চীন সফরে উইঘুর মুসলিম নিপীড়ন নিয়ে কথা বলবেন যুবরাজ?

সৌদি যুবরাজের চীন সফরে আলোচনায় একটি বিষয় উঠে আসবে না বলেই মনে হচ্ছে। অন্তত প্রকাশ্যে এ নিয়ে কোনো আলাপ হবে না। সেটি হলো জিনজিয়াংয়ে উইঘুর ও অন্যান্য মুসলমানের ওপর চীনের নিপীড়ন।

সেখানে ভোকেশনাল ক্যাম্পের নামে লাখ লাখ মুসলমানকে আটকে রেখে নিপীড়নের অভিযোগ রয়েছে। পশ্চিমা বিশ্ব এ নিয়ে বহুবার উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। তবে চীন সবসময় এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।-খবর আল-জাজিরার।

সিঙ্গাপুরভিত্তিক এস রাজারত্নাম স্কুল অব ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের জ্যেষ্ঠ ফেলো জেইমস ডরসি বলেন, সৌদি আরব এ ক্ষেত্রে শুনেও না শোনার ভান করে আছে। প্রকাশ্য চাপ প্রয়োগ সৌদি আরবে খুবই নিয়ন্ত্রিত। আর উইঘুর মুসলমানদের ক্ষেত্রে রিয়াদের কোনো উদ্যোগ আছে কিনা আমাদের জানা নেই।

গত ১০ ফেব্রুয়ারি প্রশিক্ষণ ক্যাম্পের নামে উইঘুরদের আটকে রাখার ঘটনাকে মানবতার জন্য বড় লজ্জা বলে আখ্যায়িত করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান।

ক্যাম্পের ভেতর নির্যাতন ও রাজনৈতিক মগজধোলাইয়ের প্রতিবাদও জানিয়েছেন তিনি।

ডরসি বলেন, তুর্কি প্রেসিডেন্ট প্রকাশ্য চাপ দেয়ার পথটি বেছে নিয়েছেন। কিন্তু সৌদি যুবরাজ এত বেশি চাপ দেয়ার দিকে যাবেন না।

ইউরেশিয়া গ্রুপের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা বিশেষজ্ঞ আয়হাম কামেল বলেন, তুরস্কের জন্য উইঘুর সংকট কৌশলগত সুবিধা ও গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করা হলেও সৌদি আরব এ ব্যাপারে উদাসীন। কারণ রিয়াদ এখন আঙ্কারার সঙ্গে ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতাকে বেছে নিয়েছে।

সৌদি আরবের সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত চ্যাস ফ্রিম্যান বলেন, যুবরাজের চীন সফরে বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছে। কারণ রিয়াদ এখন আর যুক্তরাষ্ট্রের ওপর খুব বেশি নির্ভরশীল থাকতে চাচ্ছে না। যেটিকে স্বাগত জানিয়েছে চীন। আবার ইরানের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগের বিষয়টিও দেখছেন যুবরাজ।

ফ্রিম্যান বলেন, যুবরাজ দেখাতে চাচ্ছেন যে পাশ্চাত্যে তার খ্যাতি কমে গেলেও প্রাচ্যে তার প্রভাব ও কূটনৈতিক সম্পর্ক বহাল তবিয়তে আছে। এ ছাড়া প্রাচ্যই এখন সৌদি আরবের ভসিষ্যৎ বাজার বলে বিবেচনা করা হচ্ছে।

‘অত্যাধুনিক অস্ত্র, অবকাঠামো ও টেলিযোগাযোগ শিল্প ক্ষেত্রে সৌদি আরবের সঙ্গে চীনের জোরালো সম্পর্ক একটি নতুন বাজার তৈরিতে সহায়ক হবে। এছাড়া জ্বালানি আমদানির একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস নিশ্চিত করবে,’ বললেন সাবেক এ মার্কিন রাষ্ট্রদূত।

তার মতে, এসব কারণেই জিনজিয়াংয়ে মুসলমানদের নিপীড়ন সত্ত্বেও মুসলিম বিশ্বের নেতৃত্বদানকারী সৌদি আরবের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চীনের কোনো সমস্যা হচ্ছে না।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
দয়া করে আপনার নাম লিখুন