আহমাদ রায়েদ

আমাদের জীবনচর্চা ধর্মীয় বিধানের শাশ্বত আলোকে উৎসারিত। তাই ইহলৌকিক ও পারলৌকিক মুক্তির জন্য সিরাতচর্চার গুরুত্ব অপরিসীম।

ইসলামী বিশ্বকোষ ‘সিরাত’-এর অর্থ লিখেছে—১. যাওয়া, যাত্রা করা, চলা; ২. মাজহাব বা তরিকা; ৩. সুন্নাহ; ৪. আকৃতি; ৫. অবস্থা; ৬. কীর্তি; ৭. কাহিনী, প্রাচীনদের জীবন ও ঘটনাবলির বর্ণনা; ৮. মুহাম্মদ (সা.)-এর গাযওয়ার (যুদ্ধের) বর্ণনা; ৯. অমুসলিমগণের সঙ্গে সম্পর্ক, যুদ্ধ এবং শান্তির সময়ে মুহাম্মদ (সা.) যা বৈধ মনে করতেন, তার বর্ণনা কিংবা মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনচরিত; সম্প্রসারিত অর্থে বীরপুরুষদের কীর্তির বর্ণনা। কোরআনের বিভিন্ন সুরায় রাসুল (সা.) সম্বন্ধে নানা ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্য আছে। অন্যদিকে হাদিস শরিফে রাসুল (সা.)-এর জীবনের সব দিক ও বিভাগের খুঁটিনাটি বর্ণিত হয়েছে। রাসুল (সা.)-এর সিরাতচর্চার ক্ষেত্রে যেসব সাহাবি, তাবেয়ি ও তাবে তাবেয়ি অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন তাঁরা হলেন—উরওয়া ইবনে জুবায়ের (মৃ. ৯৪ হি.); আবান ইবনে উসমান (মৃ-১০৫ হি.), ইমাম শা’বী (মৃ. ১০৯ হি.), ওয়াহাব ইবনে মুনাববাহ (মৃ. ১১০ হি.), আসিম ইবনে ওমর (মৃ. ১২১ হি.), সুরাহ বিন ইবনে সাদ (মৃ. ১২৩ হি.), আব্দুল্লাহ বিন আবু বকর (মৃ. ১৩০ হি.), মুসা ইবনে উকবা (মৃ. ১৪১ হি.), হিশাম ইবনে উরওয়া (মৃ. ১৪৬ হি.), ইবনে শিহাব জুহুরি (মৃ. ১২৪ হি.), আবু আব্দুল্লাহ মাহমুদ ইবনে ইসহাক (মৃ. ১৫১ হি.) প্রমুখ।
ইসলামের পঞ্চম খলিফা হিসেবে খ্যাত হজরত ওমর ইবনে আব্দুল আজিজ (রহ.)-এর পরামর্শক্রমে রাসুল (সা.)-এর ওফাতের পঁচাশি বছর পর ইবনে শিহাব জুহুরি (রহ.) সিরাতচর্চা শুরু করেন। তিনি যে সংক্ষিপ্ত জীবনীটি রচনা করেন, সেটিই সিরাতবিষয়ক প্রথম গ্রন্থ। এটি অনেক আগেই বিলুপ্ত হয়ে গেছে। শিহাব জুহুরির প্রিয় ছাত্র মুসা ইবনে উকমা (মৃ. ১৪১ হি.) দ্বিতীয় সিরাত গ্রন্থ রচনা করেন; কিন্তু এ গ্রন্থও বিলুপ্ত হয়ে যায়। এরপর ইবনে শিহাব জুহুরির আরো কয়েকজন ছাত্র—ইবনে ইসহাক, ওমর ইবনে রাশেদ, আবদুর রহমান ইবনে আবদুল আজিজ, ইবনে সালেহ প্রমুখও সিরাত গ্রন্থ রচনা করেন।

প্রথম সিরাত রচয়িতা

প্রথম সিরাত রচয়িতা হিসেবে বর্তমান বিশ্বে যাঁর নামটি সম্মানের সঙ্গে উচ্চারিত হয়, তিনি হলেন ইবনে ইসহাক (জ. ৮৫ হি.-মৃ-১৫১ হি.)। রাসুল (সা.)-এর ওফাতের মাত্র ৭৪ বছর পর মদিনায় জন্মগ্রহণকারী ইবনে ইসহাক রচিত ‘সিরাতু রাসুলিল্লাহ’ সিরাতবিষয়ক সর্বাধিক প্রাচীন ও প্রামাণ্য গ্রন্থ।

এরপর ইবনে হিশাম তাঁর পূর্বসূরি ইবনে ইসহাক রচিত ‘সিরাতু রাসুলিল্লাহ’ নামক গ্রন্থটি সংশোধিত, পরিমার্জিত রূপ দিয়ে সংক্ষিপ্তাকারে ‘সিরাতে নবুবিয়্যা’ নামে প্রকাশ করেন। এটি সিরাতে ইবনে হিশাম নামে প্রসিদ্ধি লাভ করে। আজ পর্যন্ত এ গ্রন্থটি প্রামাণ্য সিরাত গ্রন্থ হিসেবে সর্বাধিক সমাদৃত।

বাংলাদেশে ইসলাম প্রচার শুরু হয় সপ্তম শতাব্দীতে, হজরত ওমর (রা.)-এর খেলাফত আমলে। ধীরে ধীরে বাংলার সুলতানদের পৃষ্ঠপোষকতায় মুসলমানদের বাংলা সাহিত্যচর্চার পথও সুগম হয়। বাংলা সাহিত্যে সিরাত রচনা শুরু হয় পুঁথি সাহিত্যের মাধ্যমে। পঞ্চদশ কিংবা ষোড়শ শতাব্দীতে রচিত এসব পুঁথিতে আমরা মহানবী (সা.)-এর জীবনের বিভিন্ন দিক নিয়ে অপূর্ব ভাষার পয়ার রচনা করতে দেখি। এ সময় কবি জৈনুদ্দিন লেখেন ‘রসূল বিজয় কাব্য’। শাহ বিরিদ খান রচনা করেন একই নামে আরেকটি পুঁথি কাব্য। তবে এর আগে ত্রয়োদশ শতাব্দীতে রামাই পণ্ডিত রচিত শূন্য পুরানের ‘নিরঞ্জনের রুস্মা’ শীর্ষক কবিতায় মহানবী (সা.)-এর নাম আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়। তাঁর রচিত এই কবিতাই যে মহানবী (সা.)-কে নিয়ে প্রথম লেখা, তা এখন সহজেই বলা যায়। আশ্চর্য হলো, সহস্র বছরের পুরনো বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নমুনায় হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর বর্ণনা বিস্ময়করভাবে উপস্থিত। তা-ও একজন অমুসলিম কবির জবানিতে। ড. এস এম লুত্ফুর রহমান এ তথ্য পরিবেশন করতে গিয়ে লিখেছেন : আনুমানিক নয়, নিশ্চিতরূপেই ১০০০ থেকে ১০২০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যেই বৌদ্ধ কবি রামাই পণ্ডিত রচিত ‘কলিমা জাল্লাল’ নামক রচনায় পহেলা রাসুলে করিম (সা.)-এর তারিফ করা হয়েছে। তাঁকে অমুসলিমদের ইলাহ (প্রভু বা উপাস্য) ব্রহ্মার সঙ্গে তুলনা করে গৌড়ে মুসলিম বিজয় অভিযানকে বেহেশতি রহমতরূপে বয়ান করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে : ব্রহ্মা হৈল মুহাম্মদ বিষ্ণু হৈল পেকাম্বর/আদম্ব হৈল মূল পানি/গণেশ হৈল গাজী কার্ত্তিকা হৈল কাজী/ফকীর হৈল যত মুনি।

‘শূন্য পুরান’ কাব্যে সংকলিত ‘নিরঞ্জনের রুস্ম’ কবিতায় এ অংশ পাওয়া যায়। আধুনিক নিরঞ্জনের রুস্ম কবিতার মূল নামই ‘কলিমা জল্লাল’। শূন্য পুরানে ছাপা এ কবিতার পুরো পাঠ পাওয়া যায় রামাই পণ্ডিতের অন্য রচনা ‘ধর্ম্মপূজা বিধান’-এ। প্রাচীন বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে দ্বিতীয় নিদর্শন ‘শোক শুভোদয়া’। সেখানে শেষ নবীর প্রসঙ্গ উত্থাপিত হয়। মোটামুটিভাবে এ দুটি সাহিত্যকর্মে বাংলায় নবীস্তুতির অস্তিত্ব লক্ষ করা যায়।

মধ্যযুগে মুসলিম শাসকদের পৃষ্ঠপোষকতায় বাংলা সাহিত্যে সৃষ্টি হয় নব প্রাণের উচ্ছ্বাস। এরপর বাংলা কাব্যে নবী বন্দনার জয়জয়কার। রাখঢাক নয়, কবিদের ঐতিহ্যের স্থান দখল করে নেয় স্পষ্টতরভাবে নবী প্রশস্তি। ড. মুহম্মদ এনামুল হকের মতে, ১৩৮৯ থেকে ১৪১০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে রচিত কবি শাহ মুহাম্মদ ছগীরের ‘ইউছুপ জোলায়খা’ কাব্যে নবী বন্দনার অস্তিত্ব গৌরবদীপ্ত হয়ে প্রতিভাত হয়। (সূত্র : মুসলিম বাংলা সাহিত্য-ঢাকা, ১৯৬৫) প্রিয় নবীর জীবন ও কর্মভিত্তিক সর্ববৃহৎ কলেবরসমৃদ্ধ কাব্য কবি সৈয়দ সুলতান (১৫৫০-১৬৪৮) রচিত ‘নবীবংশ’। এটি একটি মহাকাব্যের আদর্শ হয়ে বিদ্যমান। এটি বিষয়বৈচিত্র্য ও আকারে সপ্তকান্ত রামায়ণকেও ছাড়িয়ে গেছে বলে ড. মুহম্মদ এনামুল হকের মন্তব্য। (সূত্র : মুসলিম বাংলা সাহিত্য : ড. এনামুল হক) বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ মানেই কাব্য যুগ। এ যুগে সাহিত্যে প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর বন্দনা, স্তুতি ও চরিত্র-চিত্রণ ছাড়াও অনেক পূর্ণাঙ্গ জীবনী রচিত হয়েছে। মধ্যযুগীয় কাব্যরীতিতে মহানবী (সা.)-এর পূর্ণাঙ্গ জীবনী ‘তাওয়ারীখে মুহাম্মদী’। যার রচয়িতা কবি মুহাম্মদ সায়িদ। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে জনপ্রিয় কাব্য হলো ‘কাসাসুল আম্বিয়া’। এর রচয়িতার মধ্যে আছেন মুন্সী তাজউদ্দীন, মুহাম্মদ খাতের, মুন্সী জনাব আলী, মুন্সী রহমত উল্লাহ ও মুন্সী আবদুল ওহাব। ‘নূরনামা’ নামে যাঁরা মহানবীর জীবনীকাব্য রচনা করেন, তাঁদের মধ্যে হায়াত মামুদ ছাড়াও রয়েছেন শেখ পরান, আবদুল হাকীম ও আবদুল করীম খোন্দকার। শেষোক্ত জন ‘নবীবংশ’ নামেও একটা কাব্য রচনা করেন। গদ্য সাহিত্যে মহানবীর পূর্ণাঙ্গ জীবনচরিতের মধ্যে সর্বপ্রথম উল্লেখযোগ্য শেখ আবদুর রহীমের ‘হজরত মুহাম্মদের জীবনচরিত ও ধর্মনীতি’। এটি ৬৭০ পৃষ্ঠাব্যাপী বিস্তৃত। সুসাহিত্যিক এয়াকুব আলী চৌধুরীর ‘মানব মুকুট’ ও ‘নূর নবী’ গ্রন্থদ্বয়ও মহানবী (সা.)-এর জীবনচরিতমূলক রচনা। মাওলানা আকরাম খাঁর বস্তুবাদী রচনা ‘মোস্তফা চরিত’ ভক্তপ্রাণের তৃপ্তি মেটাতে না পারায় প্রেমধর্মী বর্ণনার গোলাম মোস্তফা রচিত ‘বিশ্বনবী’ শুধু সমাদৃতই হয়নি, তা হয়েছে অভাবনীয় জনপ্রিয় এক অবিস্মরণীয় সৃষ্টি। এটি অপ্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে কালোত্তীর্ণ। আধুনিক বাংলা কাব্যের প্রথম পাদে রাসুল (সা.)-এর প্রসঙ্গ এসেছে আখ্যান কাব্য, খণ্ড কবিতা, গজল-গান ও দোয়া-দরূদ ইত্যাদির মাধ্যমে। ১৯০২ খ্রিস্টাব্দে মীর মশাররফ হোসেনের সম্পাদনায় ‘মৌলুদ শরীফ’ নামে একটি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়। এটি খুবই জনপ্রিয় ছিল। বাংলা গদ্য সাহিত্যে রাসুল (সা.)-কে নিয়ে মুসলমানদের মধ্যে প্রথম গ্রন্থ রচনা করেন শেখ আব্দুর রহীম। গ্রন্থটির নাম ‘হযরত মুহম্মদের (স.) জীবনচরিত ও ধর্মনীতি’। ১৮৮৭ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত ৪০৪ পৃষ্ঠার এ গ্রন্থের ভূমিকায় বলা হয়েছে : ‘ইহাতে হিজরীর প্রথম অব্দ হইতে প্রত্যেক বৎসরের ঘটনাবলী একেকটি স্বতন্ত্র পরিচ্ছেদে নিয়মিতরূপে লিখিয়াছি। প্রত্যেকের সম্বন্ধে কুরআন শরীফের যে যে আয়াত অবতীর্ণ (নাজেল) হইয়াছিল, তাহার প্রকৃত অনুবাদ যথাস্থানে সন্নিবেশিত করিয়াছি, … হযরত মুহাম্মদ তরবারী বলে ইসলাম প্রচার করিয়াছেন বলিয়া ভিন্ন ধর্মাবলম্বীগণ যে তাহার নামে বৃথা দোষারোপ করিয়া থাকেন, এই পুস্তক পাঠ করিলে সে ভ্রম বিদূরিত হইবে। ’

এরপর ১৮৯৬ খ্রিস্টাব্দে সিলেট থেকে নাগরি হরফে মুন্সী বুরহান উল্লাহ ওরফে চেরাগ আলী রচিত ‘হায়াতুন্নবী’, কুষ্টিয়া থেকে ১৯০১ খ্রিস্টাব্দে আব্দুল আজিজ খান (জ. ১৮৬৮ খ্রি-মৃ. ১৯০৩ খ্রি.) রচিত ‘সংক্ষেপ্ত মুহম্মদ চরিত’, যশোর থেকে ১৯০২ খ্রিস্টাব্দে ডা. সুফি ময়েজউদ্দীন আহমদ (মধুমিয়া) রচিত ‘ত্রিত্বনাশক ও বাইবেলে মোহাম্মদ (সা.)’, শান্তিপুর, নদীয়া থেকে ১৯০২ খ্রিস্টাব্দে মোজাম্মেল হক রচিত ‘হযরত মোহাম্মদ (সা.)’, যশোর থেকে ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দে মুন্সী মুহাম্মদ মেহেরউল্লার প্রকাশনায় শেখ ফজলুল করিম (জ. ১৮৮২ খ্রি.-মৃ. ১৯৩৬ খ্রি.) রচিত মহানবীর জীবনী ‘নবীজীর যুদ্ধাবলী’, কলকাতা থেকে ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দে ডা. সৈয়দ আবুল হোসেন (জ. ১৮৬২ খ্রি.-মৃ. ১৯২৯ খ্রি.) রচিত ‘মোসলেম পতাকা’, ‘হযরত মোহাম্মদ (সা.) জীবনী’, ১৯১৫ খ্রিস্টাব্দে কলকাতা থেকে শেখ মোহাম্মদ জমীর উদ্দীন (জ. ১৮৭০ খ্রি.-মৃ. ১৯৩০ খ্রি.) রচিত ‘মাসুম মোস্তফা (সা.)’, ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে সারা তায়ফুর রচিত ‘স্বর্গের জ্যোতি’, ১৯১৮ খ্রিস্টাব্দে কলকাতা থেকে এয়াকুব আলী চৌধুরী রচিত ‘নূরনবী’ ও ১৯২২ খ্রিস্টাব্দে ‘মানব মুকুট’, ‘১৯২৫ খ্রিস্টাব্দে মোবিনুদ্দীন আহমদ জাহাঙ্গীর নগরী রচিত ‘নবীশ্রেষ্ঠ’, ১৯২৫ খ্রিস্টাব্দে কলকাতা থেকে মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী রচিত ‘মরু ভাস্কর’, ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দে চুঁচুড়া থেকে কবি গোলাম মোস্তফা রচিত ‘বিশ্বনবী’, ১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দে কলকাতা থেকে মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী রচিত ‘ছোটদের হযরত মোহাম্মদ’, সে বছর—অর্থাৎ ১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দে ঢাকা থেকে খান বাহাদুর আবদুর রহমান খাঁ রচিত ‘শেষ নবী’, ১৯৫১ খ্রিস্টাব্দে ঢাকা থেকে মাওলানা আবদুল খালেক রচিত ‘ছাইয়েদুল মুরছালীন’ (দুই খণ্ড), ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দে ঢাকা থেকে মুহাম্মদ বরকতুল্লাহ রচিত ‘নবী গৃহ সংবাদ’ ও ১৯৬৩ ‘নয়াজাতি স্রষ্টা হযরত মুহাম্মদ’, ১৯৬৮ খ্রিস্টাব্দে ঢাকা থেকে শায়খুল হাদিস মাওলানা মুহাম্মদ তফাজ্জল হোসাইন রচিত ‘হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা (সা.) সমকালীন পরিবেশ ও জীবন’ বের হয়। এ ছাড়া কয়েকটি সম্পাদিত সংকলন গ্রন্থ যেমন ১৯৮০ খ্রিস্টাব্দে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ বের করে অধ্যাপক আবদুল গফুর সম্পাদিত ‘শাশ্বত নবী’, ১৯৯২ খ্রিস্টাব্দে হাসান আবদুল কাইয়ুম সম্পাদিত ‘অনুপম আদর্শ’, ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ থেকে ইসলামী বিশ্বকোষ সম্পাদনা পরিষদ কর্তৃক সম্পাদিত ‘হযরত রসূল করীম (সা.) জীবন ও শিক্ষা’, ১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দে প্রীতি প্রকাশন, ঢাকা থেকে আসাদ বিন হাফিজ ও মুকুল চৌধুরীর যৌথ সম্পাদনায় ‘রাসুলের শানে কবিতা’ শিরোনামের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ সংকলন প্রকাশিত হয়েছে। বাংলা সাহিত্যে প্রথম জীবনী লেখিকা সারা তায়ফুরের ‘স্বর্গের জ্যোতি’ গ্রন্থটি ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয়। অবশ্য ১৩৭১ বাংলা সনে বাংলা একাডেমি, ঢাকা একটি সংস্করণ প্রকাশ করে। (সিরাত গবেষক নাসির হেলালের লেখা থেকে সংক্ষেপিত) ইফার ওয়েবসাইট থেকে জানা যায়, বাংলা ভাষায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন এ পর্যন্ত সিরাতবিষয়ক মোট ১২৯টি গ্রন্থ প্রকাশ করেছে। বাংলা ভাষায় সিরাতচর্চা বিষয়ে গবেষণা করেছেন নাসির হেলাল। এ বিষয়ে তাঁর বই হলো—‘বাংলা ভাষায় সীরাত বিষয়ক গ্রন্থপঞ্জি’। এটি ১২০ পৃষ্ঠার বই (ইফা সংস্করণ)। ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত এখানে ১০২৮টি বইয়ের তালিকা উল্লেখ করা হয়েছে। আমরা মনে করি, পরবর্তী ২০/২৫ বছরে আগের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ সিরাতগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। বাংলা ভাষায় দৈনিক, মাসিক, সাপ্তাহিক ও বাৎসরিক পত্রিকায় মহানবী (সা.)-কে নিয়ে যেসব প্রবন্ধ ছাপা হয়েছে, তার সংখ্যা মেলানো ভার।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
দয়া করে আপনার নাম লিখুন