রাখাইনে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের চিহ্ন দেখেছেন বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা

পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলীর নেতৃত্বে বাংলাদেশের উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া দেখার জন্য শনিবার মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মংদু শহরের আশপাশের কয়েকটি গ্রাম পরিদর্শন করেন। প্রতিনিধি দলটি প্রথমবারের মতো সেখানে গিয়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের চিহ্ন দেখতে পেয়েছে। মিয়ানমারের সমাজ কল্যাণ, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী উইন মায়াত অ্যাই এসময় বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের সঙ্গে ছিলেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে মিয়ানমারের সীমান্ত এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে শূন্য রেখায় কয়েক হাজার মিয়ানমারের নাগরিক অবস্থান করছেন। প্রত্যাগত শরণার্থীদের জন্য মিয়ানমারের প্রস্তুতি দেখতে তিনি দুটি অভ্যর্থনা কেন্দ্র ও ৩০ হাজার মানুষের ধারণক্ষমতার একটি ট্রানজিট ক্যাম্প পরিদর্শন করেন।

ভারত সরকারের সহায়তায় শরণার্থীদের জন্য শ জার গ্রামে প্রায় ১৪৮টি প্রি-ফেব্রিকেটেড ঘর নির্মাণের পরিস্থিতিও ঘুরে দেখেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। ১৫ হাজার মানুষ অধ্যুষিত গ্রাম পান ত পাইন গ্রামও ঘুরে দেখেন, যেখানকার বেশিরভাগ মানুষ বাংলাদেশে পালিয়েছে।

বাকিদের মধ্যে কিছু মুসলিম, বৌদ্ধ ও হিন্দু সেখানেই বসবাস করছে বলে মন্ত্রীকে জানানো হয়। ওই গ্রামে মিয়ানমার সরকার স্থানীয়ভাবে স্থানান্তরিত মানুষের জন্য ২২টি ঘর এবং প্রত্যাগতদের জন্য আরো ৫০টি ঘর তৈরি করেছে।

মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর অভিযানের পর গত বছর ২৫ আগস্ট থেকে রাখাইন রাজ্য থেকে ৭ লাখ ২০ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় গ্রহণ করে।

মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলর অং সান সুচির দফতরের মন্ত্রী কিয়া তিন্ত সোয়ের সঙ্গে শুক্রবার দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

বৈঠকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিভিন্ন দিক ও প্রতিবন্ধকতা নিয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাখাইনে রোহিঙ্গাদের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরির বিষয়টি ত্বরান্বিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন।

যেসব রোহিঙ্গা ন্যাশনাল ভেরিফিকেশন কার্ড (এনভিসি) নিতে আগ্রহী নয় তাদেরকে বিষয়টি বোঝানোর জন্য বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অনুরোধের জবাবে মিয়ানমার কক্সবাজার ক্যাম্পে প্রতিনিধি দল পাঠাতে সম্মত হয়েছে।

দুই মন্ত্রীর মধ্যে একটি হটলাইন তৈরির ব্যাপারেও একমত হয়েছে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার।

রবিবার দেশে ফিরবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী।

ডেইলি ইসলাম/জেএস

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
দয়া করে আপনার নাম লিখুন