জামায়াত নিয়ে বিএনপিতে মতভেদ

বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক দল জামায়াতে ইসলামীকে জোটে রাখা না রাখা নিয়ে মতভেদ রয়েছে বিএনপির নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটিতে। কমিটির একটি অংশের মত হচ্ছে, এই মুহূর্তে জামায়াতকে ছেড়ে দিলে বিএনপির লাভ-ক্ষতি কী তা আগে খতিয়ে দেখা।

অন্য অংশের মতে, আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগের প্রস্তাব না দিয়ে ২০ দলীয় জোট ভেঙে দিলেই হয়ে যাবে। কেননা স্বাধীনতাবিরোধী দলটির সঙ্গে জোট হয়েছিল নির্বাচন ও ভোটের হিসাবে। গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে গত বুধবার রাতে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এই ভিন্নমত দেখা দিলেও এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে জামায়াতের সঙ্গ ছাড়ার বিষয়ে আরো কিছু দিন কৌশলী অবস্থানে থাকবে বিএনপি। দলের স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্যের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

বৈঠকে উপস্থিত একাধিক নেতা জানান, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকেই বিএনপি ও জামায়াতের সম্পর্ক নিয়ে রাজনৈতিক নানা কথা হচ্ছে। এই ইস্যুতে ফায়দা নিচ্ছে ক্ষমতাসীন জোট সংসদের বাইরে থাকা কিছু দলও। দেশি-বিদেশি নানা মহলের চাপও আছে বিএনপির ওপর। আর বিএনপি সমর্থক বুদ্ধিজীবীরাও পরামর্শ দিচ্ছেন জামায়াতকে ছেড়ে দিতে। এমন পরিস্থিতিতে বিষয়টি স্থায়ী কমিটির বৈঠকের এজেন্ডায় না থাকার পরও আলোচনায় আসে।

ওই নেতারা আরো জানান, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্বিবেচনা, ডাকসুর নির্বাচনে ছাত্রদলের ভরাডুবিসহ নানা বিষয়ে আলোচনার একপর্যায়ে অপেক্ষাকৃত জুনিয়র এক নেতা বলেন, জামায়াতকে ছাড়তে হবে। বিদেশিদের কাছে তাদের ব্যাপারে নানা
কথা শুনতে হয়। তাদের ছেড়ে দেওয়াই মঙ্গল। ওই সময় কমিটির এক সিনিয়র সদস্য বলেন, ডাকসু নির্বাচনে শিবির ছাত্রদলের বিরোধিতা করেছে। জামায়াতের নতুন প্রজন্ম ডাকসুতে ছাত্রদলকে ভোট দেয়নি। এর জবাবে ডানপন্থী হিসেবে পরিচিত এক নেতা বলেন, ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে জোট হওয়ায় ভোট কমেছে। কারণ জয়বাংলা স্লোগানধারীদের সঙ্গে জোট হওয়ায় বিএনপি সমর্থকরা ক্ষুব্ধ।

বিএনপিপন্থী হিসেবে পরিচিত গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, জামায়াতের কারণে বিএনপির অনেক ক্ষতি হচ্ছে। বিএনপির উচিত হবে এই মুহূর্তে জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগ করা।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
দয়া করে আপনার নাম লিখুন