কলেজে ‘ইসলাম শিক্ষা’য় আগ্রহ নেই শিক্ষার্থীদের!

বাংলাদেশ মুসলিম অধ্যুষিত একটি দেশ। ঐতিহ্যগতভাবে এ দেশের মানুষ ধর্মভীরু। তাই মুসলমানদের সন্তানরা তাদের শিক্ষা-দীক্ষা ও সংস্কৃতিতে ইসলামকে জানা ও শেখার সুযোগ পাবে—এটাই স্বাভাবিক। বর্তমানে উপমহাদেশে ব্রিটিশদের প্রণীত শিক্ষাব্যবস্থা চালু থাকলেও খ্রিস্টান ব্রিটিশরা এই ইসলাম শিক্ষার তাগিদ উপেক্ষা করতে পারেনি। ফলে শত বছর ধরে স্কুল ও কলেজে নতুন বহু বিষয়ের পাশাপাশি ‘ইসলাম শিক্ষা’ও পাঠ করার ব্যবস্থা ছিল। পরিবর্তিত সমাজব্যবস্থার কারণে এখন আর আগের মতো মক্তবকেন্দ্রিক ধর্মীয় শিক্ষার রেওয়াজ নেই। ফলে মুসলমানদের সন্তানদের ধর্মীয় শিক্ষার সুযোগ সীমিত। বিশেষত, বেশির ভাগ শিশু যেহেতু স্কুল-কলেজে পড়ে, তাই তাদের জন্য স্কুল-কলেজ ছাড়া ধর্মীয় শিক্ষার সুযোগ নেই বললেই চলে।
কিন্তু বর্তমানে এই স্বতঃসিদ্ধ বিষয় ঐচ্ছিক করা হয়েছে। কয়েক বছর আগেও স্কুল-কলেজ পড়ুয়াদের রেজাল্ট জিজ্ঞেস করলে অনেকেই বলতেন সেকেন্ড ডিভিশন, ইসলাম শিক্ষায় লেটার। অথচ নব্বইয়ের দশকে পরিস্থিতি পাল্টে গেছে। এখন অনেকেই ইসলাম শিক্ষাকে ভয় পায়। দুঃখজনক হলেও সত্য, ইসলাম শিক্ষায় ভালো না করায় অনেক মেধাবী শিক্ষার্থীর গোল্ডেন বা এ প্লাস ছুটে যাচ্ছে। ইসলাম শিক্ষার এ অবস্থার কারণ, ইসলাম শিক্ষার গুরুত্ব কমে যাওয়া। অথচ বাংলাদেশে ইসলাম শিক্ষার সোনালি অতীত রয়েছে। এই কলেজ পর্যায়ে ইসলাম শিক্ষাই ছিল মুখ্য। এর সঙ্গে ইংরেজি ও অন্য বিষয় যুক্ত করা হয়। বর্তমানে অজ্ঞাত কারণে পরিস্থিতি ঠিক এর উল্টো।

কলেজ থেকেই যদি ইসলাম শিক্ষার শিক্ষার্থীর জোগান ঠিক না থাকে, তাহলে অচিরেই বিশ্ববিদ্যালয় স্তরে বিষয়টির প্রয়োজনীয়তা হারিয়ে বিলুপ্ত হয়ে যাবে। ইসলাম শিক্ষার মতো জীবনঘনিষ্ঠ, জনপ্রিয় বিষয় উচ্চ মাধ্যমিকে ঐচ্ছিক হওয়ার সুবাদে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে অনাগ্রহ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি আবশ্যিক বিষয়গুলোতে ভর্তিযুদ্ধে অসম প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঐচ্ছিক হওয়ার ফলে ইসলামিক স্টাডিজ বিষয়ে ‘অধ্যাপনা’কে পেশা হিসেবে গ্রহণের সুযোগও শেষ বা সীমিত হচ্ছে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী, ধর্ম প্রতিমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সবিনয় অনুরোধ, উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে ‘ইসলাম শিক্ষা’ সব গ্রুপের সবাইকে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হোক।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
দয়া করে আপনার নাম লিখুন