২৭ বছর শিক্ষকতা শেষে ওমরগণি এমই.এস কলেজ থেকে অবসর নিলেন ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন

দীর্ঘ ২৭ বছর শিক্ষকতা শেষে আজ চট্টগ্রামের ওমরগণি এমই.এস কলেজ থেকে অবসর নিয়েছেন দেশের তুমুল জনপ্রিয় ধর্মীয় আলোচক, লেখক ও নন্দিত শিক্ষক ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। আজ আবেগঘন এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন নিজেই তাঁর অবসরের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

মাত্র এক ঘন্টা আগে পোস্ট করা ওই স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, ‘আজ ৩১ জানুয়ারী’১৯ প্রথম বর্ষের অনার্সের ক্লাশ নেয়ার মাধ্যমে আমার প্রিয় প্রতিষ্ঠান ওমরগণি এমই.এস কলেজ থেকে বিদায় নিলাম। চেষ্টা করেও অশ্রুজল ধরে রাখা গেলো না। দেখতে দেখতেই ২৭টি বছর চলে গেল। টেরই পেলাম না। এরই নাম জীবনপরিক্রমা। কাল থেকে আর চিরচেনা ক্যাম্পাসে আসতে হবে না। সার্টিফিকেট মতে ৬০ বছর পূর্ণ হলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধিঅনুযায়ী অধ্যাপনার আর সুযোগ থাকে না। স্মৃতিকাতরতায় আমি বিমুঢ় ও বিদায়ে বেদনাপ্লুত। পেছনে রয়ে গেল অনেক স্মৃতি, অনেক কথা, অনেক ভালবাসা। ৬জন অধ্যক্ষের বাৎসল্য ও সহযোগিতা পেয়েছি। আমার সহকর্মী অধ্যাপকবৃন্দ ও কর্মচারীরা ছিলেন সবাই আমার প্রতি আন্তরিক। সাধারণ শিক্ষার্থী ও ছাত্রনেতৃবৃন্দ আমাকে সর্বদা সমীহ ও শ্রদ্ধার চোখে দেখেছে। নতুন বিভাগীয় প্রধানকে দায়িত্ব ও একাউন্ট বুঝিয়ে দিয়েছি। ১৯৯২ সালের ২২ জুলাই অধ্যক্ষ আবদুল হাই সাহেবের সহযোগিতায় আমি এ কলেজে এসেছিলাম। আমি তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি’

দীর্ঘ ২৭ বছরে নিজের অর্জন প্রসঙ্গে তিনি লিখেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ ২৭ বছরে আমার অর্জন অনেক। ছোট বড় বেশ ক’টি গ্রন্থ রচনা করি। কয়েকটা অনুবাদ গ্রন্থের কাজও শেষ করি। এ কলেজে শিক্ষকতাকালীন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রী নিয়েছি ২০০৬ সালে। কলেজে যোগ দেয়ার অব্যাবহিত পরে সারা বাংলাদেশে বক্তা ও ওয়ায়েয হিসেবে আমার পরিচিতি ছড়িয়ে পড়ে। বিদেশের সেমিনারের ব্যানারে আমার নামের সাথে কলেজের নাম লেখা থাকতো। কলেজের শিক্ষক মিলনায়তনে বসে আমার শিক্ষক ড. ইনাম উল হক সাহেব ও ড. শব্বির আহমদ সাহেবকে নিয়ে ইসলামিক ফাউণ্ডেশনের ইসলামী বিশ্বকোষ ২য় সংস্করণের ৩য় থেকে ১০ম খণ্ড সম্পাদনা করেছি। আজ তাঁরা জান্নাতবাসী।’

নিজের সহকর্মীদের স্মৃতিচারণ করে তিনি লিখেন, ‘বহু অধ্যক্ষ, সহকর্মী শিক্ষক ও কর্মচারীকে হারিয়েছি। আজ তাঁদের কথা বেশি করে মনে পড়ছে। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেন অধ্যক্ষ এ এ রেজাউল করিম চৌধুরী, অধ্যক্ষ মোহাম্মদ হোসেন খান, অধ্যক্ষ আজিজুল বারি, অধ্যাপক নুরুল ইসলাম (অর্থনীতি), অধ্যাপক আওরঙ্গজেব চৌধুরী (ব্যবস্থাপনা), অধ্যাপক গোলাম নবী (ইংরেজী), অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনুছ (দর্শন), অধ্যাপক ইস্কান্দার (হিসাব বিজ্ঞান), অধ্যাপক আনোয়ারুল হক কাদেরী (ইতিহাস), অধ্যাপক আযিয উদ্দিন আহমদ (বাংলা), অধ্যাপক গিয়াস উদ্দিন (বাংলা), প্রদর্শক কামরুল হাসান ও প্রদর্শক মুর্শিদ কুলি। অনেকে অবসরের পর আবার অনেকে চাকুরিরত অবস্থায় দুনিয়া থেকে বিদায় নেন। দোয়া করি আল্লাহ তায়ালা তাঁদের জান্নাতবাসী করুন।’

অবসরের কারণ হিসেবে তিনি ওই স্ট্যাটাসে লেখেন, ‘আগামী মাসে বিভিন্ন বিভাগে ১১জন নতুন শিক্ষক স্থায়ীপদে যোগ দেবেন। তালিকা এসেছে। আমরা পুরনোরা চলি যাচ্ছি, নতুনদের জন্য আসন খালি করে দিচ্ছি। এটাই পৃথিবীর চিরন্তন রীতি।এটা না মানার সুযোগ নেই।’

সবশেষে জীবনের বাকিদিনগুলোতে কী করতে চান-এ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘দোয়া চাই অবসর জীবন সুন্দর ও প্রীতিময় হোক, ভরে উঠুক বাকিদিন সুস্থতার স্নিগ্ধতায়। সুস্থতা সাপেক্ষে অবশিষ্ট সময় ধর্মর্চচা, ওয়ায-নসীহত, দেশভ্রমণ, অনুবাদ ও সাহিত্যচর্চায় মগ্ন থাকতে চাই। বাকি আল্লাহ তায়ালার ইচ্ছে।’

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
দয়া করে আপনার নাম লিখুন