়ার দায়িত্ব কার?
এ কাজটি না করে শুধু ড্রাইভারদের বিরুদ্ধে কঠিন কঠিন আইন করলেই হবে না। ড্রাইভারদের অবহেলায় দুর্ঘটনা হলে যদি তাদের শাস্তি দেয়া হয় তাহলে সাদা দাগ দেয়ার দায়িত্বে থাকা সরকারি বিভাগের কর্মকর্তাদের অবহেলার দায় কেন তাদের নয়? দুর্ঘটনায় তো তারাও দায়ী। তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।
বর্ষাকালের পর বিভিন্ন রাস্তায় বড় বড় গর্ত হয়। কোথাও কোথাও রাস্তার পাশ থেকে মাটি সরে গর্ত হয়ে যায়। কোনো কারণে সাইডে নিতে হলে কখনো গর্তে পড়ে যায় গাড়ি। এগুলোর কারণে এক্সিডেন্ট হয়।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এদিকে নজর দেয়া উচিত। সাদাদাগ, গর্ত ভরাটে অবহেলা করলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর, আইনুদ্দিন আল আজাদদের হত্যার ক্ষেত্র তৈরির অভিযোগ তোলা যেতে পারে।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
দয়া করে আপনার নাম লিখুন