রোজার দৈহিক উপকার

মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম

আল্লাহ তাআলার সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি মানুষ। মানুষের প্রতি তাঁর অগাধ ভালোবাসা, স্নেহ ও মায়া-মমতা।
ফলে তিনি মানবতার আত্মিক ও দৈহিক কল্যাণে রোজার বিধান দান করেছেন। রোজা পালনে মানুষের আত্মশুদ্ধি অর্জনের কথা রয়েছে। অন্যদিকে চিকিৎসা বিজ্ঞান প্রমাণ করেছে, রোজা কেবল আত্মশুদ্ধির পথকেই মসৃণ করে না; বান্দার দৈহিক প্রভূত উৎকর্ষ সাধনের মূল নিয়ামক হিসেবেও কাজ করে। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা রোজা রাখ, সুস্থ থাকতে পারবে। ‘

ইসলামে রোজাকে রহমত, বরকত, মাগফিরাত ও নাজাতের বার্তাবাহক বানানো হয়েছে। একে আত্মিক, দৈহিক, নৈতিক ও চারিত্রিক উন্নয়নের ধারক বানানোর নিমিত্তে মহান রাব্বুল আলামিন এ রোজায় কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করেছেন।

মানবদেহের রক্ত সংবহনতন্ত্রে চর্বি বা কোলেস্টেরল জমা হয়ে হৃৎপিণ্ডের ক্ষতি করে। শরীরের ধমনিগুলো হৃৎপিণ্ড থেকে বিশুদ্ধ রক্ত বহন করে টিস্যুর দিকে নিয়ে যায় এবং শিরাগুলো টিস্যু থেকে দূষিত রক্ত বহন করে হৃৎপিণ্ডে নিয়ে যায়। এভাবে রক্ত অনবরত চলাচল করে।
রক্ত সংবহনতন্ত্রে কোলেস্টেরল জমা হলে ধমনি, শিরা-উপশিরার ভেতরে লাইনিংয়ে জমা হয়ে সেগুলোর প্রশস্ততা কমিয়ে দেয়। ফলে ধমনি ও শিরা পর্যাপ্ত রক্ত বহন করতে পারে না। এতে রক্তের প্রবাহচাপ বৃদ্ধি পায় (High blood pressure)। এ অবস্থা চলতে থাকলে হৃৎপিণ্ডের ক্রিয়া ক্রমান্বয়ে বন্ধ হতে থাকে। তখন বুকে ব্যথা হয়ে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। রমজানে এক মাস এভাবে দিনে অভুক্ত থাকায় দেহে নতুন করে কোলেস্টেরল জমতে পারে না। এতে আগের জমাকৃত কোলেস্টেরলও কমে যায়। ফলে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক হয়।

মেদ-ভুঁড়ি নিয়ে আজকাল অনেকেই বিপাকে আছেন, তাঁদের প্রতি পরামর্শ হলো- রোজা রাখুন। রোজা রাখলে দেহ ক্ষয় হয়। ফলে দেহের চর্বি ভেঙে দেহের ক্ষয়পূরণের ব্যবস্থা হয়। এতে সারা দিন খাদ্য না খাওয়ায় নতুন করে চর্বি জমতে পারে না। এক মাস এভাবে দিনে অনাহারে থাকলে মেদ-ভুঁড়ি অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। খাওয়া-দাওয়া বেশি করলে পেপটিক আলসার বৃদ্ধি পায়। রমজানে সারা দিন না খেয়ে থাকায় খাদ্যনালি, পাকস্থলী, যকৃৎ, পিত্তথলি, ক্ষুদ্রান্ত্র, বৃহদান্ত্রের হজমে সহায়ক গ্রন্থিগুলো বিশ্রাম পায়। এতে পেপটিক আলসার রোগীর উপকার হয়।

ধূমপান করার জন্য যাদের ফুসফুস-সংক্রান্ত রোগ রয়েছে, তাদের জন্য রোজা খুব উপকারী। রোজা থাকায় ধূমপানে বিরত থাকে। এতে ফুসফুস নিকোটিনের বিষক্রিয়া থেকে মুক্তি পায়।

যাদের হজম সমস্যা আছে, তারা এক মাস রোজা রাখলে হজমশক্তি বৃদ্ধি পায়। কারণ একটানা ১১ মাস সব সময় পাকস্থলী ও অন্যান্য গ্রন্থি হজমে ব্যস্ত থেকে ক্লান্ত হয়ে পড়ে। অন্যদিকে রোজা থাকার জন্য প্রতিদিন ছয়-সাত ঘণ্টা পাকস্থলী, খাদ্যনালি, যকৃৎ, পিত্তথলি, ক্ষুদ্রান্ত্র, বৃহদান্ত্র, ডিওডেনামসহ হজমে সহায়ক বিভিন্ন গ্রন্থির কোনো কাজ থাকে না। অর্থাৎ বিশ্রামে থাকে। বিশ্রামের পর সন্ধ্যায় ও রাতে পাকস্থলী খাদ্য পেয়ে নতুন উদ্যমে নতুন শক্তি নিয়ে হজম ক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে। ফলে হজম শক্তি বৃদ্ধি পায়।

আমাদের সমাজে কিছু লোকের মধ্যে নিছক অবহেলাবশত শারীরিক ছোট সমস্যাকে অজুহাত বানিয়ে রোজা ছেড়ে দেওয়ার প্রবণতা লক্ষণীয়। অথচ চিকিৎসাবিজ্ঞান প্রমাণ করেছে, রোজা মানুষের শারীরিক নানা সমস্যা সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষেধক। তাই আসুন আমরা আল্লাহর কাছে রোজা পালনের মাধ্যমে দৈহিক ও আত্মিক প্রশান্তির পথে নিজেকে সদা অবিচল রাখি।

লেখক : প্রভাষক, নোয়াখালী সরকারি কলেজ

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
দয়া করে আপনার নাম লিখুন