১৩ রোহিঙ্গা সৌদি থেকে ঢাকায়

বাংলাদেশের পাসপোর্ট নিয়ে সৌদি আরবে যাওয়া ১৩ জন রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠিয়েছে সৌদি আরব। এসব রোহিঙ্গাদের সৌদি আরবের জেদ্দা শহরের একটি বন্দীশিবিরে আটকে রাখা হয়েছিল। এছাড়া আরো অনেক রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে পাঠানোর প্রস্তুতি শেষ করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।

সোমবার দিবাগত রাত ২টার দিকে এই রোহিঙ্গারা ঢাকায় পৌঁছেছে বলে জানা গেছে।

লন্ডনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডলইস্ট-আই এক খবরে জানায়, সৌদি আরবে আটক থাকা বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা শরণার্থীকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর প্রস্তুতি শেষ করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। জেদ্দার শামাইসি কারাগার থেকে বিমানযোগে বাংলাদেশে পাঠানোর জন্য তাদেরকে গত রবিবার আলাদা স্থানে জড়ো করা হয়।

মিডলইস্ট-আই টুইটারে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে। এতে আরাকানি ভাষায় এক রোহিঙ্গাকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি শামাইসি কারাগারে রয়েছি গত ৬ বছর ধরে। এখন তারা আমাকে বাংলাদেশে পাঠাচ্ছে।’

ভিডিওতে কয়েকজনকে হ্যান্ডকাফ লাগানো অবস্থায় থাকতে দেখা যায়। তাদের কয়েকজন জানান, বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো ঠেকাতে কারাগারে বিক্ষোভ করেছেন তারা।

আরেক রোহিঙ্গা বলেন, ‘মধ্যরাতে তারা আমাদের সেলে এসেছিলো। এরপর বললো, তোমার ব্যাগ গোছাও এবং বাংলাদেশে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হও।’

রোহিঙ্গা অধিকারকর্মী নায় সান লিউন মিডলইস্ট-আইকে বলেন, ‘এরা বাংলাদেশে গিয়ে কেবল শরণার্থীর সংখ্যাই বাড়াবে। সৌদিতে থাকলে বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরে থাকা পরিবারকে সাহায্য করতে পারতো। অপরাধি না হলেও সৌদি কর্তৃপক্ষ রোহিঙ্গাদের হাতে হ্যান্ডকাফ লাগিয়েছে। যা দুঃখজনক।’

শামাইসি কারাগারে বন্দী থাকা রোহিঙ্গাদের একটি অংশ ভুয়া তথ্যের মাধ্যমে বাংলাদেশি পাসপোর্ট গ্রহণ করে সৌদি আরবে প্রবেশ করেছিলেন। অনেকে আবার ভারত, ভুটান, পাকিস্তান ও নেপালের পাসপোর্টধারী। তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা, মিডল ইস্ট আই।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
দয়া করে আপনার নাম লিখুন