সিলিন্ডার দুর্ঘটনা এড়াতে সতর্কতা ও করণীয়

সিলিন্ডার দুর্ঘটনার জন্য মূলত ব্যবহারকারীদের অবহেলাকেই দায়ী করা হয়। ব্যবহারকারীর অবহেলা ও উদাসীনতার কারণেই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। সিলিন্ডার ব্যবহারের কিছু নিয়মকানুন আছে, এসব মেনে চলা উচিত। আসুন জেনে নিই সেই নিয়মগুলো।

১. রান্নার জায়গা যেন আলো-বাতাসযুক্ত এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকে। রান্নাঘরের জানালা সব সময় খোলা রাখতে হবে। বৃষ্টি, বাতাস বা ঝড় কিংবা অন্য কোনো কারণে রান্নাঘরের দরজা বন্ধ থাকলে তা খুলে দিয়ে কিছুক্ষণ পর চুলার সুইচ চালু করতে হবে।

২. মানসম্মত রাবার টিউব অথবা হোস পাইপ ব্যবহার করতে হবে।

৩. রাবার টিউব অথবা হোস পাইপে সাবানের ফেনা লাগিয়ে লিকেজ চেক করতে হবে।

৪. প্রতি দুই বছর পরপর নতুন রাবার টিউব লাগাতে হবে।

৫. এলপিজি সিলিন্ডার যদি অব্যবহৃত থাকে অথবা গ্যাসহীন অবস্থায় থাকে, তাহলে রেগুলেটরের নব বন্ধ করে রাখতে হবে।

৬. চুলার পাশে আগুনের উৎস থেকে কমপক্ষে ২-৩ মিটার দূরত্বে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন জায়গায় সিলিন্ডার রাখুন।

৭. মাটি বা ফ্লোরের ওপর সিলিন্ডার রাখতে হবে। কোনোমতেই মাটির নিচে সিলিন্ডার রাখা যাবে না।

৮. রান্না শেষে রেগুলেটরের সুইচ ঠিকঠাকভাবে বন্ধ করতে হবে।

৯. সিলিন্ডার ভর্তি থাকার সময় সেফটি ক্যাপ ব্যবহার করা উচিত।

১০. রান্না শেষে চুলা ও রেগুলেটর উভয়ের সুইচ বন্ধ করে রাখতে হবে। অধিকতর নিরাপত্তার জন্য এবার রেগুলেটরের সুইচ বন্ধ রেখে চুলার সুইচ চালু করে টিউবের ভেতরে থাকা গ্যাস পুড়িয়ে ফেলতে হবে।

১১. টিউবে লিকেজ হয়েছে কি না, তা নিয়মিত চেক করতে হবে। কোনো ত্রুটি ধরা পড়লে তৎক্ষণাৎ পরিবর্তন করতে হবে।

১২. সিলিন্ডার শিশুদের নাগালের বাইরে রাখতে হবে।

১৩. অনুমোদিত ডিলার বা সরবরাহকারীর কাছ থেকে এলপিজি সিলিন্ডার কিনতে হবে।

১৪. সংশ্লিষ্ট কাজে অভিজ্ঞ ও দক্ষ ব্যক্তি দিয়ে সিলিন্ডার স্থাপন করে নিতে হবে।

১৫. সিলিন্ডারের জন্য সব সময় গুণগতমানের টিউব, রেগুলেটরসহ অন্যান্য যন্ত্রাংশ ব্যবহার করতে হবে।

১৬. স্টোরেজ বা গুদামজাত করতে সিলিন্ডার খোলা স্থানে রাখতে হবে। দুর্ঘটনার সময় যাতে দ্রুত সরিয়ে নেওয়া যায়।

১৭. সর্বোপরি স্টোভ অথবা সিলিন্ডারে কোনো ধরনের সমস্যা দেখা দিলে অভিজ্ঞ টেকনিশিয়ানের পরামর্শ নিতে হবে।

যা করবেন না
১. সব সময় সিলিন্ডার সোজা বা খাড়া করে রাখতে হবে। কোনো অবস্থায় সিলিন্ডার বাঁকা বা শুইয়ে রাখা যাবে না।

২. টিউব, রেগুলেটর কিংবা অন্য কোনো অংশ লিকেজ হয়েছে কি না, তা চেক করতে কখনো দেশলাইয়ের কাঠি বা লাইটার অথবা আগুন জ্বালানো যাবে না।

৩. সরাসরি সূর্যের তাপ পড়ে এমন স্থানে সিলিন্ডার রাখা যাবে না।

৪. সিলিন্ডার ও চুলার সংযোগ পাইপের সঙ্গে কোনো কিছু প্যাঁচানো যাবে না।

৫. একটি সিলিন্ডার থেকে একাধিক সংযোগ দেওয়া যাবে না।

৬. নিম্নমানের যন্ত্রাংশ ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

৭. গরম টিউব ব্যবহার করা যাবে না। টিউব গরম হলে সেটা দ্রুত পরিবর্তন করে ফেলতে হবে।

৮. সিলিন্ডারের আশপাশে কখনো মোবাইল ফোন, ক্যামেরা ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করবেন না।

লিকেজ-সংক্রান্ত পরিস্থিতি মোকাবিলায় করণীয়—
১. দ্রুত চুলা ও সিলিন্ডারের রেগুলেটরের সুইচ বন্ধ করে দিতে হবে এবং তৎক্ষণাৎ সেফটি ক্যাপ লাগিয়ে দিতে হবে।
২. অনাকাঙ্ক্ষিত আগুনের সূত্রপাত হলে তা নিভিয়ে ফেলতে হবে।
৩. মোবাইল ফোন, ক্যামেরা ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার না করে আশপাশ থেকে সরিয়ে ফেলতে হবে।
৪. যে কোনো আগুন জ্বালানো থেকে বিরত থাকতে হবে।
৫. পরিস্থিতি বিবেচনায় দ্রুত বাসার বিদ্যুতের মেইন সুইচ বন্ধ করে দিতে হবে এবং কাছের গ্যাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান অথবা ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিতে হবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
দয়া করে আপনার নাম লিখুন