বড়কাটারা মাদরাসার নতুন কক্ষে ওঠা হলো না মাওলানা ওমর ফারুকের

বড়কাটারা মাদরাসায় শিক্ষকতার পাশাপাশি বিকেলের পর চুড়িহাট্টা মোড়ে একটি ফার্মেসিতে বসতেন মাওলানা ওমর ফারুক। গতরাতেও তিনি ফার্মেসিতে বসা ছিলেন। আরও ছিলেন একজন ডাক্তার, বাচ্চাসহ আসা একজন নারী রোগী আর ফার্মেসীর মালিক কাউছার। আগুন লাগার পর যখন আশেপাশের অন্য দোকানদাররা শাটার নামিয়ে ফেলছে, তখন তারাও ফার্মেসির শাটার নামিয়ে ফেলেন। এরপর আর তারা বের হতে পারেননি। কেমিক্যালে উত্তপ্ত আগুনে দোকানের ভেতরেই দম বন্ধ হয়ে মারা গেলেন সেই চিকিৎসক, বাচ্চাসহ আগত রোগী মহিলাটি, কাউছার এবং মাওলানা ওমর ফারুক।

একটু বাড়তি উপার্র্জনের আশায় ফার্মেসিতে বসার পাশাপাশি এক কারখানায় নামাজ পড়াতেন মাওলানা ওমর ফারুক। সবমিলিয়ে মাসে যা উপার্জন হতো, তাতে সন্তুষ্ট থেকে পরিবারের ভবিষ্যতের জন্য কষ্ট করতেন খুব। কাটারা মাদরাসায় শিক্ষক হিসেবে ওমর ফারুকের জন্য নতুন একটি রুম তৈরি হয়েছে, সেটিতে দুয়েকদিন পরই উঠবেন, এ নিয়ে বেশ খুশি ছিলেন। কিন্তু নতুন রুমে ওঠার আগেই আজ এই রাতে ওমর ফারুককে শুইয়ে দেওয়া হচ্ছে শরীয়তপুরের গ্রামে, নতুন কবরে।

মাওলানা ওমর ফারুক আমার সহপাঠী ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর সংবাদে সকালে হাজির হয়েছিলাম ঢাকা মেডিকেলের মর্গের গেইটে। কিন্তু এত মানুষের কান্না সইতে পারব না ভেবে আর ভেতরে যাইনি। এরপর গেলাম বড় কাটারা মাদরাসায়। ওমর ফারুক যেখানে পড়াতেন, থাকতেন- দেখে এলাম সে জায়গাগুলো। আনছারুল হক ইমরান সঙ্গ দিলেন, দেখালেন ওমর ফারুকের থাকার জন্য সদ্যনির্মিত সেই রুমটিও। ফেরার পথে আগুনে কালো হয়ে যাওয়া সেই ভবন এবং আশেপাশের দোকানগুলো দেখে গত রাতের ভয়াবহতা অনুমান করতে গিয়ে শিউরে উঠেছি।

কারও সঙ্গে ওমর ফারুক ভাইয়ের যেমন খুব বেশি সখ্যতা ছিল না, তেমনি তাঁকে নিয়ে মন্দ কথা বলারও কেউ ছিল না, এমনই মাটির মানুষ ছিলেন তিনি। শরীয়তপুরের চর থেকে উঠে আসা সাদামাটা জীবনের এই তরুণ ছিলেন নীতিবান এবং নির্লোভ মানুষ। পড়াশোনা এবং উস্তাদদের সেবায় তিনি ছিলেন নিষ্ঠাবান এবং নিবেদিতপ্রাণ। আল্লাহর প্রতি সমর্পিত তার সাদামাটা জীবনের প্রমাণ মেলে আজ মর্গে তার পাঞ্জাবির পকেটে পাওয়া একটি মোবাইল, তসবিহ, মেসওয়াক এবং মেরিল ভ্যাসলিন দেখে। এমন সহজ সরল ভালো মানুষটি আগুনে পুড়ে এভাবে চলে গেলেন, ভাবতে কষ্ট হচ্ছে।

দয়াময় ও মহান করুণাময়ের কাছে মিনতি, আমার চেনা এই ওমর ফারুক ভাইসহ অচেনা যারা এই নির্মম অগ্নিকান্ডে নিহত হয়ে আজ আপনার দরবারে চলে গেল, আপনি তাদের সবাইকে জান্নাতের সুশীতল ছায়ায় অতিথি হিসেবে বরণ করে নিন। যে অসহনীয় কষ্ট আর নরকযন্ত্রণা তারা সয়ে গেলেন, এর সর্বোত্তম প্রতিদান আপনি তাদের দান করুন।

তামীম রায়হান-এর ফেসবুক টাইমলাইন থেকে

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
দয়া করে আপনার নাম লিখুন