সব কারাগারে আদালত কক্ষ স্থাপনের নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর

দেশের প্রতিটি কারাগারে একটি করে কোর্ট রুম (আদালত কক্ষ) স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ৬২৪ কোটি ৯৮ লাখ টাকা ব্যয়ে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার পুনর্নির্মাণ প্রকল্পের অনুমোদন দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আসামিদের যাতে সশরীরে কোর্টে হাজির হতে না হয়, সেজন্য ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে কোর্ট রুম থেকে কোর্টের কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।

এ প্রকল্পসহ মোট ২১টি (নতুন ও সংশোধিত) প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এসব প্রকল্পে মোট ব্যয় হবে ১৯ হাজার ৭৭৮ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারের ১৭ হাজার ৩১৬ কোটি ৯৩ লাখ টাকা, সংস্থার নিজস্ব তহবিল ২৩৩ কোটি ৯৩ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক প্রকল্প সাহায্য ২ হাজার ২২৭ কোটি ৮৭ লাখ টাকা।

গতকাল রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে এসব প্রকল্প অনুমোদন দেয়া দেয়া হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ঢাকা (কাঁচপুর)-সিলেট মহাসড়কটি এশিয়ান হাইওয়ে এবং সার্ক হাইওয়ে করিডোরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটি উপ-আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের সঙ্গে রাজধানী ঢাকাসহ অন্যান্য অঞ্চলের যোগাযোগের প্রধান করিডোর। এ কারণে ঢাকা (কাঁচপুর)-সিলেট মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। এজন্য ‘ভূমি অধিগ্রহণ ও ইউটিলিটি স্থানান্তর প্রকল্প: সাপোর্ট টু ঢাকা (কাঁচপুর)-সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ এবং উভয় পাশে পৃথক সার্ভিস লেন নির্মাণ’ নামের প্রকল্পটি হাতে নেয়া হয়েছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বিমসটেক করিডোর, সার্ক করিডোরসহ আঞ্চলিক সড়ক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ ত্বরান্বিত হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে খরচ ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৮৮৫ কোটি ৭২ লাখ টাকা।

একনেকে অনুমোদন পাওয়া অন্য প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে কেরানীহাট-জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পে ১ হাজার ৪৪৫ কোটি ৩৬ লাখ টাকা; বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন সচিবালয়ের সাতটি আঞ্চলিক কার্যালয় প্রতিষ্ঠাসহ সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ১২৬ কোটি ৯০ লাখ টাকা; সিপিজিসিবিএল-সুমিতোমো ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের লক্ষ্যে ভূমি অধিগ্রহণ ও আনুষঙ্গিক কার্যক্রমে ১ হাজার ২৭০ কোটি টাকা। এছাড়া ৬৯০ কোটি টাকা ব্যয়ে বৃহত্তর ময়মনসিংহ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প; গড়াই নদী ড্রেজিং ও তীর সংরক্ষণ প্রকল্পে ৫৯১ কোটি ৫৮ লাখ টাকা।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
দয়া করে আপনার নাম লিখুন