দুর্নীতির মামলায় ‘ভুল আসামি’ তিন বছর ধরে কারাগারে!

মামলার প্রকৃত আসামি নন কিন্তু তিন বছর ধরে আছেন কারাগারে। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এমন প্রতিবেদন দেখে হতবাক দেশের উচ্চ আদালত। এ ঘটনার ব্যাখ্যা চেয়ে দুদকের আইন শাখার মহাপরিচালকসহ চারজনকে ডেকে পাঠানো হয়েছে। তাকে কেন মুক্তি দেয়া হবে না তাও জানতে চেয়েছেন আদালত।

২৮ জানুয়ারি, সোমবার বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের স্বপ্রণোদিত হয়ে এ আদেশ দেন।

রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা বলছেন, তদন্ত করে এ ধরণের ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনা উচিৎ।

তিনি আসামি নন। সোনালী ব্যাংকের অর্থ জালিয়াতির ৩৩ মামলায় কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হলে বারবার এ কথা বলেছেন পাটকল শ্রমিক জাহালম। তারপরও এ মামলার ঘানি টানতে টানতে সর্বশান্ত তার পরিবার।

আদালতে সুরাহা না হওয়ায় জাহালমের মা দ্বারস্থ হন মানবাধিকার কমিশনে। মামলাকারী সংস্থা দুদকও করে তদন্ত। এই দুই কমিশনের তদন্তে নিরপরাধ প্রমাণিত হন জাহালম। ততদিনে কেটে গেছে তিন বছর।

জাহালমের এমন অমানবিক কারাবাসের রিপোর্ট সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের জন্ম দেয়। বিষয়টি নজরে আনা হলে হতবাক হন দেশের উচ্চ আদালত। ডেকে পাঠানো হয় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, দুদকের আইন শাখার মহাপরিচালকসহ চারজনকে।

সংবদমাধ্যমের রিপোর্ট আদালতে উত্থাপনকারী অমিত দাস গুপ্ত বলেন, ‘দুদক মহাপরিচালক (আইন শাখা) এই মামলার যিনি বাদী ছিলেন এবং হোম সেক্রেটারি, ল সেক্রেটারির প্রতিনিধি দুজনকে আগামী রোববার হাজির হওয়ার জন্য আদালত নির্দেশনা দিয়েছেন।’

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘যেহেতু মামলাটা এখনো প্রক্রিয়ার মধ্যে আছে এবং উনাদের আসতে বলা হয়েছে, ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। সমস্ত কিছু জানার পরে আদালত একটা সিদ্ধান্তে আসবেন।’

রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা বলছেন, ‘নিরপরাধ ব্যক্তিকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে ফাঁসানো হলে জড়িতরা কেউ ছাড় পাবে না।’

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভেতরে কেউ কোনো রকম উদ্দেশ্যমূলকভাবে এই ধরনের কাজ করে থাকে, নিশ্চয় আইন তার আমলে আসবে। নিরপরাধ কেউ যেন কোনোরকমভাবে হয়রানির শিকার না হয় তার জন্য এটা বন্ধ করতে হবে।’

সোনালী ব্যাংকের অর্থ জালিয়াতির ৩৩ মামলার মধ্যে শুধু একটি মামলায় জামিন পেয়েছেন জাহালত। বাকি মামলাগুলোতেও কেন তাকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হবে না তাও জানতে চেয়েছেন উচ্চ আদালত।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
দয়া করে আপনার নাম লিখুন