ভুলধারার ইজতেমা চরমভাবে অসফল হয়েছে

সাকিব মুস্তানসির

ভুলধারার ইজতেমা চরমভাবে অসফল হয়েছে তাতে কোন সন্দেহ নেই। এটা অবশ্যই শুকরিয়া আদায় করার মতো বিষয়। আলহামদুলিল্লাহ। এই অসফলতার ফলাফল খুবই সুদূরপ্রসারী এবং তাবলীগ তার সহিহ মানহাজে চলার পথে বিগত দুই বছর ধরে চলমান স্থবিরতাকে অনেকাংশেই কাটিয়ে তুলবে ইনশাআল্লাহ্‌।

এই অসফল ইজতেমার ফলে-

এক. এতায়াতি অংশ বরাবর বলতো যে, তাঁদের সাথে জনগণের বড় অংশটা রয়েছে তা পুরোপুরি মিথ্যা প্রমাণিত হলো ।

দুই. ভুলধারার ইজতেমা সফল হলে পাশপাশি দুইটাধারা সম শক্তিতে চলমান হতো এবং অর্থ, রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক অনুকুল্য, মিডিয়া আর শারীরিক শক্তিমতাকে কাজে লাগিয়ে ভুলধারাকে শক্তিশালী করে প্রতিষ্ঠা করা হতো যেটা বিশুদ্ধ তাবলিগের চলার পথে পদেপদে বাধার সৃষ্টি করত।

তিন. এতায়াতি ভাইদের কথাবার্তায় বিভ্রান্ত হয়ে যে সকল ভাই দ্বিধাদন্দ্বে ছিলেন তারা হক বেছে নেওয়ার সুযোগ পাবেন ইনশাআল্লাহ।

চার. এতায়াতিদের কথায় কাজে প্রভাবিত হয়ে অনেক ভাইই মাঠে এসেছিলেন তাঁদের অনেকেই আশাকরি ফিরে আসার সুযোগ পাবেন।

পাঁচ. সরকারকে যে চাপ প্রয়োগ করে একটা ভিন্নধারার লজ্জাকর ইজতেমার আয়োজনে বাধ্য করা হয়েছে তা ভবিষ্যতে সরকারের আনুকূল্য পেতে তাঁদের জন্য বিব্রতকর ও অনেকটাই কঠিন হবে।

ছয়. সংবাদপত্র আর সাংবাদিকরা লজ্জার মাথা খেয়ে আর অর্থের গোলাম হয়ে যতই মিথ্যাচার করতে থাকুক একসময় পাবলিকের প্যাদানি খেয়ে কিছু সত্য হলেও বলতে বাধ্য হবে।

এতায়াতিদের মধ্যে জেনে বুঝে এতায়াতি খুবই কম। কিছু উগ্র গুণ্ডা বদমাইশ, কিছু দুর্নীতিবাজ শিক্ষিত, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, বেশ কিছু অল্পশিক্ষিত ব্রেন ওয়াশড দরিদ্র জনগোষ্ঠী ও অল্পকিছু অবুঝ আবেগী লোকজন টিকে থাকবে শেষ পর্যন্ত। এদের আপনি কোনো কথা বলে, কোনো তথ্য প্রমাণ দিয়ে, কোরআন হাদিসের তত্ত্ব দিয়ে , কোনোকিছু দিয়েই কনভিন্স করতে সক্ষম হবেন না। আপনি তাঁদের যত বুঝাতে যাবেন তারা তত তাদের বিশ্বাসে উগ্র হয়ে উঠবে তাই এদের তাদের অবস্থায় ছেড়ে দেওয়াই হবে উত্তম কাজ। এদের পেছনে সময় নষ্ট না করে পুরো সময় ব্যায় করতে হবে আম দাওয়াতের ময়দানে ঠিক আগের মতো ।

হকের পথে ফিরে আসা লজ্জার নয় বরং গর্বের এই কথাটা বারবার স্মরণ করিয়ে দিতে চাই যেন আমাদের কোন ভাই লজ্জা, পাছে লোকে কিছু বলে, টিটকারি ইত্যাদি ভেবে ভ্রান্তির উপর স্থির থাকতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ না হোন । সমাজে দাওয়াতের কাজ আরো বিস্তৃত করতে এই ভাইদের আমাদের অনেক প্রয়োজন। আলেমদের প্রধান দায়িত্ব রাস্তা তৈরি করে দেওয়া। চলার পথ সুগম রাখা। শিরক, কুফুরি, নিফাক, বদদ্বীন, বিদআত, ভ্রান্তি ইত্যাদি থেকে নিরাপদ রাখা। চলতি পথে কোথাও হোঁচট খেলে, বাধাপ্রাপ্ত হলে, ভুলপথে চললে রাস্তা পুনরায় মেরামত করে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনা। আলেম হজরতরা যতদিন এই কাজ যথাযথ আঞ্জাম দিতে থাকবেন ততদিন দ্বীনের কাজ যথাযথ চলবে। আলেমরা যখন তাঁদের দায়িত্ব থেকে বিচ্যুত হবেন তখন পতন অনিবার্য। কেউ ঠেকাতে পারবে না। রাব্বুল আলামীন তখন এরচেয়ে উত্তম লোকদের হাতে দায়িত্ব ন্যাস্ত করবেন। খুলে দিবেন দাওয়াতের নতুন নতুন ক্ষেত্র কিন্তু মাহরুম হবো আমরা।

দেওবন্দের পেট থেকেই তাবলিগের জন্ম। তাবলিগের শৈশব কৈশোর কেটেছে দেওবন্দের নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও সক্রিয় পরিচালনায়। যৌবনে তাবলিগকে পৃথিবীব্যাপী ছড়িয়ে দিতে দেওবন্দ মাদরাসা ও একই মানহাজের অন্যান্য মাদরাসার আলেমদের সিমাহীন মেহনতের ইতিহাস স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।

তাবলিগ আর মাদরাসার আলাদা কোন পরিচয় নেই । তাবলিগকে আলেমদের মুখোমুখি করার অনেক প্রচেষ্টা অতীতে বিফল হয়েছে বর্তমানেও হচ্ছে আলহামদুলিল্লাহ। ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতেও হবে। মকবুল এই মেহনত আলেমদের দেখভাল ও সাধারণের অংশগ্রহণে যেভাবে পরিচালিত হয়েছে ভবিষ্যতেও সেভাবেই হবে। তাবলীগ যখনই মূল ভিত্তি ছেড়ে দূরে সরে যাবে বা সম্ভাবনা দেখা দিবে আলেম হজরতরা কঠোরভাবে তা প্রতিরোধ করবেন এবং সঠিক পথে ফিরিয়ে নিয়ে আসবেন। জনসাধারণের কর্তব্য হচ্ছে বিনাবাক্য ব্যয়ে আলেমদের সিদ্ধান্তের প্রতি আস্থা ও সম্মান রেখে নিজেকে শুধরে নেওয়া। এই ধারাবাহিকতা ইনশাআল্লাহ মকবুল এই মেহনকে আরো ফায়দামন্দ করবে। রাত জেগে তাহাজ্জুদগুজার বান্দাদের প্রতিটি সিজদা আল্লাহর দরবারে আলোড়ন তোলে, উম্মাহর ফিকিরে গভীর রাতে নীরব অশ্রু বিসর্জন নতুন দিগন্তের পথ দেখায়।

 

লেখক : অনলাইন এক্টিভিস্ট

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
দয়া করে আপনার নাম লিখুন