বিএনপির প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত, চিঠি দেওয়া হবে আজ

প্রার্থীদের আজ থেকে চিঠি দেবে বিএনপি। গুলশান কার্যালয় থেকে বিকেল ৪টায় দলের প্রত্যয়নপত্র বিতরণের এ কার্যক্রম শুরু হবে বলে একাধিক নেতা জানিয়েছেন।

জানা গেছে, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পরামর্শক্রমে গতরাতে আবারো প্রার্থী তালিকায় সংযোজন বিয়োজন করা হয়। ২৩০ থেকে ২৪০ আসনে দলের প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। বেশ কিছু আসনে একাধিক প্রার্থীকে প্রত্যয়নপত্র দেয়া হবে। এসব জায়গায় মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আগে দেওয়া হবে চূড়ান্ত নির্দেশনা।

জানা গেছে, তরুণ প্রার্থীদের চেয়ে নির্বাচনে অভিজ্ঞতা আছে, সাংগঠনিক শক্তি দিয়ে ভোটের মাঠে টিকে থাকতে পারবেন এমন প্রার্থীদের এবার অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ২০০১ ও ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে দলের মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থীদের বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে বেশি। তরুণেরাও পাচ্ছেন দলের মনোনয়ন, তবে সে সংখ্যা খুব বেশি নয়। কারাগারে কিংবা দেশের বাইরে থেকে দলের বেশ কিছু নেতা নির্বাচন করতে চাইলেও তাতে বিএনপির হাইকমান্ড তেমন আগ্রহ দেখায়নি।

সারা দেশে প্রার্থীর কোনো সঙ্কট না থাকলেও রাজধানীর আসনগুলোতে ‘হেভিওয়েট’ প্রার্থী পাচ্ছে না বিএনপি। দলটিকে তাই মহানগরের ১৫টি আসনের মধ্যে বেশ কয়েকটি ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীদের ছেড়ে দিতে হতে পারে। সে ক্ষেত্রে এসব আসনে ঐক্যফ্রন্ট থেকে হেভিওয়েট নেতা বেছে নেওয়া হবে।

ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ এক নেতা জানান, ঢাকার আসনে প্রার্থী দেওয়ার ক্ষেত্রে চমক দেবে ঐক্যফ্রন্ট। দু-এক দিনের মধ্যে তা পরিষ্কার হবে। যেসব নেতা ঢাকার আসনে নির্বাচন করার আলোচনায় আছেন তাদের বাইরেও আরো কয়েকজনের নাম অন্তর্ভুক্ত হতে পারে; যারা সমাজে প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তি হিসেবেই পরিচিত।

বিএনপির এক নেতা বলেছেন, মামলা জটিলতা, দেশের বাইরে থাকা কিংবা কারাগারে থাকায় ঢাকার বেশ কিছু আসনে হেভিওয়েট প্রার্থীর অভাব দেখা দিয়েছে। এসব আসনে দলের একাধিক প্রার্থী আছেন, কিন্তু তারা জাতীয় নেতার মাপকাঠিতে উত্তীর্ণ নন। জানা গেছে, ঢাকা ৬, ৭, ১০, ১১, ১২, ১৫, ১৬, ১৮ এই আসনগুলোতে ঐক্যফ্রন্ট নেতারা নির্বাচন করতে পারেন।

বিএনপি সূত্রমতে, তালিকায় নাম থাকলেও ঢাকা মহানগর বিএনপির উত্তর-দক্ষিণের বর্তমান পদধারী কোনো নেতার এবার মনোনয়ন না পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। ঢাকা দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি কারাবন্দী হাবিব-উন-নবী খান সোহেলের মনোনয়ন নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। মামলার কারণে বিদেশে থাকা উত্তর বিএনপির সভাপতি এম এ কাইয়ুমের বিকল্পও নেই ঢাকা-১১ আসনে। কিন্তু তার অনুপস্থিতিতে ঐক্যফ্রন্টের কাউকে মনোনয়ন দেওয়া যায় কি না সে বিষয়ে ভাবছে বিএনপির হাইকমান্ড।

এ দিকে আসন বণ্টন নিয়ে ধারাবাহিক বৈঠকের অংশ হিসেবে গতকালও বিএনপি নেতারা ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের সাথে বৈঠক করেছেন। ফ্রন্টের এক নেতা জানান, ঐক্যফ্রন্টের শরিক দলগুলো তাদের প্রার্থীদের নাম বিএনপি মহাসচিবের কাছে দিয়েছেন। এ তালিকা নিয়ে আজ ও কাল একাধিক বৈঠক হবে। এর মধ্যে চূড়ান্ত সমঝোতা না হলে প্রার্থী প্রত্যাহারের দিন পর্যন্ত আলোচনা চলবে। জানা গেছে, নির্বাচনের জন্য ঢাকা মহানগর জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সমন্বয় কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

২০ দলীয় জোটের সাথেও আসন বণ্টন নিয়ে আলোচনা চলছে। আজ-কালের মধ্যে এটিরও সুরাহা হবে। জোটের এক নেতা জানান, ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক জামায়াতে ইসলামীর সাথেই মূলত বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা চলছে। কারণ অন্য দলগুলোর আসন প্রায় নির্ধারিতই।

বিএনপির শীর্ষ এক নেতা জানান, জোট ও ঐক্যফ্রন্টকে সব মিলিয়ে ৭০টি আসন ছেড়ে দিতে পারেন তারা।

জানা গেছে, বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের শরিকদের মধ্যে জামায়াতে ইসলামী চায় ৫০ আসন। এলডিপি ২০টি আসনে তালিকা প্রস্তুত করেছে। কমপক্ষে পাঁচটি চায় তারা। এ ছাড়া, খেলাফত মজলিশ চারটি, জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) দুই-তিনটি, কল্যাণ পার্টি একটি, বিজেপি দুটি, জমিয়ত তিন-চারটি এবং জাগপা একটি আসন পেতে পারে।
অন্য দিকে, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট চায় কমপক্ষে ১০০ আসন। এর মধ্যে ড. কামাল হোসেনের দল গণফোরাম অন্তত ৭০ আসনের তালিকা তৈরি করে দেনদরবার করছে। ড. কামাল হোসেন নিজে নির্বাচন করবেন বলে এখনো কোনো ঘোষণা দেননি। তিনি নির্বাচন করতে চাইলে ঢাকায় আসন দিতে রাজি বিএনপি।

নাগরিক ঐক্য থেকেও ২৫টি আসন চাওয়া হয়েছে। তাদের পাঁচ-ছয়টি আসন দেওয়া হতে পারে। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জেএসডি ২০টি আসনে তালিকা তৈরি করেছে। তারা তিন-চারটি আসন পেতে পারে। বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর দল কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ ১৫টি আসনে তালিকা তৈরি করেছে। তাদের দুই-তিনটি আসন দেয়া হতে পারে।
বিএনপির শীর্ষ নেতারা বলছেন, ব্যক্তি ইমেজ, সংশ্লিষ্ট দলের ভোটব্যাংক ও জনপ্রিয়তার দিক বিচার করেই জোট ও ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
দয়া করে আপনার নাম লিখুন