অনলাইনে পাপ ; তাকওয়াই তার একমাত্র প্রতিষেধক

বর্তমান যুগ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির যুগ।এ যুগে ঘরে বসে ইন্টারনেট ব্যবহারের মাধ্যমে অনেক কিছু করা যায়।এসব ব্যবহার করে অনেকে যেমন উপকৃত হয় তেমনি ভাবে অনেকে নীতি নৈতিকতা বিসর্জন দেয়।বর্তমানে ইন্টারনেটের সবচেয়ে জনপ্রিয় সাইট হচ্ছে ফেইসবুক।সবার সাথে সহজে যোগাযোগের মাধ্যম এটা।ফেইসবুককে অনেকে অনেক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে।কেউ ফেইসবুকে দায়ী ইল্লাল্লাহর ভুমিকা পালন করে।আবার অনেকে ফেইক আইডি খোলে অশ্লীল ছবি আপলোড,নোংরা ভাষায় স্ট্যাটাস, ভূয়া সংবাদ প্রচার এবং অশালীন মন্তব্য করে অন্যকে বিব্রত করে।শান্তির ধর্ম ইসলাম এটা সমর্থন করে না।প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য সকল ধরনের অশ্লীলতা ইসলামে হারাম।আল্লাহ বলেন,প্রকাশ্যে হোক কিংবা গোপনে হোক,তোমরা অশ্লীল কাজের ধারে-কাছেও যাবে না। (সূরা আল আন’আম ১৫১)

আর জেনে, না জেনে অন্যকে দোষারোপ,অন্যের নিন্দা ও অপপ্রচার চালানো ফেইসবুকে অতি প্রচলিত একটি বিষয়।কিন্তু ইসলাম ধর্মে পরনিন্দা বা কুৎসা রটানো হারাম।এটা ঘৃণিত কাজ যে এটাকে পবিত্র কুরআনে মৃত ভাইয়ের গোশত খাওয়ার সাথে তুলনা করা হয়েছে।(সূরা আল হুজরাত -১২)।

তাছাড়া এটা কোন মুমিনের চরিত্র হতে পারে না।মুমিনের চরিত্র কেমন হবে এ ব্যাপারে রাসূল (স.)বলেন, মু’মিন কখনো দোষারোপকারী, নিন্দাকারী ও অভিস্পাতকারী হতে পারে না, নিজে অশ্লীল কাজ করে না এবং কটুভাষীও হয় না।(জামে’ আত-তিরমিজি)

বর্তমানে নিরাপত্তার জন্য অনেক স্থানে সিসি টিভি/গোপন ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়।কিন্ত অনেকে আবার এই প্রযুক্তির অপব্যবহার করে।মেয়েদের বাথরুমে, ট্রায়াল রুমে গোপন ক্যামেরা বসায় এবং ইউটিউবে এসব, দৃশ্য ছেড়ে দেয়।যা পরবর্তীতে আক্রান্ত মেয়ের আত্মহত্যার কারণ হয়ে দাড়ায়।যারা এমন ঘৃণিত অপকর্মে লিপ্ত, তাদের উচিত আল্লাহকে ভয় করা।এবং এমন দৃশ্য ধারণ করা থেকে বিরত থাকা।আল্লাহ বলেন,আর তোমারা প্রকাশ্য এবং গোপন পাপ বর্জন কর; নিশ্চয় যারা পাপ অর্জন করে অচিরেই তাদেরকে তারা যা অর্জন করে তার প্রতিফলন দেয়া হবে।(সূরা আল আন’আম ১২০)

বিজ্ঞানের কল্যাণে দুনিয়া এখন হাতের মুঠোই।সকল কাজই অতি সহজ।বর্তমান যুগে কেউ ইচ্ছা করলে ইন্টারনেটের মাধ্যমে কুরআন হাদিসের আলোচনা দেখতে ও শুনতে পারবে তেমনি ইচ্ছা করলে অশ্লীল মুভি বা দৃশ্য অবলোকন করতে পারবে।তাদের কর্মকাণ্ড দুনিয়ার কেউ না দেখলেও তারা আল্লাহ তায়ালার দৃষ্টি এড়াতে পারবে না।যারা হৃদয়ে আল্লাহ ভয় (তাকওয়া) লালন করে এবং পরকালের চিন্তা করে তারা এমন অশ্লীল কাজ করতে পারে না। সর্বদা এমন ঘৃণিত কাজ থেকে বিরত থাকে।এ বিষয়ে সতর্ক করে আল্লাহ বলেন, হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর।আর প্ৰত্যেকের উচিত চিন্তা করে দেখা আগামী কাল আল্লাহর নিকট সে কি পেশ করতে যাচ্ছে।আল্লাহকে ভয় কর।আর তোমরা যা কর নিশ্চয় আল্লাহ সে সম্পর্কে সবিশেষ অবহিত।

(সূরা আল হাশর -১৮)। আর যারা অন্তরে আল্লাহর ভয় বা তাকওয়া লালন করে তারাই আল্লাহর নিকট সর্বাধিক মর্যাদাসম্পন্ন।(সূরা আল হুজরাত -১৩) সুতরাং আমাদের উচিত আল্লাহ কে ভয় করা এবং এমন ঘৃণিত অপকর্ম থেকে বিরত থাকা।

মো:রুহুল আমিন খান

শিক্ষার্থী, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়,ঢাকা।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
দয়া করে আপনার নাম লিখুন