সিলেটে এসএসসি পরীক্ষার হলে শিক্ষার্থীদের হিজাব খুলে নেওয়ার অভিযোগ

সিলেটে এসএসি পরিক্ষায় কিশোরী মোহন স্কুলে ভুল প্রশ্নপত্রে গণিত পরীক্ষা এবং শিক্ষার্থীদের হিজাব খুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

সিলেটের ওই কেন্দ্রে ২০১৬ সালের সিলেবাসের প্রশ্নে পরীক্ষা, ১০/১৫ মিনিট পর প্রশ্নপত্র বিতরণ করেও নির্দিষ্ট সময়ের আগেই উত্তরপত্র নিয়ে নেওয়া, মেয়ে শিক্ষার্থীদের হিজাব খুলে নেওয়া, ছেলেদের টাই খুলে নেওয়াসহ শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের সাথে খারাপ আচরণের অভিযোগ করেছে ঐ কেন্দ্রের এসএসসি পরীক্ষার্থীরা।

সিলেট এইডেড স্কুলের সাবকেন্দ্র কিশোরী মোহন স্কুলে এসএসসি পরীক্ষার গণিত পরীক্ষায় এমন ঘটনা ঘটেছে। পরীক্ষার নির্ধারিত সময় শেষ হতে না হতেই ঐ কেন্দ্রের অনেক শিক্ষার্থী পরীক্ষার হল থেকে বের হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। সাংবাদিকদের তারা জানান, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র দিতে আমাদের ১৫ মিনিট লেট করা হয়। কিন্তু আমাদের অতিরিক্ত কোন সময় না দিয়েই উত্তরপত্র আমাদের কাছ থেকে টেনে নেওয়া হয়। তাছাড়া বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন তাদের ২০১৬ শিক্ষাবর্ষের সিলেবাসের পরীক্ষার প্রশ্ন দিয়ে দশ মিনিটের ভেতরে সেটা নিয়ে নতুন প্রশ্ন দেওয়া হয়েছে। এজন্য পরীক্ষা ১৫ মিনিট পরে নতুন করে শুরু করা হয়েছে।

এছাড়া ঐ কেন্দ্রের পরীক্ষার্থী ওসমানী মেডিকেল উচ্চ বিদ্যালয়ের এক ছাত্রী এবং বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের আরেক শিক্ষার্থী সহ অন্তত ৪জন শিক্ষার্থী পরীক্ষার হলরুমে তাদের হিজাব খুলে নেওয়ার অভিযোগ জানিয়েছেন। তাছাড়া স্কলার্সহোম স্কুলের একাধিক শিক্ষার্থী তাদের টাই খুলে নেওয়ার অভিযোগ করেছেন সাংবাদিকদের কাছে।

নির্ধারিত সময়ের আগে উত্তরপত্র নিয়ে নেওয়ায় শিক্ষার্থীদের অনেকেই উত্তর করতে পারেননি বেশ কয়েকটি এমসিকিউ প্রশ্নের উত্তর। অনেকেই ঝুকছেন ফেল হওয়ার শংকায়। আর তাই পরীক্ষার হল থেকে বের হয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন তারা। অভিভাবকদের সাথে নিয়ে অফিস রুমে দায়িত্বরতদের সাথে কথা বলতে গেলে উল্টো অপমানিত হতে হয় তাদের। এমনটিই জানিয়েছেন তারেক আজিজ,তাহমিদ চৌধুরী, মানিক খান, রুমেনা বেগমসহ বেশ কয়েকজন অভিবাবক।

অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা কেন্দ্রের গেটে জমা হয়ে এর প্রতিবাদ জানাতে থাকলে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। কোতয়ালী থানা পুলিশের ওসি (তদন্ত) ছাহাবুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে একদল পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। অভিভাবক এবং শিক্ষার্থীরা কেন্দ্র সচিবের মাধ্যমে জেলা প্রশাসক বরাবর একটি প্রতিবাদলিপি ও স্মারকলিপি দেয়।

কিশোরী মোহন স্কুলের প্রধান শিক্ষক এবং কেন্দ্রের যুগ্ম সচিব গৌরা ঘোষের সাথে আলাপকালে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে হিজাব-টাই খুলে নেওয়ার ব্যাপারে বলেন, মেয়ে শিক্ষার্থীরা যাতে কানে কোন ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস নিয়ে পরীক্ষা দিতে না পারে সেজন্য আমরা কান পর্যন্ত হিজাব খুলতে বলেছি। ছেলেদের টাই খুলে নেওয়ার ব্যাপারে বলেন, তদন্ত করে যদি অভিযোগ প্রমাণীত হয় তবে দোষী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা আগামী কালের পরীক্ষার আগেই যাতে বিষয়টি সমাধান করা হয় সেজন্য সিলেট শিক্ষাবোর্ডের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি সহ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন। অভিভাবকরা তাদের সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করা এ বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহবান জানান।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
দয়া করে আপনার নাম লিখুন