নারীদের হজের মাসায়েল

In this Sunday, Sept. 11, 2016 photo, Indonesian women make their way down after prayer on a rocky hill known as the Mountain of Mercy, on the Plain of Arafat, during the annual hajj pilgrimage, near the holy city of Mecca, Saudi Arabia. (AP Photo/Nariman El-Mofty)

মুফতি মাহমুদ হাসান

মৌলিকভাবে হজের বিধানাবলিতে পুরুষ-মহিলার বিধান অভিন্ন। হজের ফরজ তিনটি বিধান- অর্থাৎ ইহরাম, আরাফায় অবস্থান ও তাওয়াফে জিয়ারত আদায় করা পুরুষ-মহিলার জন্য সমান ফরজ।

তবে কিছুসংখ্যক বিধানে ভিন্নতা রয়েছে।মহিলাদের ওপর হজ ফরজ হওয়ার শর্ত

মহিলাদের ওপর হজ ফরজ হওয়ার জন্য অন্য শর্তগুলোর সঙ্গে তার স্বামী বা মাহরাম থাকাও আবশ্যকীয়। স্বামী বা মাহরাম থাকার সঙ্গে সঙ্গে তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী হজের খরচও ওই মহিলার কাছে থাকা আবশ্যকীয়, নতুবা কেবল নিজের হজ করার সামর্থ্য থাকলেও হজ ফরজ হবে না। (বাহরুর রায়েক : ২/৩৩৯)

স্বামী বা মাহরাম ব্যতীত মহিলাদের হজে গমন শরিয়তের দৃষ্টিতে জায়েজ নয়, এতে হজ মাকরুহের সঙ্গে আদায় হয়ে গেলেও মহিলা গুনাহগার হবে। (আল জাওহারা ১/১৫০)

মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘কোনো মহিলা যেন মাহরাম ব্যতীত সফর না করে, জনৈক সাহাবি আরজ করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! আমি অমুক জিহাদে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিয়েছি; কিন্তু আমার স্ত্রী হজে গমনে ইচ্ছুক? নবী করিম (সা.) বললেন, তুমি তাকে নিয়ে হজে যাও। ‘ (সহিহ বুখারি, হা. ১৮৬২)

একনজরে মহিলাদের হজের বিশেষ বিধিবিধান

ইমাম আবুল হাসান সুগদি (রহ.)-এর বর্ণনা মতে, হজের বিধানাবলিতে পুরুষের থেকে ভিন্ন মহিলাদের বিশেষ ১১টি বিধান রয়েছে, নিম্নে সংক্ষিপ্ত আকারে এর বর্ণনা তুলে ধরা হলো :

এক. মহিলাদের ওপর হজ ফরজ হওয়ার জন্য তার স্বামী বা মাহরাম থাকা আবশ্যকীয়।

দুই. স্বামী বা মাহরাম থাকার সঙ্গে সঙ্গে তাদের প্রয়োজন ও দাবির নিমিত্তে তাদের হজের খরচও ওই মহিলার কাছে থাকা আবশ্যকীয়।

তিন. মহিলাগণ সেলাইকৃত কাপড় পরিধান করতে পারবে।

চার. মহিলাগণ স্বীয় চেহারা আবৃত না করতে পারলেও মাথা ঢাকতে পারবে।

পাঁচ. পুরুষগণ তালবিয়া জোরে পড়া সুন্নত হলেও মহিলাগণ নিঃশব্দে পড়া সুন্নত।

ছয়. পুরুষগণ তাওয়াফের তিন চক্করে ‘রমল’ বুক উঁচিয়ে হাত নেড়ে বাহাদুরের ন্যায় হাঁটা সুন্নত, মহিলাদের জন্য তা সুন্নত নয়।

সাত. খালি না পেলে মহিলাগণ হাজরে আসওয়াদে চুমু দেওয়া সুন্নত নয়, হ্যাঁ, পুরুষশূন্য হলে দেবে।

আট. খালি না পেলে মহিলাগণ সাফা-মারওয়া পাহাড়ে ওঠা সুন্নত নয়, হ্যাঁ, পুরুষশূন্য হলে উঠবে।

নয়. সাফা-মারওয়ায় সাঈ করার সময় সবুজ চিহ্নদ্বয়ের মাঝে মহিলাগণ সাধারণ গতিতেই হাঁটবে, দ্রুতগতিতে হাঁটবে না।

দশ. আরাফায় অবস্থান ও তাওয়াফে জিয়ারতের পর ঋতুস্রাব আরম্ভ হলে মহিলাগণ তাওয়াফে বিদা করা জরুরি নয়।

এগারো. এহরাম খুলতে পুরুষের মতো মহিলাগণ মাথা মুণ্ডানোর বিধান নেই; বরং মহিলাগণ আঙুলের অগ্রভাগ পরিমাণ চুল কাটবে। (আন নুতাফ ফিল ফাতাওয়া, পৃ. ২০৪)

ভিড়ের দরুন মহিলাদের বিধানে শিথিলতা

মহিলাগণ ভিড়ের দরুন মুজদালিফায় অবস্থান করার সুযোগ না পাওয়ায় মুজদালিফায় অবস্থান না করে মিনায় চলে গেলে তাদের ওপর দম (পশু জবাই) ওয়াজিব হবে না। (মুআল্লিমুল হুজ্জাজ, পৃ. ১৮৩)

মহিলাগণ দিনের বেলা ভিড়ের দরুন কঙ্কর মারার সুযোগ না পেলে তাদের জন্য রাতে কঙ্কর মারা জায়েজ আছে, এটি মাকরুহ হবে না। (রদ্দুল মুখতার ২/২৪৮)

কিছু বিশেষ মাসয়ালা

হজ শুরু করার পর কোনো মহিলার ঋতুস্রাব আরম্ভ হলে শুধু তাওয়াফ ও সাঈ ব্যতীত অন্য সব আমল সম্পাদন করতে পারবে, হজ শেষ করে স্রাব বন্ধ হওয়ার জন্য অপেক্ষা করবে, অতঃপর বন্ধ হলে তাওয়াফ ও সাঈ করে হজ শেষ করবে। (আল মাবসুত ৪/১৭৯)

আরাফায় অবস্থান ও তাওয়াফে জিয়ারতের পর ঋতুস্রাব আরম্ভ হলে মহিলাগণ তাওয়াফে বিদা করা জরুরি নয়, তবে স্রাব বন্ধ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করে তাওয়াফে বিদা আদায় করে আসা উত্তম। (আল মাবসুত ৪/১৭৯, মুআল্লিমুল হুজ্জাজ, পৃ. ২০৭)

লেখক : ফতোয়া সংকলন

প্রকল্পের গবেষক

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
দয়া করে আপনার নাম লিখুন