আজ ইরানের সেই ঐতিহ্যবাহী নওরোজ

নওরোজ নতুন বছরের প্রথম দিন। প্রতি বছর ২১ মার্চ নতুন ফার্সি বছর শুরু হয়। দিনটি শিয়ারা উৎযাপন করে। তবে সুন্নি মুসলিমরা এই উৎসব উদযাপন করে না।
জ্যোতিশাস্ত্র মতে সূর্য এ দিনে মেষ রাশির ওপর এসে সৌরবর্ষ বা শামসী সালের উম্মেষ ঘটায়।
নওরোজের প্রবর্তন করেছিলেন প্রাচীন পারস্যের প্রভাবশালী সম্রাট জামশিদ, খ্রিস্ট পূর্ব ৮০০ সালে। তিনি জ্যোতির্বিদ্যায় প্রাজ্ঞ ছিলেন। এটি ইরানের ঐতিহ্যবাহী জাতীয় উৎসব।
ইরান থেকে এ উৎসব মধ্য প্রাচ্যের বিভিন্ন মুসলিম দেশ এবং ভারত উপমহাদেশে প্রচলিত হয়। ভারতীয় উপমহাদেশে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা হলে ফারসিকে রাষ্ট্রভাষা করা হয়। তবে নওরোজ উদযাপনের প্রচলন প্রাক মুঘল যুগে ছিল না। মুঘল সম্রাট হুমায়ুন পারস্যের সহায়তায় ১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দে পিতার হূত সাম্রাজ্য পুনরুদ্ধার করার পর থেকে উপমহাদেশে তখন হতে ইরানি শিয়াগণের ব্যাপকভাবে আগমন ঘটে। ফলে ইরানি সংস্কৃতি রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক জীবনে বৃদ্ধি পেতে থাকে। ওই সময় থেকে ভারতে উদযাপন হতে থাকে নওরোজ উৎসব।


সম্রাট আকবর হতে আওরঙ্গজেবের সময় পর্যন্ত (১৫৫৬-১৭০৭) এটা অন্যতম প্রধান রাষ্ট্রীয় উৎসবে পরিণত হয়। এই দিনে আগ্রা ও দিল্লিতে জাঁকজমকপূর্ণভাবে রাষ্ট্রীয় ভোজসভা অনুষ্ঠিত হত। হেরেমবাসি নারীরা তাতে শখের মীনাবাজার বা আনন্দ মেলার আয়োজন করতেন।
মুঘল সংস্কৃতির স্মৃতি হলো নওরোজ। সাবেক মুঘল সাম্রাজ্যভুক্ত বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও ভারতের শিয়া সম্প্রদায়ের মধ্যে নওরোজের প্রচলন রয়েছে। বাংলাদেশে ঢাকা, খুলনা, রাজশাহী, চট্টগ্রামে বসবাসরত শিয়াদের মাঝে নওরোজ অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকা শহরে নবাব পরিবারে জাঁকজমকপূর্ণভাবে এবং নবাব বাড়ির পুকুরে হাজারো মোম বাতি ভাসিয়ে নওরোজ উৎসব পালিত হতো।
এদিকে নতুন ফার্সি বছরকে ‘উৎপাদন বৃদ্ধির বছর’ হিসেবে নামকরণ করেন সর্বোচ্চ নেতা
আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনি। এ উপলক্ষে তিনি বাণী দিয়েছেন।

নওরোজ উৎসবের একটি ভিডিও দেখুন :

নববর্ষের বাণীতে তিনি নতুন ফার্সি বছরকে ‘উৎপাদন বৃদ্ধি’র বছর হিসেবে ঘোষণা করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি জাতীয় উৎপাদন আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
দয়া করে আপনার নাম লিখুন