সুন্দরবনের নদীতে পাওয়া গেল ট্রান্সমিশনযুক্ত কচ্ছপ!

সুন্দরবনের নদীতে স্যাটেলাইট ট্রান্সফরমার সংযুক্ত আরো একটি বাটাগুর বাসকা (কচ্ছপ) ধরা পড়েছে। কচ্ছপটির বয়স আনুমানিক ৪০ বছর ও ওজন সোয়া ১০ কেজি।

সুন্দরবনের সুতারখালী নদীতে মাছ ধরার সময় বুধবার দিনে কুলসুম নামে এক নারী জেলের জালে স্যাটেলাইট ট্রান্সমিটার বসানো এ কচ্ছপ ধরা পড়ে। শুক্রবার সুন্দরবনের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের কর্তৃপক্ষের কাছে এটিকে হস্তান্তর করা হয়।

গত সোমবার দুপুরে মোংলার মিঠাখালীর পুটিমারী খালে এক জেলের জালে বেশ বড় আকৃতির আরো একটি কচ্ছপ (বাটাগুর বাস্কা) ধরা পড়ে।

গত দুদিনের ব্যবধানে উদ্ধার হওয়া কচ্ছপ দুটিকে বর্তমানে সুন্দরবনের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

পূর্ব সুন্দরবনের বাটাগুর বাস্কা প্রজেক্টর স্টেশন ম্যানেজার আ. রব জানান, ২০১৭ সালের ২ অক্টোবর স্যাটেলাইট ট্রান্সমিটার বসানো বিলুপ্ত প্রায় এ প্রজাতির পাঁচটি বাটাগুর কচ্ছপ সুন্দরবনের কালিরচরের সমুদ্র মোহনায় ছাড়া হয়েছিল। এ প্রজেক্টের মূল উদ্দেশ্য হলো বিরল প্রজাতির বাটাগুর বাস্কা কচ্ছপের প্রজনন বৃদ্ধির মাধ্যমে এর বংশ বিস্তার করা।

পরে সুন্দরবনের নিলকমল ও তালতলী এলাকায় দুটি কচ্ছপ আগেই মারা গেছে। বাকি ৩টির মধ্যে সোমবার ও বুধবার উদ্ধার হওয়া কচ্ছপ দুটির শারিরিক সুস্থতা ফিরে পেলে কর্তৃপক্ষের নির্দেশ মোতাবেক আবারো ছাড়া হবে সমুদ্র মোহনায়।

স্যাটেলাইট জিপিএস ট্রাকিং ট্রান্সমিটার সিস্টেম সংযোজিত এ বাটাগুর বাস্কা ছাড়ার মূল উদ্দেশ্য ছিল এর বিচরণক্ষেত্র, স্বভাব, পানির ওপরে রোদ পোহানো ও পানির নিচের অবস্থান নির্ণয়সহ প্রজননক্ষেত্র সম্পর্কে গবেষণার তথ্য সংগ্রহ। আর এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে অস্ট্রিয়ার ভিয়েনা জুটিএসএ আমেরিকা ও বাংলাদেশ বনবিভাগ।

 

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
দয়া করে আপনার নাম লিখুন